স্টাফ রিপোর্টার
পুজোর বাকি আর মাত্র তিনদিন। মঙ্গলবার থেকে ঢাক, ঢোল, কাঁসর ঘণ্টা, শাঁখ আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপ এবং মন্দির প্রাঙ্গণ। বছর ঘুরে মায়ের আগমনী বার্তায় উৎসবের আমেজ এখন সর্বত্র। দেবীকে বরণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। পৌর শহরের পূর্ব নতুনপাড়া, পশ্চিম নতুনপাড়া, কালীবাড়ী, রায়পাড়া, মোক্তারপাড়া, জগন্নাথবাড়ী, দুর্গাবাড়ী সহ বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে এরই মধ্যে দুর্গোৎসবের প্রস্তুুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি মণ্ডপের প্রতিমা শিল্পীরাই প্রতিমা তৈরী প্রায় শেষ করেছেন। কোন কোন ম-পে এখন তুলির আঁচড়ে প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজে ভীষণ ব্যস্ত রয়েছেন তারা। আরেকটু নিপুণ করে মাকে সাজাতে উৎসাহেরও কমতি নেই তাদের মধ্যে।
শহরের বড় মণ্ডপগুলোর অন্যতম পূর্ব নতুনপাড়া সার্বজনীন পূজা ম-পে বেশ জাঁকজমকভাবেই চলছে সাজসজ্জার কাজ। শুরু হয়েছে চোখ ধাঁধানো পূজামণ্ডপের মঞ্চ তৈরি ও নানা পরিকল্পনার কাজ। পরিচ্ছন্নতার কাজও চলছে সমান তালে।
এদিকে শহরের অন্যান্য মণ্ডপ ও মন্দির প্রাঙ্গণকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে ঘষামাজা ও রঙের কাজ। মন্দিরের সামনের প্যান্ডেল স্থাপন ও মন্দিরের সাজসজ্জার কাজ চলছে।
সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান কান্তি রায় বলেন, ‘সদর উপজেলার প্রত্যেকটি মন্ডপ ও মন্দিরের প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে সাজসজ্জা ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে। বলতে গেলে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষে হয়ে গেছে। বাকী কাজও দ্রুত গতিতে চলছে।
তিনি বলেন, এবছর সদর উপজেলায় ৪০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ পৌর শহরে ২৩টি মণ্ডপে এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরো ১৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সকল পূজা কমিটি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় মণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য পাহাড়াদার রাখার জন্য বলেছি। কারণ ষষ্ঠী পূজা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবেন। সব কিছুই শান্তিপূর্ণভাবে চলছে।
বাঁধনপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সহ সভাপতি অ্যাড. অনুপ কুমার ধর বলেন , ‘আমাদের প্রতিমার রঙ করার কাজ বাকি রয়েছে। মণ্ডপের সাজসজ্জার কাজ জোর কদমে চলছে। সর্বোপরি প্রস্তুতি প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই বাকি কাজও সম্পন্ন হয়ে যাবে। প্রতি বছরের মতো এবারও মা’কে বরণ করতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গেৎসব উপলক্ষে মহাসপ্তমীতে সন্ধ্যায় ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও মহাঅষ্টমী ও মহানবমীতে রাত ৮টা থেকে শুরু হবে আরতী প্রতিযোগিতা।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। ২৬ সেপ্টেম্বর দেবীর বোধন ও ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোউৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে দুর্গোৎসবের।