- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মাছের মড়কের জন্য ধানের পচনই দায়ী!

সু.খবর ডেস্ক
অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা বন্যায় অপরিপক্ব ধান তলিয়ে পঁচে যাওয়ায় পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়। এতে হাওরের মাছ মারা যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সভা কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন মৎস্য চাষ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক।
গত ২৪ তারিখে বাকৃবি মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ কর্তৃক ৬ সদস্য বিশিষ্ট মাছের মড়ক পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানী টিম হাওর অঞ্চল পরিদর্শনে যায়। টিমের আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক। তারা পানি, মাটি, মাছ ও হাঁস নিয়ে পরীক্ষা-পরীক্ষা পর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন।
টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, মাছ চাষ বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম রহমত উল্লাহ, ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম, মাছচাষ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক, ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান ও ফিশারিজ বায়োলজি        
এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ কে শাকুর আহম্মদ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো জীবাণুবাহিত রোগের কারণে মাছ মরে যায়নি। হাওরের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কম ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেশি ছিল। ফলে পানির অম্লতা বৃদ্ধি পায়। এতে কোনো এমোনিয়া ও নাইট্রাইটের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এছাড়া ১৯ প্রকারের মাছ ও জলজ প্রাণির পোনাও পাওয়া গেছে। স্থানীয় মানুষেরা জাল ব্যবহার করছে, যা মাছের জন্য হুমকি স্বরূপ। পানির গভীরতা যেখানে কম সেখানে মাছ বেশি মরেছে, আর সেখানে গভীরতা বেশি সেখানে মাছ কম মরেছে।
হাঁস মারা বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শুষ্ক মৌসুমে হাওরের বোরো ধানক্ষেতে প্রচুর পোকামাকড় জন্মায়, এগুলোর মাঝে অনেক বিষাক্ত পোকামাকড়ও থাকে। হাওরের আকস্মিক বন্যায় পোকামাকড়গুলো ভেসে হাওরের পাড়ের কাছাকাছি চলে আসে, এতে করে হাঁস সহজে এগুলো খেতে পারে।
স্থানীয় জনগণের মতে পোকামাকড়গুলো থেকে বিষাক্ত পোকামাকড় খাওয়ার কারণে হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য কারণেও হাঁসের মৃত্যু প্রায় সারা বছরই কম বেশি হয়ে থাকে। হালির হাওর (হাইলের হাওর নয়) থেকে পাওয়া মৃত হাঁসের রক্তের ডিএনএ মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ল্যাবে এনালাইসিস করে রক্তে কোনো বিষাক্ত দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বন্যায় ধান নষ্ট হওয়ার ফলে মানুষ খাদ্যর অভাবে পড়বে। এ ব্যাপারে সরকারি, বেসরকারি, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদেরকে এগিয়ে আসতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন অনুসন্ধানী টিম।

  • [১]