আকরাম উদ্দিন
হাওর ও নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন শুরু হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা অবৈধ জাল দিয়ে এই পোনা মাছ নিধন করে আসছেন। পোনা মাছ নিধন প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনার দাবি সচেতন মহলের।
প্রতিদিন অবৈধ জাল দিয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা সদর উপজেলার পুরান লক্ষণশ্রী এলাকায় সুরমা নদীর চরে, রহমতপুর এবং হরিনাপাটি এলাকার নদীর চরে এই পোনা মাছ অবাধে নিধন করে চলেছে। এছাড়া কানলার হাওরে, দেখার হাওরে, শিলুয়ার হাওরে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরে, আঙারুলি হাওরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবৈধ জাল দিয়ে মা মাছ ও পোনা নিধন করা হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর, হালির হাওর, মাটিয়ান হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরেও একইভাবে মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। জামালগঞ্জের ছাতিধরা, পাকনার হাওর, ধর্মপাশার টগার হাওর, পাসুয়া হাওরসহ বিভিন্ন উপজেলার হাওর জলাশয়ে পোনা নিধন করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন অবৈধ কোনাজাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে এই পোনা নিধন করছে চিহ্নিত কতিপয় মৎস্যজীবীরা। কারেন্ট জাল দিয়ে ইঁলিশের জাটকা নিধন করা হচ্ছে। কোনা জাল দিয়ে নিধন করা হচ্ছে মাছের ডিম সহ রেণু পোনা। এই সময়ে মা মাছ রুই, কাতলা, চিংড়ি, কৈ, মাগুড়, শিং, শৌল, বোয়াল, গনিয়া, কাইলা, পুটি, আইড়, লাছোসহ নানা প্রজাতির পোনা মাছ নিধন করে আসছেন কতিপয় মৎস্যজীবীরা।
হরিনাপাটি গ্রামের আব্দুল আলীম বলেন, মা মাছ শিকার করা হলে মাছের বংশ ধ্বংস হবে। ঘন জাল দিয়ে এসব মা মাছ ও পোনা নিধন করে চলেছে অবৈধ জাল ব্যবহার করে মৎস্যজীবীরা। মা মাছ ও পোনা নিধন বন্ধ করতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আইনের আওতায় আনতে হবে ঘন জাল ব্যবহার কারীদের।
ব্রাহ্মণগাঁও এলাকার বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, যারা কোনাজাল ব্যবহার করেন তারাই মুলত বছর বছর পোনা নিধন করে থাকেন। অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে কোনো কোনো ব্যক্তি মৎস্য কর্মকর্তাদের নাম করে পোনা মাছ নিজে নেন। এছাড়া মৎস্য অফিসের অবসরপ্রাপ্ত একাধিক ব্যক্তিও এমন সুবিধা ভোগ করছেন বলে প্রায় শোনা যায়।
তাহিরপুর উপজেলার উত্তরশ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা বাবর আলী বলেন, পোনা মাছ যদি জন্ম নিয়েই শিকারীর জালে আটকা পড়ে। তবে তো মৎস্য সম্পদের বিনাশ ঘটবে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
দক্ষিণশ্রীপুর এলাকার সহিদ মিয়া ও রাজ্জাক মিয়া বলেন, আমরা প্রায়ই দেখি বাজারে মাছের পোনা। খাচা ভরা পোনা বিক্রি করতে আসেন জেলেরা। আবার কোনো কোনো জেলে হাওরেই বিক্রি করে দেন এই পোনা। পোনা নিধন বন্ধ করতে হবে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধরেরপাড় গ্রামের তাপস সুত্রধর বলেন, পোনা মাছ মারা মানে মাছের ধংস ডেকে আনা। এবার মাছের পোনা বেশি। এটাকে রক্ষা করলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ জেলায় বেশি উৎপাদন হবে মাছ।
জামালগঞ্জের ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ বলেন, মাছের পোনা নিধন মানে জাতির কপালে দু:খ ডেকে আনা। মৎস্য সম্পদ গুরুত্বসহকারে রক্ষা করতে হবে দায়িত্বশীলরা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল বলেন, আমি মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এবার মাছের উৎপাদন বেশি হবে। মা মাছ ও পোনা রক্ষায় মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং ও পোস্টার সাঁটানো হবে। এরপরও যদি কেউ অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা বা মা মাছ শিকার করেন, তার প্রতি কঠোর হবো।