- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মন্ত্রণালয়ের হাস্যকর ক্ষয়-ক্ষতির পরিসংখ্যান- সুনামগঞ্জে বোরো ফসলের ক্ষতি মাত্র ৪৬% ?

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর সুনামগঞ্জ সফরের প্রাক্কালে শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হাওরাঞ্চলের ক্ষয়-ক্ষতির একটি পরিসংখ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ধারণা করা যায় প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষয়-ক্ষতির এই তথ্যই অবহিত করা হয়েছে।  ক্ষয়-ক্ষতির এই পরিসংখ্যান সংবাদপত্রে প্রকাশের পর নানা মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে। সকলেরই অভিন্ন মতামত হলো মন্ত্রণালয় বাস্তবতার চাইতে সুনামগঞ্জ জেলার ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম দেখিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান মোতাবেক শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ফসলি জমির পরিমাণ ১,০২,৪৩৬ হেক্টর এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংখ্যা ১,৭২,৬১৭ টি। জেলায় এ বছর মোট ২,২৩,০৮২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান মোতাবেক জেলায় বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে মাত্র ৪৬%। এই পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্য ? জেলার কৃষি বিভাগ বলছে এবার ফসল পুরোপুরি তলিয়েছে ১.৬৬,৬১২ হেক্টরের । কৃষি বিভাগের তথ্য মোতাবেক ক্ষয়-ক্ষতির হার ৭৫%। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত জমিজমাসহ জেলায় মোট ক্ষয়-ক্ষতির হার ৯০% এর উপরেই হবে বলে সকল মহলের ধারণা। কোন তথ্য উপাত্ত ছাড়াই বিশ্লেষণ করলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। কারণ জেলার বড় কোন হাওরই এবার জলমগ্ন হওয়ার বাকি ছিল না। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা নিয়েও মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানটি এ কারণে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না কারও কাছে। মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানগত হাস্যকর বিষয়ের প্রমাণ পাওয়া যায় সিলেট জেলার ক্ষতির তথ্যে। মন্ত্রণালয় বলছে, সিলেটে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২৬৭১৫ হেক্টর এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পরিমাণ ২,১২,৫৭০ টি। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের এই বিশাল সংখ্যা বোধ করি এখন খোদ মন্ত্রণালয়ই বিশ্বাস করবে না। ভ্রান্তি আরও দেখুন। কিশোরগঞ্জে ৪৫২৫৬ হেক্টর জমি ক্ষতির বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১,৪৮,৬৮৭। এই পরিসংখ্যানের আলোকেই সরকারি সহায়তা নির্ধারিত হবে। শতকরা ৯০ ভাগের উপরে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার ক্ষতির পরিমাণ ৪৬% দেখিয়ে মন্ত্রণালয় আসলে কোন উদ্দেশ্য সাধন করতে চাইছে? ত্রাণ বরাদ্দ কমিয়ে ফেলা নাকি অন্য কিছু ?
পরিসংখ্যান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের রসিকতা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। সেই রসিকতাকেই যেন এবার প্রমাণ করলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এই পরিসংখ্যান জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। তাই জেলাবাসী ক্ষয়-ক্ষতির এই পরিসংখ্যানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমরা সরকারের প্রতি দাবি জানাই, জেলার প্রকৃত ক্ষয়-ক্ষতির পরিসংখ্যান স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে প্রকাশ করুন। নতুবা জেলাবাসী ভয়াবহ বঞ্চনার শিকার হবেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাল্লায় বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে খাদ্য সহায়তা জুগিয়ে যাওয়া হবে। এখন যদি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঠিক সংখ্যাই উপস্থাপন না করা হয় তাহলে সকলে এই সহায়তা পাবেন কী করে? পরিসংখ্যানের বিভ্রান্তি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে যা বাস্তবায়নে এসে বিপর্যয় তৈরি করবে। অন্যদিকে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোর ভিতরে প্রচ- ক্ষোভ তৈরি হয় এতে। তারা মনে করেন এই ধরনের পরিসংখ্যান দিয়ে তাদের সাথে বঞ্চনা করা হচ্ছে। জনগণের এই আবেগ-অনুভূতিকে বিবেচনায় রাখা উচিৎ সরকার ও সরকারি প্রশাসনের। মনগড়া কিংবা টেবিলে তৈরি কোন প্রতিবেদন যখন মানুষের জন্য বিপন্ন অবস্থা তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন ওই কাগজটিকে ছিড়ে ফেলে নতুন ভাবে হিসাব কষতে বসতে হয়। এখন সময় ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানা অংকের ফল মিলানো। গোঁ ধরে বসে থাকলে মানুষের অবিশ্বাস আর হতাশা বিস্তৃত হবে যেটি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কখনও চান না।  

  • [১]