- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের লাগাতার অনুপস্থিতি তার এত ক্ষমতার উৎস কোথায়?

একজন আজিজুর রহমান প্রকৃত অর্থেই প্রতিষ্ঠানের চাইতে বড় হয়ে উঠেছেন বলে আমরা দেখতে পাই। গত আড়াই বছরের মধ্যে সংবাদপত্রে তাকে নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ প্রতিকারকারী কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার চিঠি লিখেছেন। জেলা প্রশাসক তদন্ত করিয়েছেন, চিঠি লিখেছেন। কিন্তু এতসবেও আজিজুর রহমানের বিধিবহির্ভূত কর্মকা-কে থামানো যায়নি। সকলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহাল তবিয়তে তিনি আছেন নিজের মত। তিনি অফিস করেন না। কিন্তু বেতন নেন। তাকে অফিস করতে বাধ্য করা যায়নি। এরকম এক অসীম ক্ষমতাধর সরকারি কর্মচারী রয়েছেন আমাদের জেলার শাল্লা উপজেলায়। এ বোধ করি আমাদের ভাগ্যই। তিনি দায়িত্বে আছেন একটি উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করার জন্য। সরকারের পক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি করার তার দায়িত্বভুক্ত। কিন্তু এরকম ছোট দায়িত্ব পালনের জন্য যে তার জন্ম হয়নি। তাই পদের দায়িত্ব পালন করতে কোন আগ্রহও নেই তার। কোন দায়িত্ব পালন করবেন না, কর্মস্থলে থাকবেন না, তার বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি ধামকি দিবেন; আজিজুর রহমানের ট্রেডমার্ক হয়ে গেছে এরকম। আজিজুর রহমানের এমন অসীম ক্ষমতার কাছে কেন তার প্রতিষ্ঠান অসহায় আত্মসমর্পন করে বসে আছে তার কোন কারণ আমাদের জানা নেই। বাংলাদেশে যেখানে অতিশয় ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আসতে দেখা যায় অহরহ সেখানে আজিজুর রহমান এক বিরল ব্যতিক্রম বটে। কিন্তু কথা আরেকটি। তিনি গণপ্রশাসনে যে নজির স্থাপন করে চলেছেন, শৃঙ্খলাহীনতার যে বেপরোয়া দৃষ্টান্ত তৈরি করে চলেছেন, তাতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যবস্থাটি যে একেবারেই নতজানু হয়ে উঠেছে সে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে এখন সামনে আসছে।
আজিজুর রহমান শাল্লা উপজেলার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। ২০১৯ সনের ২৪ জুন তিনি শাল্লায় যোগদান করেন। প্রথম প্রথম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসে তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতেন। পরে এটিও বাদ দিয়েছেন। শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভায় ২০২০ সনের ২৭ ফেব্রুয়ারি তার অনুপস্থিতির বিষয়ে অভিযোগসহকারে কার্য়বিবরণী লিপিবদ্ধ হয়। ৪ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট চিঠি পাঠান। একই সনের ৩ মার্চ জেলা শিক্ষা অফিসার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট তার অনুপস্থিতির কথা জানিয়ে চিঠি লিখেন। ২৭ অক্টোবর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবারও অধিদপ্তরের উপপরিচালকের নিকট বদলীসহ বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি লিখেন। ২০২০ সনের ডিসেম্বর মাসে জেলা প্রশাসক ওই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষা সচিবের নিকট পত্র পাঠান। তা সত্বেও বর্ণিত ক্ষমতাধর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের মামলা করা যায়।
অর্থ আত্মসাৎ দূরে থাকুক আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ন্যূনতম বিভাগীয় ব্যবস্থাই এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। বরং তিনি তার বিরুদ্ধে চিঠি লিখায় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে হুমকি দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে জেলা কর্মকর্তা থানায় জিডি করেছেন। এরকম এক চরম উশৃঙ্খল সরকারি কর্মকর্তা কোন্ খুঁটির জোরে এখন পর্যন্ত চাকুরিতে বহাল থাকছেন? তার দ্বারা গ্রণপ্রশাসনে যে খারাপ নজির তৈরি হয়ে চলেছে সেজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকেই দায়ী থাকতে হবে। এর প্রভাব নেতিবাচকভাবে প্রশাসনে পড়তে পারে। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যদি ওই দপ্তরের অন্য কর্মচারীরা এখন শৃঙ্খলা ভাঙতে থাকেন তখন কোন্ মুখে অধিদপ্তর শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে? প্রতিষ্ঠানের চাইতে কখনও ব্যক্তিকে বড় করে রাখা উচিৎ কাজ নয়। আর এরকম এক নৈরাজ্যকর উদাহরণই তৈরি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। আমরা অবিলম্বে ওই দুর্বিনীত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের খবর শুনতে চাই।

  • [১]