বিশেষ প্রতিনিধি
একটি খালে (মাছুয়াখালি) সেতু হবে, নাকি কালভার্ট হবে, এই ইস্যুতে সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত উপজেলা শাল্লার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অবশ্য. সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমিন বলেছেন,‘মাছুয়াখালি খালে সেতু বা বাঁধ দেওয়া না গেলে, প্রয়োজনে ফেরী চালু করে আগামী বছরের শেষ দিকে শাল্লায় গাড়ী যাবে’।
সুনামগঞ্জ থেকে দিরাই উপজেলা সদরের যোগাযোগ সড়ক রয়েছে অনেক আগে থেকেই। দিরাই উপজেলা সদর থেকে শাল্লার দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার। এই সড়কের সূচনা অংশের (দিরাই থেকে শাল্লা অভিমুখে) ৪ কিলোমিটার এবং শাল্লা সদর থেকে দিরাইমুখী সড়কের ৭ কিলোমিটার অংশের কাজ গত ৫ বছরে শেষ করা হয়েছে। কাজ শেষ না হওয়া মাঝখানের ৮ কিলোমিটার মধ্যে পড়েছে মাছুয়াখালি খাল। এই খালটি কাশিপুর থেকে ভাঙাডহর পর্যন্ত গিয়েছে। মাছুয়াখালির উপরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাচ্ছে সেতু করতে। স্থানীয় লোকজন চাচ্ছেন এখানে বাঁধ হউক।
স্থানীয় লোকজনের যুক্তি এই খালে সেতু হলে গিলটিয়া ও ছায়ার হাওরে পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে যাবে।
শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অবনী মোহন দাস বলেন,‘গত বোরো মৌসুমেও মাছুয়াখালি খাল দিয়ে পানি ঢুকে প্রথমে গিলটিয়া এবং পরে ছায়ার হাওরের ফসল ডুবে গেছে’।
অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমিন বলেন,‘মাছুয়াখালি খালের উপর দিয়ে সড়ক করলে, এই সড়ক টেকানো যাবে না, এখানে সড়ক করতে হলে পরিবেশগত প্রতিক্রিয়ার
নানা বিষয় যাচাই করতে হবে’।
তিনি জানান, দিরাই-শাল্লা সড়কে ৩ টি সেতু এবং প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য ৮৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, সড়কের কাজ শেষ করতে আরও ৪০ কোটি টাকা লাগবে। আগামী অর্থ বছরে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হবে। বাকী টাকাও আগামী অর্থ বছরে বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাকী ৮ কিলোমিটারের কাজ শেষ হলে মাছুয়াখালিতে সেতু করা না গেলেও ফেরী চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়ে শাল্লায় সকল মৌসুমে পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।