রোকেস লেইস
জামাই বাবাজি অফিসে চলে গেলেন, আমরাও চটজলদি সকলেই প্রস্তুত। ঠিক হলো আজ শহরের কাছাকাছি স্থানগুলো দেখা হবে। পম্পা মুঠোফোনে টেক্সি ডাকলো, বেরিয়ে পরলাম। প্রথমেই শিলং পিক, মূল শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৯৬৬ মিটার উচ্চতায়। শিলং পিক মেঘালয় এর সর্বোচ্চ স্থান। ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা। তবে, দর্শনার্থীদের জন্য ছোট্ট কিছু নিয়ম পালন সাপেক্ষে উন্মুক্ত। ড্রাইভার শামছুল পিক-এ যাবো শুনে পম্পাকে কিছু একটা বলায় পম্পা আবারো বাসায় গিয়ে কি যেনো নিয়ে এলো। শামছুল বেশ সহজ সরল আর সব কথাতেই ফোড়ন কেটে সবজান্তা প্রমাণে ব্যস্ত। অল্প বয়স, পম্পার খুবই অনুগত। কাছাকাছি পৌঁছাতেই মুষল ধারায় বৃষ্টি। গেট পেরিয়ে যেতে হয়। সেখান থেকে পাস না নিয়ে ভিতরে ঢুকা যাবে না। শামছুল নেমে গেলো, বেশ উৎফুল্ল ভাবে ফিরে এসে গাড়ি ছাড়লো। ভাবটা এমন, সে যেনো বিশ্ব জয় করে ফিরলো। খুবই আবেগে গদগদ হয়ে বর্ণনা করছে, পম্পার ধমকে থামলো। ব্যাপারটা হলো বাসা থেকে বেরুনোর সময় পম্পাকে সে আইডি কার্ড আনতে বলেছিলো, পম্পা সেটা এনেছেও। সামছুল নিয়মিত লোক নিয়ে আসে বিধায় বিষয়টি তার জানা। তাই, সে আইডি জমা না দিয়ে তার লাইসেন্স জমা দিয়ে গেট পাস নিয়ে আসতে পেরেছে, সেটাই তার আনন্দের কারণ। এখানে ঢুকতে হলে বিদেশীদের পাসপোর্ট, স্থানীয়দের আইডি আর গাড়িতে গেলে ড্রাইভারের লাইসেন্স জমা দিয়ে পাস নেয়া যায়। তবে, শেষেরটার ভরসা না করাই শ্রেয়। সর্বাবস্থায়, বিদেশীদের পাসপোর্ট সাথে থাকা উচিত এবং ভিসার অংশ সমেত পাসপোর্ট এর অন্তত এক ফর্দ ফটোকপি। ভিতরে ঢুকলাম বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই, অনেকক্ষণ গাড়িতে বসে থাকতে হলো। আকাশের অবস্থা দেখে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দাজিলিং-এ কেনা ছাতাটা সাথে নেয়া হয়। বৃষ্টি একটু হালকা হতেই এক ছাতাতে তিন জন অনেকটা দৌঁড়ে গিয়ে ওয়াচ টাওয়ারে উঠলাম। বৃষ্টি থাকায় প্রাকৃতিক রূপ দর্শন আর হলো না। আগের বার অক্টোবর মাসের নাতিশীতোষ্ণ সুন্দর আবহাওয়ায় খুবই মনোরম আর চিত্তাকর্ষক দৃশ্য উপভোগ করেছিলাম। এবার বৃষ্টি সবই ঢেকে দিয়েছে, আগের বার দেখা চারপাশের প্রাকৃতিক অবস্থা মেয়েকে যতটা সম্ভব বর্ণনা করার চেষ্টা করলাম। তাকে বোঝানো সহজ হলো দার্জিলিং-এ কার্ট-এ বসে নীচের দৃশ্য যেমন দেখা যায় অনেকটা সেরকম। তবে, দার্জিলিং এর বিশেষত্ব হচ্ছে চা বাগান। আর শিলং-এ পাইন আর ওক বাগান, অনেক ক্ষেত্রে সাযুজ্য থাকলেও ভিন্নতা সুস্পষ্ট, শুধু সবুজতায় সমানে সমান। রোদময় মেঘমুক্ত দিনে শিলং ভেলী, কাছের দূরের বসতি, গ্রাম, ছোট ছোট পাহাড়, লেক, পাইন ও ওক বাগানের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য চোখ, মন ভরিয়ে দেয়। