অর্ধেন্দু ঘোষ চৌধুরী (সঞ্জু)
গত ১০ আগস্ট ২৬ শে শ্রাবণ বাংলাদেশ প্রতিদিন খবরের কাগজে একটা সংবাদ ছাপা হয়েছে, ‘মসজিদ মন্দিরে সম্প্রীতির বন্ধন হাটহাজারী মাদ্রাসাতে।’ খবরটি পড়ে সত্যিই আমি অবাক হয়ে গেছি। কারণ এই সম্প্রীতি এখন সারা বিশ্বেই প্রয়োজন। সেদিন থেকেই আমি কিছু লিখবো ভেবেছি। কিন্তু ২টি বিষয় নিয়েই তখন মানুষ উৎকন্ঠায় ছিল। এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দুই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়। এখন যদিও এই দুই পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তৃতীয় এক মানবেতর সমস্যা রোহিঙ্গা শরণার্থী।
হাটহাজারী সদর বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দারুল উলম মঈনূল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মাদ্রাসা। এই ক্যাম্পাসে একাধিক মসজিদ ও দেশের আলোচিত সংগঠন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। প্রায় শতাধিক বৎসর পূর্বে কয়েকজন জমিদার মিলে এখানে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সীতা- কালী মন্দির। মন্দির ও মাদ্রাসার দূরত্ব প্রায় ৫ গজ। সত্যিই সব সম্ভরের দেশ বাংলাদেশ। দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্ম হলেও জন্মের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ দানা বাঁধতে শুরু করে। এক এক করে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলনের পথ ধরে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে অগ্রসর হয়। সেদিনের সব আন্দোলনের সাফল্যের মূলে ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গৌরবের। এত রক্ত এত সম্ভ্রম স্বাধীনতার জন্য অনেক জাতিকে দিতে হয়নি। কিন্তু আজ যখন দেখি নির্বাচনে জয় লাভের জন্য সাম্প্রদায়িকতাকে উষ্কে দেওয়া হয়, পরবর্তিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় তখন ভীষণ পীড়া দেয়। স্বাধীনতার মূলে ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া। এই চেতনাই পারে আমাদেরকে সব দিক দিয়েই উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে।
আমরা পারি বিশ্ব দরবারে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে। বিশ্বের কোন দেশে কি ঘটলো তার প্রতিফলন আমাদের দেশে হবে কেন। আমরা পারি বিশ্বে সব ধরনের সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে উদাহরণ হতে। আজকে হাটহাজারী থানার শত বৎসরের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা প্রয়োজন। বাবরী মসজিদের ঘটনারও কোন ছাপ হাটহাজারীতে পড়েনি। সেই সময় ঐ মাদ্রাসার ছাত্ররা পাহাড়া দিয়ে সম্প্রীতির ইতিহাস বজায় রেখেছে। হাটহাজারী থানার জনগণকে অভিবাদন।