আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাজার মঙ্গলকাটা। এই বাজারের কর্ণার দিয়ে প্রবেশ পথ ও বাম দিকে চৌমুহনী বাজারে যাতায়াত সড়কের শুরু। এই সড়কের উন্নয়নে একাধিকবার বরাদ্দ আসলেও অপরিকল্পিত কাজ বাস্তবায়নের ফলে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আসছে। সড়কের উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে জানান একাধিক ব্যক্তি। তাই বাজার এলাকার সড়কের সঠিক ও যথাযথ উন্নয়নের দাবি স্থানীয়দের।
গত কয়েক মাস আগে উন্নয়ন কাজ হয়েছিল বাজারে প্রবেশ পথের মেইন সড়কে। কিন্তু নির্মাণেই ছিল পাকা ঢালাইয়ে সড়ক উঁচু নিচু। বাম দিকেও নির্মাণ হয়েছিল অল্প পরিমাণে সংকীর্ণ সড়ক। এই সড়ক নির্মাণে বাজারের গলির পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। বাজারের প্রথম গলিতে দৃশ্যমান কাদা জমে থাকে। পানি আটকে কাদার সৃষ্টি হয়ে থাকে পুরাতন মেইন সড়কের উপর। যানবাহন ও মানুষ চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। বৃষ্টি হলেই বাজার মসজিদের পাশের সড়কে, সেতুর অ্যাপ্রোচে চলাচল সড়কেও কাদার সৃষ্টি হয়ে থাকে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বাজারের মোড়ে যখন সড়কের কাজ চলছিল, তখন পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। ঠিকাদার দায়সারা ভাবে কাজ করে চলে যায়। কাজের কোনো পরিকল্পনা নেই। বৃষ্টির পানিতে কাদা জমে থাকে সড়কের উপর। ময়লা আবর্জনায় ভরপুর থাকে সব সময়। কাদা থেকে সৃষ্ট এই নোংরা পরিবেশের কারণে বাজারে আসা মানুষের এবং যানবাহনে চলাচলকারীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
রবিবারে বাজারে আসা ক্রেতা সজল দাস, একে আজাদ মিয়া, ফুল মিয়া, কায়সার আলম, সুরত আলী ও আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রতি সপ্তাহে দুই বার বাজারে আসি। কিন্তু বাজারের ও সড়কের কোনো উন্নয়ন দেখি না। উন্নয়ন কাজ শুরু হলে বুঝা যায় পুরো এলাকায় চলবে উন্নয়ন। পরে বাজার বারে এসে দেখি মানুষ ও যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে মাত্র ১০ ফুট বা ১২ ফুট সড়কে ঢালাইয়ের কাজ হয়েছে। এই এলাকায় যত দিকে সড়কের কাজ হয়েছে, সব কাজেই অনিয়ম হয়েছে। মেরামত করা প্রায় সকল সড়ক অল্প দিনেই ভেঙে পড়ছে। এই জন্য বাজারেও নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজ শিক্ষার্থী শাহজাহান মিয়া বলেন, বৃষ্টির শেষে মঙ্গলকাটা বাজারে চামড়ার জুতা পরে সড়ক বা গলি দিয়ে হাঁটা যায় না। খালি পায়ে বা প্লাস্টিকের জুতা পরে প্যান্ট গুটিয়ে হাটুতে তুলে হাঁটতে হয়। বাজারের এই দশায় মানুষের ভোগান্তির অবসান করা উচিৎ।
জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মকসুদ আলী বলেন, বাজারের প্রবেশ পথের সামান্য সড়কে পাকা ঢালাইয়ের কাজ হয়েছে। ওই সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এই কারণে বাজার সড়কের একাধিক স্থানে বৃষ্টি হলেই পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। মানুষের ভোগান্তি নিরসনে ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি সড়কের কাজ করেছি। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে বাজার পরিচালনা কমিটি। তাদের মধ্যে একতা থাকলে বাজারের এমন কাদার সৃষ্টি হতো না। আগামীতে বরাদ্দ আসলে অন্যান্য কাজ করা হবে।