অর্ধেন্দু ঘোষ চৌধুরী
সুনামগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এক এক করে সফলতার মুখ দেখছে। এই সফলতা একমাত্র আপনার মতো একজন সৎ, যোগ্য ও নির্লোভ পরিকল্পনা মন্ত্রী সুনামগঞ্জের সুসন্তান থাকায় সম্ভব হচ্ছে। আপনার জন্মস্থানের সাথে জামালগঞ্জের মানুষের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আপনার জন্মস্থান সদ্যবিলুপ্ত দক্ষিণ সুনামগঞ্জে, আর আমরা জামালগঞ্জে। এখানে গঞ্জে গঞ্জে একটা মিল ছিল এবং আছে। আপনার একান্ত প্রচেষ্টায় পূর্বের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে বর্তমানে শান্তিগঞ্জ উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখানেও গঞ্জে গঞ্জে মিল থেকেই গেছে।
এই গঞ্জের মিল আমাদেরকে আত্মার আত্মীয় হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। সুতরাং সেই হিসেবে আপনার কাছে আমাদের বেশি বেশি দাবি করা মনে হয় অযৌক্তিক হবে না। সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতুর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ডানদিকে শ্রী অদ্বৈত ধাম ও শাহ আরেফিন মাজারের সড়ক ছুটে গেছে। সেখানে দুই ধর্মের দু’জন বিখ্যাত সাধকের পুণ্যভূমির অবস্থান। সেতুর বামদিকে ভাটির বন্দরখ্যাত সাচ্না বাজার পর্যন্ত রাস্তার বিস্তৃতি ঘটেছে।
হাওরপারের মানুষের প্রতি আপনার সরকার প্রধান ও আপনার সুদৃষ্টির ফলস্বরূপ মোহনগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সংযোগ সড়কের নির্মিতব্য উড়াল সেতু সদ্য অনুমোদিত হয়ে কাজ শুরুর প্রতীক্ষায় আছে। এটা নির্মিত হলে হাওরপারের মানুষের অনেক বড় একটি চাওয়া পূর্ণ হবে বলে মনে করছি। এই নয়নাভিরাম উড়াল সেতু দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসবে হাওর পার তথা আমাদের কাছে। কিন্তু সেই সেতুর পাদদেশে যাওয়ার পূর্বেই বেহাল ভঙ্গুর রাস্তার কারণে স্থানীয় মানুষজনসহ সেতু দেখতে আসা উৎসুক মানুষের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ছে কিংবা পড়বে।
সুনামগঞ্জ থেকে সাচনা বাজার আসতে সিএনজিতে সময় লাগার কথা সর্বোচ্চ ত্রিশ মিনিট, সেখানে ভাঙ্গাচুরা রাস্তার কারণে সময় লাগছে এক ঘন্টারও উপরে। এছাড়া সেই পথে চলতে গিয়ে যাত্রীসাধারণকে সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থা থেকে রোগী হয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। আর সন্তানসম্ভবা মা ও জরুরী রোগী নিয়ে চলতে গিয়ে ভোগান্তি কতটা অসহনীয়, সেটা আমাদের মতো ভূক্তভোগীরাই কেবল বলতে পারবেন।
তাই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট সবিনয় নিবেদন, আপনি সুনামগঞ্জের মানুষের জন্য উন্নয়ন কাজের যে মাইলফলক সৃষ্টি করেছেন সেই তুলনায় অতি ছোট্ট দুইটি দাবি আপনার কাছে পেশ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। এক. সুনামগঞ্জ থেকে অদ্বৈত ধাম ও শাহ আরেফিন রাস্তা, দুই. সুনামগঞ্জ থেকে সাচনা বাজার পর্যন্ত রাস্তা। সুনামগঞ্জের মানুষ আপনার দৃঢ় প্রচেষ্টায় কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প ও স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের দৃশ্যমান বাস্তবতা দেখে আসছে। এর সাথে আমি আমরা উপরোল্লেখিত দুইটি রাস্তা নির্মাণের জোর দাবি রাখছি।
লেখক : সভাপতি, নিগমানন্দ পরমহংস দেবের সিলেট বিভাগীয় মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনা কমিটি।