কামরান আহমদ
অর্কের জন্য ভালবাসা থেকেই আয়োজন। আগে থেকে পরিকল্পনা ছিল। প্রসেনিয়াম-অর্কের চিকিৎসা তহবিলে সাধ্যমত সহায়তা তুলে দেবে। এজন্য স্বজন, শুভানুধ্যায়ি, সুধীজনদের কাছ থেকে সহায়তা তুলবে প্রসেনিয়াম। সহায়তা তোলার জন্য ২ দিন ব্যাপি নানা অনুষ্ঠানমালারও আয়োজন করবে। কিন্তু এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের মেধাবী মুখ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের লিম্ফোমায় আক্রান্ত সেন্টু রঞ্জন দাস অর্কের চিকিৎসার ৩৫ লাখ টাকাই সংগ্রহ হয়েছে। প্রসেনিয়াম তাদের তহবিল সংগ্রহের কাজ স্থগিত রাখে। তবে ’মানবতার এই জয়ের’ কথা জানানোর জন্য ২ দিন ব্যাপি অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নেয়।
প্রথম দিন জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় আয়োজন করে নাটক ‘ধান্দাবাজি’। ধান্দাবাজি নাটকের মূল চরিত্রের ধান্দাবাজ পিতৃ-মাতৃহীন। সে নানা ছলনায় বিশেষ করে ধান্দাবাজ প্রকৃতির মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে অর্কের মতো অসহায়দের হাতে তুলে দেয়। নাটকের শেষ কথা ছিল-‘অর্কের চিকিৎসার টাকা সংগ্রহ’র মাধ্যমে মানবতার জয় হয়েছে এবং মনে করতে হবে মানবতাবাদী মানুষই আমাদের মধ্যে বেশি। আমরা যারা অর্ক’র চিকিৎসা তহবিলে দিতে পারিনি তারা প্রস্তুত থাকতে হবে অন্য মানবিক উদ্যোগে শরিক হবার জন্য।
নাট্য সংগঠন প্রসেনিয়ামের ১৪ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে মাসব্যাপি নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল এই দুই দিনের মানবিক আয়োজন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নাটক ‘ধান্দাবাজি’ শুরু হবার আগে এবং পরে বক্তব্য দেন- জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামসুল আবেদীন, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক পঙ্কজ কান্তি দে, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মতিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ অনীশ তালুকদার বাপ্পু।
পৌরসভার মুক্তমঞ্চের সামনে বিপূল সংখ্যক মানুষ নাটকটি উপভোগ করেন। ধান্দাবাজি নাটকে অভিনয় করেন সাদেকুর রহমান সানী, আবিদ খান হৃদয়, জুবাইর খান, সুমন রায়, নন্দিনী দাশ তিথি, আরিফ, রকি, আনোয়ার, ইমন, তানভীর, লিখন, আদনান, ফয়সাল, নাছির, সাব্বির, মামুন, তন্দ্রা, শপথ, রুবাইয়া, পাখি, আলাউর, সুমন প্রমুখ।
নাটক শেষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার ও সনদপত্র প্রদান করেন অতিথিরা।