স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার জনগণের সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরাতে চায়। নির্বাচন নিয়ে আমরা যে দাবি তুলেছি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, সেখান থেকে দৃষ্টি সরাতে চায় তারা। দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে, মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না, খুন ধর্ষণ, অরাজক পরিস্থিতি থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্যই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা প্রয়াত ফজলুল হক আসপিয়ার শোকসভায় যোগদান করতে এসে সুনামগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ফজলুল হক আসপিয়া জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন, সৎ ও জনদরদি ছিলেন। জীবনভর মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না, বাজারের সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেয়। মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে, দুর্নীতি করা তাদের প্রধান কাজ।
তিনি বলেন, মানুষের অভাব, চাকরি নেই, কৃষকরা ঠিকমতো সার পায় না, ১০ টাকায় চাল দেবার কথা বলে ৭০ টাকায় মানুষকে চাল খাওয়াচ্ছে সরকার, এসব বিষয়ে তাদের অগ্রাধিকার ভাবনা নেই, তাদের সকল চিন্তা অন্যায়ভাবে কিভাবে টাকা উপার্জন করবে।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ কঠিন সময় পার করছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, গণতান্ত্রিক অধিকার, ভাতের অধিকার ফিরে পাবার জন্য, কিন্তু আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, সে আশা আকাঙ্খাগুলো ধুলিস্যাৎ হয়েছে।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবগুলোস্তম্ভকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন ব্যবস্থা অকার্যকর, বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসনকে দলীয়করণ, মিডিয়া হাউসগুলোকে নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা দিয়ে বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোরও স্বাধীনতা নেই, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ‘মিথ্যা মামলায়’ ৩ বছর ধরে অন্তরীণ আছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একইভাবে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে আছেন, ৩৫ লাখ বিএনপি নেতা কর্মীর উপর হয়রানি মামলা, ৫০০ নেতা কর্মী গুম হয়েছেন, এরমধ্যে বৃহত্তর সিলেটের সাহসী বিএনপি নেতা ইলিয়াছ আলীও আছেন। নৈরাজ্য ও গণতন্ত্রহীনতার মধ্যে মানুষ বাস করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িত, কুমিল্লায় যে পোস্ট দিয়েছে সেও ছাত্রলীগ কর্মী, সাম্প্রদায়িকতা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। এই দায় নিয়ে তাদের পদত্যাগ করা উচিৎ।
তিনি বলেন, নির্বাচন তখনই হবে, যখন নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হবে, এই সরকারকে চলে যেতে হবে, তাহলেই নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হবে।
বিকালে সাবেক হুইপ বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা ফজলুল হক আসপিয়ার শোক সভায় বক্তব্য দেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর।