স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরের বাঁধনপাড়ায় মন্দিরের জায়গা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ বাঁধনপাড়ার দুর্গামন্দিরের জায়গা নিয়ে মৃত হরেন্দ্র কুমার দে’র ছেলে সিতাংশু দে মঞ্জুর সঙ্গে এলাকাবাসির বিরোধ চলে আসছিলো। এ বিরোধ সমাধানের জন্য দুপক্ষই পৌর মেয়র নাদের বখত’র সঙ্গে দেখা করেন। পরে পৌরসভার পক্ষ থেকে জায়গার মাপঝোক দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেয়ার কথা জানান দুপক্ষই।
একপক্ষের দাবি, পৌরসভার পক্ষ থেকে মন্দিরের জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পৌরসভার মধ্যস্ততা না মেনে মন্দিরের জায়গা দখল করে সীমানা প্রাচীর দেয়ার চেষ্টা করেছেন সিতাংশু দে মঞ্জু।
আরেকপক্ষের দাবি, মন্দিরের নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে বাড়ির সীমানা প্রাচীরের খুটি দিচ্ছিলেন তারা। তবু তাদের খুটি স্থাপনে বাধা দেয়া হয়।
সংঘর্ষে আহত হওয়া অনুপ কুমার ধর বললেন, মন্দিরের জায়গা দখল করে বাড়ির সীমানা প্রাচীরের খুটি বসাতে চেয়েছে। পৌরসভার মেয়র তাদের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তারা পৌরসভার নির্দেশনা না মেনে অবৈধভাবে মন্দিরের জায়গায় বাড়ির সীমানা প্রাচীরের খুটি বসাতে চেয়েছিলো। আমরা সেখানে গিয়ে বাধা দেয়ায় আমাদের উপর হামলা করেছে। এসময় আমাদের ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে।
সিতাংশু দে মঞ্জু বললেন, আমরা অবৈধভাবে বাড়ির সীমানা প্রাচীরের খুটি বসাইনি। আমরা আমাদের জায়গায় সীমানা প্রাচীরের খুটি বসিয়েছি। এজন্য পৌরসভার মেয়রের অনুমতি এনেছি। মেয়র আমাদের অনুমতি দিয়েছেন। তারা অবৈধভাবে আমাদেরকে বাধা দিয়েছে। সীমানা প্রাচীরের লোহার খুটি উপরে ফেলেছে। এসময় লোহার আঘাতে আহত হয়েছে তারা।
এবিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মৃত বিনোদ লাল চক্রবর্তীর ছেলে রাজগোবিন্দ চক্রবর্তী। অভিযোগপত্রে সিতাংশু দে মঞ্জু (৪৮), শোভন দে (২৮), শুধাংশু দে (৫৫), ইলা রানী পাল (৫০), শুভ্রা রানী দে (৪৮), শিল্পী রানী দে (৩৫) সহ আরও ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সহিদুর রহমান বললেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপক্ষকেই বলে এসেছি এটা নিয়ে আর কোনো ঝামেলা না করতে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি থানার বাইরে রয়েছি। থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবো অভিযোগ হয়েছে কিনা।