- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ভয়ে কাঁচা ধান কাটছেন কৃষকরা

জগন্নাথপুর অফিস
পাশের হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে, এই ভয়ে কাঁচা আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছে কৃষকরা। রবিবার বেলা ১টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার মইয়ার হাওরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সরজমিন হাওর পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ওই হাওরে আক্তার হোসেন নামে এক কৃষক তার ক্ষেতের কাঁচা আধা পাকা ফসল কাটছেন।
দরিদ্র এ কৃষক জানান, গতকাল শনিবার পাশের নলুয়া হাওরের ফসল বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে। ওই হাওরে আমি ৬ কেদারা জমিতে আবাদ করি এ বছর। বাঁধের পানিতে সব ফসল পানিতে ডুবে গেছে।        এই হাওরে (মইয়ার হাওর) এবার ৫ কেদারা জমিতে বর্গাচাষ করেছি। হাওরের বাঁধও ঝুঁকির মুখে রয়েছে, যে কোন সময় ফসল তলিয়ে যেতে পারে। এই ভয়ে আধা পাকা ধান কাটছি। এ থেকে যদি কিছু ধান পাওয়া যায়।
আরেক কৃষক নিজাম উদ্দিন জানান, নলুয়ার হাওরে পানি প্রবেশ করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে মইয়ার হাওরের ফসল। হাওরের ধান এখনো পাকে নি। আরো ৭/৮ দিন লাগবে পাকতে। চারিদিকে পানি বাড়ছে। এর মধ্যে হাওরের বাঁধগুলো রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। ভয় করে কখন কী হয়। এ জন্য কাঁচা আধা পাকা ফসল কাটছি সামান্য কিছু ধান যদি মিলে। এছাড়া গবাদিপশুর খাদ্য সংগ্রহ হবে।  
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ বছর মইয়ার হাওরে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসলের চাষাবাদ করা হয়েছে। এখনো মাঠের ফসল সম্পূর্ণ পাকেনি। এর মধ্যে গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টির পানিতে মইয়ার হাওরের প্রায় ১০০ একর ফসল তলিয়ে গেছে। এই হাওরের নিকটবর্তী নলুয়া হাওরের ফসল ইতিমধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। তাই খুবই চিন্তায় রয়েছেন মইয়ার হাওরের ফসল নিয়ে।  
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, মইয়ার হাওরে বাঁধগুলো এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ওই সব বাঁধে সংস্কার কাজ চলছে। এই হাওরের ফসল রক্ষায় আমাদের প্রাণপণ প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

  • [১]