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও বৃষ্টি থামছেই না, একটু হালকা হতেই আবারো দৌঁড়ে গাড়িতে উঠলাম। ফিরার পথে হঠাৎ, বৃষ্টি এক্কেবারে উধাও। অনেকটা পথ চলে এসেছি তাই আর ফিরার চেষ্টা না করে এবার চলেছি এলিফেন্ট ফলস। জিরো পয়েন্ট থেকে ১২ কিলো মিটার দূরবর্তী। ওখানে পৌছলাম, টিকিট নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতেই জলপ্রপাতের একটানা অদ্ভূত শব্দ, ভীতি আর রোমাঞ্চ এর আবেশ নিয়ে এলো। প্রচন্ড পানির তোড়, ভয়ঙ্কর সুন্দর বুঝি, একেই বলে। অক্টোবর মাসে দেখা ফলস আর জুন মাসে ভরা বর্ষার ফলস, তফাৎটা স্পষ্ট হলো। অক্টোবরে যখন দেখেছিলাম ক্যামন যেনো, আজকের দূরন্ত ছুটে চলা ছিলো না। বোঝা গেলো জলপ্রপাত উপভোগ করতে হলে ভরা বর্ষাই যথার্থ সময়। মেয়েতো বিস্ময় নিয়ে ছবির পর ছবি তুলছে। হ্যাঁ, ক্যামেরা বা ক্যামেরা ফোন সাথে থাকলে আলাদা টিকেট নিতে হয়। পানি নামছে দুটি থাক/স্তর বা ধাপ হয়ে। ফলস এর উপর বেশ বড় ব্রীজ আছে মাঝ বরাবর। যেখানে দাঁড়িয়ে উপর নীচ দু’দিকের দৃশ্য ভালোভাবে অবলোকন করা যায়। ব্রীজ পার হয়ে বিপরীত অংশে সিড়ি বেয়ে অনেকটাই নীচে নামা যায়। আমরাও নামলাম যথেষ্টই নীচে, সেখান থেকে আবার অন্য অংশে গেলে বেশ উঁচু টিলা মতো স্থানে চা, কফি, স্ন্যাক্স এর ব্যবস্থা আছে। নীচে থেকে দেখার মজাই আলাদা, তবে যারা হার্টের রোগী, যাদের হাটু বা পায়ের সমস্যা আছে তাদের নীচে নামতে ভেবে চিন্তে নামাই উচিত। কারণ উঠাটা কষ্টকর হয়ে যেতে পারে। বেশ নীচে আরো একটি ব্রীজ ওখানে দাঁড়িয়ে উপরের দিকে পুরো ফলস এর দৃশ্যটা সত্যি উপভোগ্য। অনেকক্ষণ দেখার পর মেয়ের তৃপ্তি মিটেছে জেনে উপরে উঠলাম। ভিজা স্যাঁতসেঁতে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠার সময় যথেষ্টই সতর্ক থাকতে হয় । পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। উপরে অনেক ছোট ছোট দোকান বিভিন্ন পসরা নিয়ে বসেছে। পুরো এলাকা জুড়ে প্রচুর দর্শনার্থী আসছে বেরিয়ে যাচ্ছে। কত রঙ, কত রূপ, কত ভাষাভাষী, সবাই যার যার মতো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। উপরে এসে, কফি আর হালকা নাস্তা সেরে রওয়ানা হলাম গলফ কোর্স এর উদ্দেশ্যে, যা লাবান এলাকায়। জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার। শিলং গলফ কোর্স এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক মাঠ। এখানে সবুজ ঘন ঘাস গালিচা হয়ে ছড়িয়ে আছে, অসাধারণ মায়াময় কোমলতার মুগ্ধতা যেনো। ১৮৯৮ সনে বৃটিশ সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের উদ্যোগে এর পত্তন। পরবর্তীতে ১৯২৪ সন থেকে এ’টি অন্যতম গলফ কোর্স হিসাবে এশিয়া তথা বিশ্ব গলফ অঙ্গনে স্বীকৃত, সমাদৃত হয়ে আসছে। এ’র বর্তমান পর্যায়ের গোড়া পত্তন হয় ক্যাপ্টেন জ্যাকসন ও সি, কে রোদস এর প্রচেষ্টায়। সবুজ মাঠে পাইন আর রডরেন্ড্রন এর সারি সারি ছায়া বৃক্ষ, মাঠকে করেছে ছায়া সুনিবিড়। গলফ কোর্স থেকে চলে আসি ওয়ার্ডস