- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মানবিকতা প্রয়োজন কৃত্রিম পায়ের

আকরাম উদ্দিন
শিশু সন্তান শিফা আক্তার। তিনি জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের সাক্ষর রেখে চলেছেন। ২০১৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত চ্যানেল আই’য়ের ‘তারায় তারায় দীপ শিখা’ অনুষ্ঠানে নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিফা আক্তার প্রথম স্থান লাভ করেন। এই সাফল্যে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। লেখাপড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে চলেছেন শিফা আক্তার। স্ক্র্যাচের উপর দুই হাত ভর করে গ্রামে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠিত প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শুরু করেন শিফা। ২০১৫ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন তিনি। বর্তমানে তিনি শহরের সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছেন। তাঁর স্বপ্ন শিক্ষক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। শিফা আক্তার স্ক্র্যাচের উপর দুই হাত ভর দিয়ে চলাফেরা করেন। তাঁর জরুরি প্রয়োজন একটি কৃত্রিম পা।
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু মিয়ার মেয়ে মোছা. শিফা আক্তার। তাঁর পিতা পেশায় দিনমজুর। পিতা-মাতা ও ২ ভাই, ২ বোনসহ পরিবারে আছেন ৬জন। ভাই বোনের মধ্যে শিফা বড়।
শিফা আক্তারের ডান পা’র হাঁটু পর্যন্ত নেই।  জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী। পা টেনে টেনে হেঁটে গ্রামের ব্র্যাক স্কুল প্রি-প্রাইমারীতে অধ্যয়ন শুরু করেন। প্রতিবার ক্লাসের পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেন। একসময় শিফা আক্তার লেখাপড়ার পাশাপাশি এই স্কুলের নৃত্যের ক্লাসেও প্রশিক্ষণ নেন। ব্র্যাকের সহযোগিতায় ২০১৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত চ্যানেল আই’য়ের ‘তারায় তারায় দীপ শিখা’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নৃত্য প্রতিযোগিতায় শিফা আক্তার প্রথম স্থান লাভ করেন।
ওই সময়ে ব্র্যাকের সহযোগিতায় শিফা আক্তারের একটি কৃত্রিম পা স্থাপন করে দেয়া হয়। এই কৃত্রিম পা স্থাপন করে দেয়ায় শিফা আক্তার স্ক্র্যাচ ছাড়া স্কুলে যেতে পারতেন। প্রায় ৩ বছর আগে স্থাপিত এই কৃত্রিম পা ব্যবহারের পর এখন ছোট হয়ে গেছে। তাঁর জন্য বড় মাপের একটি কৃত্রিম পা প্রয়োজন বলে জানান পিতা আবু মিয়া।
শিফা আক্তার প্রতিদিন সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের যেতে স্ক্র্যাচে দুই হাত ভর করে হেঁটে ও নৌকায় তিন কিলোমিটার পথ পারি দেন। আবার বিকালে ফেরেন। সকালে রহমতপুর গ্রাম থেকে হালুয়ারঘাট এলাকায় নৌকাঘাটে আসেন। পরে নৌকা করে শহরের বালুরমাঠ এলাকায় সেলুঘাটে আসেন। এরপর হেঁটে হেঁটে শ্রেণী কক্ষে উপস্থিত হন। প্রতিদিন স্কুলে আসার সময় তাঁর পিতা আবু মিয়া সাথে থাকেন।
শিফা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বপ্ন শিক্ষকতা করা। সমাজের প্রতিটি মানুষকে শিক্ষা দান করা। শিক্ষিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করা। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
শিফা আক্তারের পিতা আবু মিয়া বলেন, ‘আমি দিনমজুরের কাজ করি। আমার মেয়েকে স্কুলে দিয়ে কাজে চলে যাই। এরপর ফিরে এসে মেয়েকে নিয়ে যাই। আমার যতই কষ্ট হউক মেয়ের স্বপ্ন পূরণে আমি পাশে আছি। এক বেলা খেয়ে হলেও লেখাপড়া করাতে চাই আমার মেয়েকে। এই জন্য আমি সকলের সহযোগিতা চাই।’  
জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু শিফা আক্তার একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। সে নৃত্য প্রতিযোগিতায় একবার প্রথম স্থান লাভ করে। ২-৩ বছর আগে আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে কৃত্রিম পা ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছিল। এখন তাঁর বয়স বেড়ে যাওয়ায় কৃত্রিম পা ছোট হয়ে গেছে। বড় আকারের একটি কৃত্রিম পা’র জরুরি প্রয়োজন।’
সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা রহমান বলেন, ‘আমার স্কুলে শিফা আক্তার লেখাপড়া করে। সে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু। তাকে লেখাপড়ায় এগিয়ে নিতে যথাসাধ্য সহযোগিতা করছি।’

  • [১]