মধ্যনগর সংবাদদাতা
মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলীপুর গ্রামের হেলাল মিয়ার বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি উঠছে না দুই মাস ধরে। গ্রামের মাঝের একটি টিউবওয়েল থেকে তিনি প্রতিদিন খাবার পানি সংগ্রহ করেন।
এভাবে শুধু মোহাম্মদ আলীপুর গ্রামেই নয় মধ্যনগর উপজেলায়ই ভূগর্ভস্থ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানির স্তর নেমে যাওয়াতে নলকূপগুলোতে ইতোমধ্যে অনেক টিউবওয়েলে পানি উঠা বন্ধ হয়ে গেছে। পানির স্তর নেমে যাওয়াতে দৈনন্দিন গৃহস্থালির নানা প্রয়োজন মেটানো এবং কৃষি কাজে সমসার সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ, চামরদানী ও মধ্যনগর সদর ইউনিয়নে বিশুদ্ধ পানির জন্য মানুষ পড়েছেন ভোগান্তিতে। গ্রামবাসী জানান, এলাকার বেশির ভাগ টিউবওয়েলেই পানি উঠছে না। যার ফলে আমাদের খাওয়া—দাওয়া, গোসল করা ও থালাবাসন ধোয়ায় নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
উপজেলাবাসী বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি তোলা ও যত্রতত্রভাবে পুকুর—খালবিল ভরাট হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সামনের দিন গুলোতে বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে। এছাড়াও জলাভূমি থাকা সত্বেও শুষ্ক মৌসুমে টানের জমিগুলোতে নলকূপ বসিয়ে স্যালু মেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন করে বোরো ফসলের আবাদ করা হয়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে এমন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যনগর বাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, পানির সংকট রোধের পূর্বশর্ত হলো পানির অপচয় রোধ করা। ভূগর্ভস্ত পানির বিকল্প হিসেবে যদি অনান্য কাজে পুুকুর ডোবা, খাল—বিলের পানি ব্যবহার করা হয় এবং টিউবওয়েল স্থাপনের ক্ষেত্রে যদি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তাহলে এই ধরনের সংকট কিছুটা হলেও সমাধান হবে।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক মোশারফ বলেন, খাবার পানির সংকট চলছে এখন গ্রামের পর গ্রামে। আগে এতো খাবার পানির সংকট ছিল না। এ বছর গ্রামের অধিকাংশ টিউবওয়েলই অকেজো হয়ে পড়েছে। টিউবওয়েলের হাতল ধরে দীর্ঘক্ষণ চাপাচাপি করলেও পানি উঠছে না।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদি হাসান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে (ফাল্গুন—চৈত্র) মাসে ভূগর্ভস্ত পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এতে টিউবওয়েলগুলোতে পানি উঠে না। এই সমস্যা সমাধানে এখন থেকে সাবমার্সেবল টিউবওয়েল স্থাপন করা হবে।