শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রাম। একাধিক মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন এ গ্রামে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আছে একাধিক মামলাও। তবুও কোনো ভাবেই থামছে না গ্রামে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য। এ নিয়ে ক্ষোভ আছে গ্রামের সাধারণ মানুষের।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঐ গ্রামের মৃত. গেদা মিয়ার ছেলে আরশ আলী (৩৫), তার ভাই তেরাব (২৮) ও শ্বশুর মতি মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
অভিযানে বিদেশি মদ, গাঁজা ও ইয়াবাসহ আরশ আলী ও একই ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মৃত. বুরহান উদ্দিনের ছেলে শাহাব উদ্দিন (৩৩) কে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ।
অভিযানে খুশি গ্রামের মানুষ। তাদের দাবি, একজন দু’জন নয়, এই গ্রামে ছোট—বড় মাদক কারবারি যারা আছে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে এ গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে হবে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীনগর গ্রামের মৃত গেদা মিয়ার ছেলে আরশ আলী (৩৫), তার ভাই তেরাব (২৮) ও শ্বশুর মতি মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আরশ আলী ও তেরাবের ঘর তল্লাশি করে পৃথকভাবে মদ, গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আরশ আলীর ঘর ও বাড়ির আশপাশ থেকে ৮ টি ৩৭৫ গ্রামের ভারতীয় মদ অফিসার্স অব চয়েজ ও দেড় কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে তেরাবের ঘর তল্লাশি করে ১৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় আরশ আলী ও শাহাব উদ্দিন নামের দু’জনকে গ্রেফতার করে তারা। তেরাব পালিয়ে যায়। তেরাব ও গ্রেফতারকৃতদের আসামী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দু’টি মামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
শত্রুমর্দন (বাঘেরকোনা) গ্রামের আফজল হোসেন ও নবীনগর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রউফ বলেন, যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাতে আমরা খুশি। তবে আরো কিছু মাদক ব্যবসায়ী এ পাড়ায় রয়ে গেছেন। তাদেরকেও এভাবে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে গ্রাম ও এলাকাটাকে মাদকমুক্ত করার অনুরোধ করছি আমরা।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এই অভিযান জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পরিচালনা করেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে মদ, গাঁজা, ভারতীয় বিড়ি, ইয়াবাসহ নানান মাদকদ্রব্য উদ্ধার করছি, আসামীও গ্রেফতার করছি। এ বিষয়ে আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।
সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা অভিযান করে মদ, গাঁজা ও ইয়াবাসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছি। তেরাব নামের একজন পলাতক আছে। শাহাব উদ্দিন ও তেরাবকে আসামী করে একটি ও আরশ আলীকে আসামী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দু’টি মামলার প্রস্তুতি চলছে।