স্টাফ রিপোর্টার
সুরমা নদী দখল করে মাছ শিকারের ব্যারিকেড স্থাপন করায় নৌযান চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি বেড়েছে। সদর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা নদীর বিভিন্ন খ-ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও স্থানে স্থানে মাছ শিকারীরা ব্যারিকেড স্থাপন করেছেন। নদী দখলের এসব ব্যারিকেড অপসারণের দাবি জানিয়েছেন নৌ-যান চালকরা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর সুরমা নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁশ ও গাছের ডালের ব্যারিকেড দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে আসছেন এক শ্রেণির অসাধু মৎস্যজীবীরা। মাছ শিকারে সুরমা নদীর তীর থেকে মাঝনদী পর্যন্ত এই ব্যারিকেড দেয় তারা। কোনো কোনো স্থানে মাছ শিকারীরা ‘হুয়া’ জাল স্থাপন করেন নদীর মাঝপথ পর্যন্ত। জাল নিচে গেলেও একাধিক ব্যারিকেড ভেসে থাকে নদীর পানিতে। স্থাপন করা জালের সীমানার বাইরের দিকে চলাচল করতে হয় নৌযানকে। প্রায় সময় ব্যারিকেড লেগে জাল ছিঁড়ে যায়। এতেই মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ক্ষতিপূরণ দিতে হয় নৌযানের চালককে। এমন ঘটনায় নৌযান চলাচলের মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
সদর উপজেলার হরিনাপার্টী, আদার বাজার, আমবাড়ি, ব্রাহ্মণগাঁও, জুগিরগাঁও, মইনপুর, নবীনগর, রহমতপুর, বল্লবপুর, অচিন্তপুর, ওয়েজখালী, মিয়ারখাল, পৈন্দা, মুরারবন্দ, ইনাতনগর, রামনগর, দোয়ারাবাজার উপজেলার শরীফপুরে ব্যারিকেড দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা যায়।
ট্রলার চালক সাদেক মিয়া বলেন, সুরমা নদীতে ট্রলার চালানো এখন মারাত্মক সমস্যা। পুরো নদী দখল করে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে আসছে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্যজীবীরা। নিরাপদ নৌযান চলাচলে এই মাছ শিকারের ব্যারিকেড উচ্ছেদ জরুরি।
নৌযান চালক আমিনুর মিয়া বলেন, দোয়ারা ও সদর উপজেলা এলাকায় সুরমা নদীতে নৌকা চালানো এখন খুবই কঠিন। মাছ শিকারীরা জাল ফেলে নদী দখল করায় এবং নদীপথ রোধ করায় আমরা এখন মহা সমস্যায়।
আক্কাছ আলী বলেন, মাছ শিকারীরা যেভাবে নদীতে অবৈধ ব্যারিকেড দিয়ে মাছ শিকার করছে তাতে নদীপথে নৌযান চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। যদি ব্যারিকেডের উপর দিয়ে সামান্য বেখেয়ালে নৌযান উঠে যায়, তখনই মারামারির ঘটনাও ঘটে। ক্ষতিপূরণও দিতে হয়।
মৎস্যজীবী মোহাম্মদ আলী বলেন, মাছের বংশ ধ্বংসের মূল কারণ ব্যারিকেড দিয়ে বা ‘হুয়াজাল’ দিয়ে নদী দখল করে মাছ শিকার করা।
মৎস্যজীবী লিটন বর্মণ বলেন, সুরমা নদীর যেসব স্থানে আমরা মাছ শিকার করে জীবীকা নির্বাহ করি সেসব স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে মাছ শিকারের কারণে আমরা সমস্যায় পড়েছি।
জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি আলাউর রহমান বলেন, শীতের সময় আসলেই সুরমা নদীতে অবৈধভাবে ব্যারিকেড দিয়ে মাছ শিকারের প্রবণতা বাড়ে। এবার সরকার টুকেন রেইটে সুরমা নদী ইজারা না দেওয়ায় উন্মুক্ত নদীতে যে যেমন পারছে, অবৈধভাবে দখল করে মাছ শিকার করছে। এতে মাছের বংশ ধ্বংস হচ্ছে। সাধারণ মৎস্যজীবীরা পড়েছে বিপাকে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুষার কান্তি বর্মণ বললেন, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সুরমা নদীতে যাওয়া হয়। সরেজমিন গিয়ে নদীতে চলাচলের পথে জাল পাওয়া যায়। সেখান থেকে জাল তুলে নেবার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু জেলেরা সেটি মানেন নি। এখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অভিযান চালানো হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল বলেন, মাছ শিকারের সময় মাছ তো শিকার করবেই। মাছ শিকার না করলে খাবে কি। সমস্যা হবে কেউ মাছের পোনা শিকার করলে।