- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মল্লিকপুরে প্রবাসীর ঘরে স্প্রে করে দুর্ধর্ষ চুরি-মূমুর্ষ অবস্থায় ৫ জনকে সিলেটে নেয়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকায় এক কুয়েত প্রবাসির ঘরের সবাইকে স্প্রে করে অজ্ঞান করে দুর্বৃত্তরা ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দেড় লাখ টাকা নিয়ে গেছে। রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ওই প্রবাসিসহ পরিবারের ৭ জনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে, পরে সন্ধ্যায় ৫ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সুনামগঞ্জের মল্লিকপুর এলাকার কুয়েত প্রবাসি মো. মোস্তফা আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতে মোস্তফা আলী রাতের খাওয়া শেষে সবাইকে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর তারা আর কোনো কিছু বলতে পারেননি। সোমবার সকালে প্রতিবেশিরা তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে দেখেন, সবাই অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭ জন হলেন মোস্তফা আলী (৬০), তার মেয়ে আসমা আক্তার নিলী (২৪), তাজমিনা বেগম (১৮) ও সাদিয়া বেগম (১৫), মোস্তফা আলীর ভাগনি তাছলিমা বেগম (২৫) ও ছেলের বউ সালমা আক্তার, নাতি মাহদী (৭)। এর মধ্যে মোস্তফা আলী, সাদিয়া, তাসলিমা, সালমা ও আসমা আক্তার নিলী’র অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সিলেট   ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মোস্তফা আলীর মেয়ের জামাই ইসমাইল আলী ও মতিউর রহমান বলেন, ‘স্প্রে করে ঘরের সবাইকে অজ্ঞান করে চোরেরা ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দেড় লাখ টাকা নিয়ে গেছে। দেড় লাখ টাকা রোববার ব্যাংক থেকে তুলে ঘরে রেখেছিলেন আমাদের শ্বশুর মোস্তফা আলী’। এরা জানান, সোমবার বিকালেও চুরি হওয়া ঘরের ভেতরের বাতাসে স্প্রে’র গন্ধ ছিল।
সুনামগঞ্জ সদর হাতপাতালের আবসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রফিকুল ইসলাম জানান,  হাতপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সবাই শঙ্কামুক্ত। তবে চেতনা ফিরলেও তারা পরিস্কার করে কোনো কিছু বলতে পারছেন না।
কিন্তু মতিউর রহমান জানান, আমার শ্বশুর মোস্তফা আলীসহ পরিবারের ৫ জনের অবস্থা ভাল নয়। বিকাল থেকে হাত-পা ঠা-া হয়ে আসছে। এজন্য তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, রোববার রাতের কোনো এক সময় ঘরের জানালা দিয়ে অচেতন করার জন্য হয়তো কোনো কিছু স্প্রে করা হয়েছে। পরে ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে গেছে চোরেরা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন,‘ঘরে স্প্রে করেই চুরি হয়েছে, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি, মোস্তফা আলী’র আত্মীয় একজনও সন্দেহের মধ্যে আছে’।

  • [১]