- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মন্নানঘাটে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে জামালগঞ্জের মন্নান ঘাট বাজারে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। পশু কোরবানীর মাধ্যমে আত্মত্যাগ ও আল্লাহকে সন্তুষ্টি করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
এসসময় উপজেলার ভীমখালী বাজার সবচেয়ে বড় পশুর হাট। এখন কয়েক বছর ধরে মন্নান ঘাট বাজারে বড় পশুর হাট হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে। বুধবার ছিল মন্নান ঘাট সাপ্তাহিক পশুর হাট। এদিন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত পরিমানে গরু বাজারে মজুদ রয়েছে। ঈদের আগেও এক সপ্তাহ বাকী থাকলেও পশু বিক্রি হচ্ছে ভালোই। ক্রেতা বিক্রেতার দর কষাকষির মধ্যে সময় পার করছেন। ক্রেতা বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, দাম নিয়ে উভয়েই মোটামুটি খুশী। এবার কোরবানীর হাটে বেশীর ভাগই দেশীয় জাতের গরু। ছোট, বড়, মাঝারী সাইজের গরু উঠেছে হাটে। বিক্রেতারা বলছেন, আমরা গরুকে কোন ধরনের ঔষধ খাওয়াইয়ে মোটা তাজা করিনি। তবে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই বলছেন ঈদের ৩-৪ দিন আগেই মূলত ভালো ভাবে বেচাকেনা শুরু হবে। এবার কোরবানীর পশুর সরবরাহ বেশী থাকায় দাম সহনীয় পর্যায় থাকবে বলে ধারনা করা যায়। স্থানীয়রা গরুকে বিভিন্ন ভাবে সাজিয়ে বাজারে তুললেও দূরের ব্যবসায়ীরা ট্রাক এবং নৌকা যোগে প্রচুর সংখ্যক গরু বাজারে আনছেন। বাজারে বিভিন্ন প্রকারের গরু খাশীও উঠেছে। প্রতিটি হাটে বাজারে নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা। তাই নির্ভয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতারা পশু বেচা কেনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সংবাদপুর গ্রামের খামারী বাদশা মিয়া তিনি বলেন, আমি নিজেই এই গরুর পরিচর্যা করি। শুধু ঘাস আর কোড়া ভুষি খাওয়াই এবং নিয়মিত গোসল করাই। তিনি জানান, আমার খামারের ১৮টি গরু আছে। এখন ১টি বড় গরু ১ লক্ষ আশি হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। তবে আমার খামারের বড় বড় আরওও গরু লাখ টাকার উপরে দাম হয়েছে। কেউ কেউ মূল্য হাঁকছেন তারচেয়ে কম টাকায়। যে দাম বলছে তাতে আমার খরচ থেকে বেশী হচ্ছে না। হাতে আরও সময় আছে কয়েকদিন আরো দেখে তারপর ছাড়বো।
কোরবানীর গরু কিনতে আসা আব্দুস সুবান বলেন, এবছর মন্নানঘাট বাজারে প্রচুর গরু আমদানী হয়েছে। দামও ভালো। তিনি একটি গরু ১লাখ ২৫ হাজার টাকা বলেছেন, এখনও কিনেন নি। তবে আরও ৫ হাজার বেশী দিয়েও এই গরুটিই কিনবেন।
বেরীরপাড় গ্রামের জায়গার মালিক আবুল কাশেম বলেন, এবার পশুর দাম মোটামটি ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। হাটে গরু উঠছে প্রচুর। এ বাজারে গরুর কোন খাজনা নেওয়া হয় না। শুধু জায়গার মালিক গরু প্রতি ১শত টাকা করে নিচ্ছে। কারন বিক্রেতার এবং ক্রেতারা খাজনা না থাকায় এই বাজারে বেশী আসে তারা।
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মো. আব্দুন নাসের বলেন, পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক বাজারে তদারকি করছেন। কেউ যেন জাল টাকা দিয়ে প্রতারণা না করতে পারে সেজন্য প্রতিটি বাজারে জাল টাকা সনাক্তকরণ যন্ত্র রয়েছে। যে কোন সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • [১]