- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মন্ত্রী-সচিবরা মোবাইল কিনতে পাবেন ৭৫০০০ টাকা

সু.খবর ডেস্ক
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিবদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের নির্ধারিত সীমা রাখা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে তারা যতো টাকা খরচ করবেন সব টাকা দেবে সরকার। এছাড়া তারা মোবাইল ফোন কিনতে সরকারিভাবে ৭৫ হাজার টাকা করে পাবেন। এতোদিন তারা এ বাবদ ১৫ হাজার টাকা পেতেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসব বিধান যুক্ত করে ‘সরকারি টেলিফোন, সেলুলার, ফ্যাক্স ও ইন্টারনেট নীতিমালা-২০১৮’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের একটি নীতিমালা আগে থেকেই ছিল। ২০০৪ সালে তা সমন্বিতভাবে করা হয়। ২০১৭ সালে নতুন একটি খসড়া তৈরি হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেটাই এখন চূড়ান্ত করা হলো। তবে মন্ত্রিসভায় কয়েকটি অনুশাসন দিয়েছে। এতে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধানকে রোমিং সুবিধাসহ এ সুবিধার আওতাভুক্ত করার অনুশাসন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের নীতিমালায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিবদের মোবাইল কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন সেটা ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ যেসব কর্মকর্তা সার্বক্ষণিকভাবে মোবাইলের সুবিধা পান না, তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার ভাতা হিসেবে মাসে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এতো দিন তারা ৬০০ টাকা করে পেতেন।
বর্তমানে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী, ২ জন উপমন্ত্রী ও ৭৮ জন সচিব রয়েছেন। এদের পেছনে এই মোবাইল ফোন কিনতে খরচ হবে ৯৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী ও সচিবদেরকে বিনামূল্যে ফোন ও তাদের বিল দেয়ার এই প্রস্তাবটি গেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে।
মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী বা সচিবরা তো এমনিতেই তাদের পছন্দ মতো ফোন ব্যবহার করেন। তাহলে কেন তাদেরকে আবার ফোন কিনে দিতে হবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না।
এদিকে দেশি প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম দাবি করেন, ওয়ালটন বিশ্বমানের স্মার্টফোন তৈরি করছে। ভালো মানের এসব ফোনের দাম আমদানি করা বিদেশি ফোনের তুলনায় অনেকাংশে কম।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, ফোন কেনার এই প্রস্তাব তার মন্ত্রণালয়ের নয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি এই প্রশ্নের উত্তর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাবেন। এই নীতিমালাটা কেবিনেট ডিভিশন তৈরি করেছে। ফোন কেনার টাকার বরাদ্দ ও অন্যান্য বিষয় কেবিনেট ডিভিশন ঠিক করেছে। তাই আমি বলব, এর সঙ্গে আমি কোনো ভাবেই সংশ্লিষ্ট নই।’
‘কেবিনেট ডিভিশন ভালো বলতে পারবে কেন তারা মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা রেখেছে, কেন পাঁচ হাজার টাকা রাখেনি।’
মোস্তফা জব্বার বলে, ‘বাংলাদেশেও ৭৫ হাজার টাকা দামের ভালো মানের ফোন পাওয়া যাবে। যদি স্যামসাংয়ের মত বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ফোন উৎপাদন শুরু করে তখন এ দেশেও ৭৫ হাজার টাকা দামের ফোন তৈরি হবে।’
মন্ত্রিসভায় ‘হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইন ২০১৭’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুামোদন দেওয়া হয়েছে। আইনটি ১৯৭৫ সালের একটি আইন। এটিকে বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে।
তবে পরিবর্তিত ৬ ধারায় বলা হয়েছে এ আইনে ইনস্টিটিউট পরিচালনার জন্য একটি পরিষদ থাকবে। এর প্রধান থাকবেন গণপূর্ত মন্ত্রী।
উপপ্রধান থাকবেন ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী। তবে সদস্য সচিব থাকবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব।

  • [১]