লেক যা শহরের এক্কেবারে কেন্দ্রে। জিরো পয়েন্টের খুবই কাছে কৃত্রিম লেক, বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে। রাজ ভবন/গভর্ণর হাউস এর নীচ সংলগ্ন। এতে নৌকা ভ্রমণের সুব্যবস্থা আছে, লেকের পাড় ধরে আছে ওয়াক ওয়ে, যার পাশ জুড়ে রয়েছে রকমারি ফুলের বাগান। লেকের ভিতরেই আছে সুদৃশ্য আধুনিক মানসম্পন্ন ক্যাফেটেরিয়া। পাড় জুড়ে দেবদারু, পাইন, রডরেন্ড্রন, চেনা অচেনা বহু বৃহৎ বৃক্ষ। ওয়ার্ডস লেক সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকে, আর ঘটনাচক্রে আমরা সেই বন্ধের সম্মুখীন। ভিতরে ঢুকতে না পেরে মেয়ে আশাহত। এর খুবই কাছে হোটেল ‘পাইন উড’ । শিলং এর সবচেয়ে প্রাচীনতম হোটেল, সেখানে চলে গেলাম। বছর তিন আগে দিন কয়েক ওই হোটেলে ছিলাম। হোটেলে রিনোভেশন এর কাজ চলছে।
১৮৭৩ সনে সুইস দম্পতি এই হোটেলটি তৈরী করেন। রেড পাইন আর ওক গাছের সিজনড কাঠের তৈরী মূল অংশটি আজঅব্দি অপরিবর্তিত, ছোটখাটো প্রয়োজনীয় মেরামত ভিন্ন। এতে, একশত মানুষের স্থান সংকুলান হওয়ার উপযোগী বলরুম রয়েছে, যার পাটাতন কাঠের। প্রায় আট একর জমি হোটেলটির, মূল অংশটি অনেকটা উঁচু টিলার উপর আর বাকিটা ঢাল ধরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। বেশ বড় এলাকা নিয়ে আধুনিক মানসম্পন্ন বর্ধিতাংশ প্রস্তুত প্রায়। লাঞ্চ-এ যাবো, মেয়ে জানিয়ে দিলো অবশ্যই আইআইএম/ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব মেনেজমেন্ট দেখতে যেতে হবে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে তাই লাঞ্চ না করেই চলে গেলাম। গেটে গিয়ে ভিতরে ঢোকার অনুমতি নিতে হলো। স্টুডেন্ট ছাড়া অন্যদের ভিতরে ঢুকতে কড়াকড়ি আছে। সাধারণ দর্শনার্থীদের এমনিতেই অনুমতি নাই। তবে, গেটে থাকা সিকিউরিটির লোকজনের সাথে আলাপের পর উনারা ফোনে উর্ধতন কারো সাথে কথা বলে, শুধুমাত্র ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার অনুমতি পাইয়ে দিলেন। বিরাট ক্যাম্পাস দুইশত স্কয়ার মিটার, আমরা মূল ভবন পর্যন্ত গেলাম। এখানেই বক্তৃতারত অবস্থায় ভারতের এগারোতম প্রেসিডেন্ট এপিজে আব্দুল কালাম গত বৎসরের ২৭’শে জুলাই দেহ ত্যাগ করেন। এতো বিরাট এলাকা খিদা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো কষ্টকর, তাও সমতল নয় চড়াই উৎড়াই। ওখান থেকে পুলিশ বাজার এসে খাওয়া সারলাম। একটু রেস্ট নিয়ে কফি খেয়ে বেরুতে বেরুতে প্রায় সন্ধ্যা। পম্পা’র মিটিং আছে, তাকে ছাড়তে গেলাম ‘জিৎভূমি’ এর কাছাকাছি। কথা ছিলো মিটিং শেষ হলে এক সাথে বাকী ঘুরাঘুরি সেরে ফিরবো। কিন্তু অল্প সময় মধ্যেই সে মুঠোফোনে জানালো দেরী হবে, আমরা যেনো বাসায় চলে যাই। এটা রিলবং এলাকা, দ্বিতীয় বার অর্থাৎ ১৯২৩ সনে শিলং এসে ব্যক্তি মালিকানাধীন এই বাড়ি ‘জিৎভূমি’তেই অতিথি হয়ে ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বেশ ক’মাস ছিলেন, রচনা করেছেন ‘রক্তকরবী’ নাটক, ‘শিলংয়ের চিঠি’ পদ্য, যে পদ্যটি দু’জন তরুনীর ফরমায়েশ-এ রচিত, এ ছাড়াও অনেক অনুবাদ সাহিত্য। তো, ‘জিৎভূমি’ দেখতে গেলাম। বাইরে থেকেই দেখতে হলো ভিতরে যাওয়া যাবে না, যারা বসবাস করেন তাদের অনুমতি না থাকায়। ওখান থেকে চলে গেলাম, প্রথম ১৯১৯ সনে শিলং এসে কবিগুরু কে,সি,দে’র যে বাংলোতে সপ্তাহ তিনেক ছিলেন, রিলবং এলাকার ‘ব্রুকসাইড’ বাংলো। যা বর্তমানে ‘রবীন্দ্র আর্ট গ্যালারী’। রবীন্দ্রনাথের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপিত আছে মূল বাংলোর সামনে। দর্শনার্থীদের জন্য বিকাল চারটা পর্যন্ত খোলা থাকে। বন্ধ হয়ে গেছে তাই বাইরে থেকেই ঘুরে আসতে হলো। প্রথমবার শিলং গিয়েও এ বাড়িটি দেখা হয়নি, আজও হলো না। একই সীমানায় ‘মেঘালয় বিধান সভা ভবন’ থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নাতীত। ১৯২৭ সনে তৃতীয়বার শিলং এসে রবিঠাকুর উঠে ছিলেন লাইটুমখ্রার আপল্যান্ড-এ ‘সলোমন ভিলা’ পরে নাম হয় ‘সিধলি প্যালেস’ যা ব্যক্তি মালিকানাধীন ছিলো এবং ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। একটি ধারণা প্রচলিত আছে, রবীন্দ্রনাথ ‘শেষের কবিতা’ ব্রুকসাইড বাংলোতে বসে রচনা করে ছিলেন, যা সঠিক নয়। কবিগুরু তৃতীয় দফা শিলং আসেন ১৯২৭ সনে। ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের রচনাকাল ১৯২৭-২৮ এবং প্রকাশ কাল ১৯২৯ সন। এটা ঠিক শেষের কবিতা উপন্যাসের অনেকগুলো অধ্যায় জুড়ে ব্রুকসাইড এর এ বাড়িটির উল্লেখ আছে। আর সে কারণেই শেষের কবিতা’র সাথে এর নাম বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে। দেখতে না পারায় আমাদের যেমন মন খারাপ, দেখাতে না পারায় সামছুলও বেশ মনক্ষুন্ন। ওখান থেকে সোজা বাসায় চলে আসলাম। সামছুলকে আগামীকাল সকাল দশটার মধ্যে আসতে বলে বিদায় দেয়া হলো। আমরা ফেরার অল্প সময় মধ্যেই পম্পা ফিরলো, জামাই বাবাজিও চলে এসেছেন। পম্পা যেনো ভূত দেখছে এমনি ভাব নিয়ে তাকাচ্ছে, জানা গেলো সচরাচর বাবাজির এসময়ে ফিরা হয় না। আসলে আমাদের সময় দিতেই জলদি ফেরা। ঘরে ঢুকতেই জমে উঠলো, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, গান, কবিতা, খেলাধুলা, ব্যক্তি, সমাজ নিয়ে আলোচনা আড্ডা, আজও রাত দু’টো অবধি। সকালে উঠে যথারীতি তৈরী হতেই সামছুল এসে উপস্থিত। পম্পার কাজ থাকায় সে যেতে পারছে না। তাই, আমরা বাপ বেটি বেরিয়ে পরি। ঠিক হলো প্রথমে যাবো বারাপানি লেক। ডলার ভাঙ্গাতে হবে, প্রচলিত ধারণা মানি এক্সচেন্জ এজেন্সিতে সহজ ও ঝামেলা কম, সেমতে গেলাম। কিন্তু ওদের কিছু একটা সমস্যা থাকায় অপেক্ষা করতে বললো। অপেক্ষা না করে ওয়াকিং ডিসটেন্স-এ স্টেট ব্যাঙ্ক-এ চলে গেলাম। ওখানে গিয়ে সবমিলে যেটুক সময় লাগলো, তা খুব বেশী ছিলো বলা যাবে না। হাতে পেয়ে গেলাম ঝকঝকে নোট, সাথে জাল নয় এ নিশ্চয়তাটুকুও। বিদেশে এই সতর্কতা ও নিশ্চয়তা অত্যন্ত জরুরী।