স্টাফ রিপোর্টার
জেলার সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জে তৃতীয় ধাপের ১৭ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উপলক্ষে ৬ বিচারিক হাকিম মাঠে নেমেছেন। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের জন্য ভোটের মাঠে নিয়োজিত থাকবেন তারা। নির্বাচনী অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধ আমলে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ করবেন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা) নির্বাচন বিধিমালার অধীন নির্বাচনী অপরাধগুলো ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ (অ্যাক্ট নম্বর পাঁচ)’ এর ১৯০ ধারার অধীনে আমলে নেওয়া ও তা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি দুই ইউপির জন্য একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ থাকবে। তবে কোনো কোনো উপজেলায় প্রতি তিন ইউপির জন্যও একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। এসব কর্মকর্তার ভোটের দায়িত্বকে বিচারিক দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করা হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর, সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কুদরত এ এলাহী, মোল্লাপাড়া, কাঠইর, মোহনপুর ইউনিয়নে সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাগীব নূর, গৌরারং, লক্ষণশ্রী, কুরবাননগর ইউনিয়নে সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খালেদ মিয়া দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস, শিমুলবাঁক, পাথারিয়া ইউনিয়নে সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিংহ, দরগাপাশা, পূর্বপাগলা, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল উদ্দিন এবং পূর্ব বীরগাঁও ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পাল দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ২৫ নভেম্বর ইসির আইন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. শাহীনুর আক্তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জ সহ সারাদেশে ভোটের মাঠে ৩৮১ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালনকালে একজন বেঞ্চ সহকারী/ স্টেনোগ্রাফার/অফিস সহকারীকে সহকারী হিসেবে সঙ্গে নিতে পারবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের নিজ নিজ অফিস প্রধান ব্যবস্থা নেবেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে প্রয়োজনীয় যানবাহন সরবরাহ করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আদালত পরিচালনার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ নিয়োগে করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার/পুলিশ কমিশনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
প্রসঙ্গত, সদর-শান্তিগঞ্জে ১৭ ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন ১ হাজার ৫৯ জন প্রার্থী। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১০৬ জন, সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৭৪২ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য পদে ২১১ জন প্রার্থী রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ প্রার্থী দিয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৫৭৮ জন প্রার্থী। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১১৬ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৯৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।
এদিকে শান্তিগঞ্জে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪৮১ জন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯৫ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।