শহীদনূর আহমেদ
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ। জেলার ছাত্রীদের জন্যে এক মাত্র সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হওয়ায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতি বছর এখানে ভর্তি হচ্ছেন শত শত ছাত্রী। এসব ছাত্রীর মধ্যে কিছু সংখ্যক ছাত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা হয় কলেজ হোস্টেলে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার থাকার নিশ্চয়তায় ছাত্রীদের অভিবাবকরাও উৎসাহী হন তাদের সন্তানদের হোস্টেলে রেখে পড়ালেখা করাতে। কিন্তু মহিলা কলেজ হোস্টেলে হিতে বিপরীত ঘটনা ঘটে। সুযোগ সুবিধার বিপরীতে হোস্টেলে রয়েছে নানা অনিয়ম। হোস্টেলের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ছাত্রীদের সংখ্যা দ্বিগুন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, হোস্টেলের স্যানিটেশন ব্যবস্থা খুবই নাজুক,অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযুক্ত। ময়লা আবর্জনা অপসারণের জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ হোস্টেলে থাকা ছাত্রীদের।
ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হোস্টেলের টয়লেট ও আবর্জনার স্তুপ সপ্তাহে দু’দিন পরিষ্কার করা হয়। বাকি দিনগুলোতে ব্যবহৃত ময়লা হোস্টেলের বারান্দায় জমা হতে থাকে। প্রতিদিন টয়লেট পরিষ্কার না করায় টয়লেট হতে মল-মুত্রের দুর্গন্ধে হোস্টেলের পরিবেশ খারাপ হয়ে যায়। হোস্টেলের এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ছাত্রীদের। নতুন ছাত্রীদের অনেকেই বাড়ি ফেরার জন্যে কান্নাকাটি করেন।
তবে হোস্টেলের সৃষ্ট দুর্গন্ধের দায় ছাত্রীদের উপর চাপিয়ে দিয়ে সপ্তাহে দু’দিন পরিষ্কারের কথা স্বীকার করেন হোস্টেল সুপার মো.জালাল উদ্দিন।
শনিবার সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেল ‘কুশিয়ারা’ ও ‘সুরমা’ ভবনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দুর্গন্ধের বাস্তব চিত্র। ভবনগুলোর গেইটে ঢুকতেই ভেসে আসে পঁচা দুর্গন্ধ। ভেতরে ঢুকতেই কাহিনী পরিষ্কার। এ টয়লেট আর ময়লা আবর্জনা থেকে আসা দুর্গন্ধ। একটু আগালেই দেখা যায় যত্রতত্র ময়লা ও পঁচা ভাতের স্তুপ। ময়লা পানি আর পঁচা ভাতের উপর মাছি ভনভন করতে দেখা যায়। টয়লেট ও গোসল খানা খুবই অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযুক্ত। কাছে যেতে চাইলে নাক চেপে দম বন্ধ করে যেতে হয়। জানালায় গ্রীলে লেগে রয়েছে ইঞ্চি পরিমাণ ময়লার আবরণ। ক্রমাগত ময়লা পানি আর পঁচা ভাত ফেলায় এই দুর্গন্ধযুক্ত ময়লার আবরণ সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, কাজের মহিলা সপ্তাহে দু’দিন এসে ময়লা আর টয়লেট পরিষ্কার করেন। কিন্তু প্রতিদিন ময়লা জমা হয়। তা ওই নির্দিষ্ট দিনেই পরিষ্কার করা হয়। এতে হোস্টেলে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। পঁচা ভাত আর ময়লা পানির গন্ধে টিকে থাকা যায় না।
আরেক ছাত্রী বলেন, ভাই গন্ধ তো সব সময়ই হয়, কিন্তু আমরা মানিয়ে নিয়েছি। মাঝে মাঝে একটু বেশী অসুবিধা হয়, আমাদের করার কিছু নাই।
সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেল সুপার মো.জালাল উদ্দিন বলেন,‘ কাজের মহিলা (ঝি) সপ্তাহে দু’দিন হোস্টেল পরিষ্কার করে। কিন্তু ছাত্রীরা আবর্জনা, ময়লা পানি, ঝুটা ভাত যেখানে সেখানে ফেলে রাখে। তাই এই সাময়িক গন্ধের সৃষ্টি হয়ে থাকে।