- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মাটিয়াপুর বাঁধে ফাটল/ রাতভর চেষ্টায় রক্ষা করলেন এলাকাবাসী

দিরাই সংবাদদাতা
উজানের ঢলের পানিতে দিরাইয়ের বৈশাখী বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার পর ভেসে যায় চাপতির হাওরের প্রায় ৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসল। চাপতির ডুবে যাওয়ার পর পানির চাপ ভিতরের মাটিয়াপুর বাঁধে এসে লাগে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পানির চাপে মাটিয়াপুর বাঁধে ফাটল ধরে। বাঁধে ফাটল ধরার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাতের আধাঁরে হাজারো কৃষক উড়া কোদাল ও বাঁশ নিয়ে জড়ো হতে থাকে বাঁধের পাড়ে। স্থানীয় কৃষকদের রাতভর প্রচেষ্টায় মাটিয়াপুর বাঁধ আটকানো সম্ভব হয়েছে।
উপস্থিত কৃষকরা জানান, মাটিয়াপুর বাঁধ রক্ষায় কোন পিআইসি দেয়া হয় না। নেই কোন সরকারি অনুদান। প্রতিবছর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এলাকাবাসী মিলে বাঁধটি নির্মাণ করেন। মাটিয়াপুর বাঁধের অভ্যন্তরে ৬ নং করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর, সাকিতপুর, করিমপুর, শ্রীনারায়নপুর, চান্দপুরসহ ৮টি গ্রামের কৃষকদের প্রায় ১ হাজার হেক্টর বোরো জমি রয়েছে।
সাকিতপুর গ্রামের কৃষক কলু সর্দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহায়তায় নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে বছর বছর বাঁধটি নির্মাণ করে অকাল বন্যার পানি থেকে আমাদের হাওরের ফসল রক্ষা করছি। এ বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন রকম সহায়তা করে না।
সাকিতপুর গ্রামের অপর কৃষক ইমদাদ সর্দার বলেন, চাপতির হাওরে পানি ঢুকে যাওয়ার আগে থেকেই আমরা বাঁধে অবস্থান নিয়েছি। চাপতির হাওর ডুবে যাওয়ায় আমাদের মাটিয়াপুর বাঁধটি নড়েবড়ে হয়ে গেছে। যে কোন সময় ভেঙ্গে গিয়ে আমাদের সারা বছরের আশা ভরসা একমাত্র ফসল তলিয়ে যেতে পারে। মাটিয়াপুর খালকে কম্পার্টমেন্টাল বাঁধের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান তিনি।
৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজ্জুল মিয়া জানান, বিগত চারদিন যাবৎ ওয়ার্ডের প্রতিটি গ্রামের কৃষক পরিবারের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে চাঁদা আদায় করে বাঁধের মাটি কাটাসহ বাঁশ ও বস্তার ব্যবস্থা করেছি। এই বাঁধ ভেঙ্গে গেলে করিমপুর ইউনিয়নের সিংহভাগ কৃষক পরিবার ফসলহারা হয়ে যাবে।
৬ নং করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লিটন চন্দ্র দাস বলেন, এলাকাবাসীর প্রাণপণ চেষ্টায় আপাতত বাঁধটিকে টিকানো সম্ভব হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই বাঁধটি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আছি। তিনি আরও বলেন, আসছে বছর বাঁধটিতে কম্পার্টমেন্টাল বাঁধ দেয়ার জন্য উপজেলা কাবিটা কমিটিতে উপস্থাপন করবো।
বাঁধে ফাটল ধরার খবর পেয়ে গভীর রাতে মাটিয়াপুর বাঁধে উপস্থিত হন দিরাই শাল্লা সাংসদ ড. জয়াসেন গুপ্তার রাজনৈতিক সচিব পিন্টু সাগমা। কৃষকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, পূর্বে এখানে কেন বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। আগামী বছর যাতে এটি পিআইসির আওতায় আসে সে বিষয়ে এমপি মহোদয়কে আমি পরামর্শ প্রদান করবো।
বাপাউবো দিরাই শাখা কর্মকর্তা এটিএম মোনায়েম হোসেন বলেন, পিআইসি কমিটি গঠনের পূর্বে উপজেলা কাবিটা কমিটি কর্তৃক প্রতিটি স্কিম অনুমোদন করে নিতে হয়। আমাদের এ্যালাইনমেন্টে মাটিয়াপুর কম্পার্টমেন্টাল বাঁধটি ছিল না। তাই এবছর বাঁধটিতে মেরামত কিংবা সংস্কারের ব্যাপারে আমাদের কোন উদ্যোগ ছিল না। পরবর্তীতে এখানে কম্পার্টমেন্টাল বাঁধ নিমার্ণের ব্যাপারে কাবিটা কমিটির মিটিং এ আমি উপস্থাপন করবো।

  • [১]