হাফিজ আতাউর রহমান লস্কর
(পূর্ব প্রকাশের পর)
এ মাসে দাড়ি রাখার হিম্মত করুন, শরীয়াতসম্মত দাড়ি রাখার পর নিজের চেহারা আয়না দিয়ে দেখুন। নিজেই দেখবেন চেহারা কেমন নূরানী হয়েছে। দাড়ি মু-ানো বা এক মুঠোর চেয়ে ছোট করে ছাঁটা, এটা এমন গোনাহ যা সব সময় সাথে লেগে থাকে। অন্যান্য গোনাহ যেমন চুরি, ডাকাতি, যিনা ইত্যাদি যে সময় করা হয়, সে সময়ের পর গোনাগারের চেহারায় তা লেগে থাকে না, কিন্তু দাড়ি মু-ালে বা এক মুঠের চেয়ে ছোট করে কাটলে নামাজ, রোজা, হজ্জ ইত্যাদি ইবাদতরত অবস্থায়ও ইবাদতকারী অপরাধীর চেহারা ধারণ করার কারণে আল্লাহপাকের খাস রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে।
শরিয়তী পর্দার অর্থ হলো, (অনাত্মীয় পুরুষ থেকে তো পর্দা করবেই)
গায়রে মাহরাম আত্মীয় থেকেও শরীয়তের হুকুম মতো পর্দা করবে। এখানে এমন সকল গায়রে মাহরাম আত্মীয়ের কথা বলা হচ্ছে যাদেরকে লোকেরা গায়রে মাহরামই মনে করে না। পুরুষের জন্য যে সকল আত্মীয়া মহিলার সাথে পর্দা করতে হবে, তাঁরা হচ্ছেনÑভাবী, ভাতৃবধু, শ্যালিকা, খালাতো বোন, ফুফাতো বোন, মামাতো বোন, মামী, চাচী ইত্যাদি। মহিলাদের জন্য যে সকল আত্মীয়া মহিলার সাথে পর্দা করতে হবে, তাঁরা হচ্ছেনÑদুলাভাই, দেবর, ভাসুর, খালাতো ভাই, মামাতো ভাই, চাচাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, খালু, ফুফা ইত্যাদি।
কু-দৃষ্টি থেকেও খুবই যতেœর সাথে বেঁচে থাকতে হবে। এটা শয়তানের মারাত্মক ধরণের বিষাক্ত তীর। কু-দৃষ্টির কারণে ইবাদতের নূর খতম হয়ে যায়। অন্তরে এমন মারাত্মক অন্ধকার সৃষ্টি হয়, যা কোনো কোনো সময় ইস্তিগফার করলেও দূর হয় না। কু-দৃষ্টি থেকে দূরে থাকার সুযোগ থাকা সত্বেও যতক্ষণ পর্যন্ত তা থেকে কেউ বিরত না থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর অন্তর থেকে কু-দৃষ্টির অন্ধকার দূর হবে না।
জবানের হিফাজত করুন:
জবানের দ্বারা বিশটি গুনাহ সংঘটিত হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হলো-মিথ্যা ও গীবত। উভয়টি গুনাহে কবীরা। মিথ্যাকে সকল গুনাহের ‘মা’ বলা হয়েছে। হাদীস শরীফে আছে, মানুষ যখন মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন আল্লাহর দফতরে তার নাম লেখা হয় ‘মিথ্যাবাদী’। মিথ্যাবাদী সত্য কথা বললেও কেউ তাকে বিশ্বাস করে না।
গীবত (পরনিন্দা) থেকে খুবই সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকতে হবে। গীবতের কারণে অধিকাংশ রোজাদারের রোজা নষ্ট হয়ে যায়। হাদীস শরীফে আছে, গীবত করা যিনা, ব্যভিচার থেকেও খারাপ কাজ। কাজেই রোজা অবস্থায় এহেন মারাত্মক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য।
আল্লাহপাক আমাদের সকল প্রকার গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে ও পরিপূর্ণভাবে রোজা পালন করার তওফিক দান করুন। (আমিন)
লেখক- ইমাম, খালেকাবাদ জামে মসজিদ, সুনামগঞ্জ।