- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মিছাখালি রাবারড্যামে অনিয়ম জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সরকারের সদিচ্ছার পরিচায়ক

জনস্বার্থ সংরক্ষণে গণমাধ্যমে কোন সংবাদ প্রকাশ হলে যে মাঝে মধ্যে কাজ হয় তার প্রমাণ পাওয়া গেল বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিছাখালিতে নির্মিতব্য দেশের সর্ববৃহৎ রাবারড্যাম নির্মাণ কাজে অনিয়মে জড়িত থাকার কারণে বিএডিসি’র দুই প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্তকরণের মধ্য দিয়ে। একইসাথে এটি সরকারি কাজে জবাবদিহিতার একটি প্রকৃষ্ট প্রমাণ হিসাবেও বিবেচিত হবে। নির্মাণ কাজের সময় ওই প্রকৌশলীরা দায়িত্বে অবহেলা করেছিলেন বলে সরেজমিনে তদন্তকালে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ৪ মার্চ মিছাখালি রাবারড্যামের একটি সেতুর স্পেন ধসে পড়া এবং এতে ৬ শ্রমিক আহত হওয়ার খবরটি গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হয়। এরপর এই বিষয়ে সম্পাদকীয় মন্তব্যও প্রকাশ করা হয়। এই সংবাদ দেখে সুনামগঞ্জের সজ্জন সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কৃষিমন্ত্রীর গোচরিভূত করেন। কৃষিমন্ত্রীও দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের। তদন্ত কাজও চলে দ্রুত গতিতে। প্রতিবেদন দাখিল করা হয় একইভাবে। ৩ মার্চ মিছাখালি ড্যামের সেতুর স্পেন ভাঙার ২৭ দিনের মাথায় জড়িত দোষী সরকারি কর্মকর্তাগণকে শাস্তির আওতায় আনা নিঃসন্দেহে সরকারের সদিচ্ছার পরিচয় বহন করে। এজন্য আমরা অর্থ প্রতিমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, বিএডিসিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। অনিয়মের বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের এই উদাহরণটি ভবিষ্যতে সকল উন্নয়ন কাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
রাবার ড্যামের নির্মাণ কাজে তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রকৌশলীর শাস্তি পাওয়ার বিষয়টি স্বস্তিদায়ক হলেও মূল দোষী ব্যক্তি অর্থাৎ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্নসূত্রে জানা গেছে মিছাখালি রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি কাজের একেবারে শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছিলেন। বালি, পাথরসহ নির্মাণ সামগ্রীর যথাযথ মান নিয়ে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আসল কাজ হলো ওই প্রভাবশালী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।  প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই রাবারড্যামটি একটি বড় প্রকল্প। এই ধরনের প্রকল্পে যেকোন মাত্রার অনিয়মের প্রভাব হয় সুদূরপ্রসারী। ঠিকাদারের অদম্য মুনাফা অর্জনের আকাক্সক্ষার কাছে এলাকার অতিপ্রয়োজনীয় একটি স্থাপনার মান খারাপ হোক এটি কখনও কাম্য হতে পারে না। দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পর যদি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই কৃষি মন্ত্রণালয়সহ বিএডিসি কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা অনুরোধ রাখছি দোষী ঠিকাদারের বিরুদ্ধেও আপনারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের অনমনীয় অবস্থানের পরিচয় মিলে। এটি সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। এই অবস্থান বজায় রাখলে জনগণের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বম্ভরপুরের জনগণ যেমন বুঝতে পারছেন তাদের অতি প্রয়োজনীয় একটি বড় প্রকল্পে সংঘটিত অনিয়ম যেমন সরকার সহ্য করছেন না, তেমনি সারা দেশবাসীও একই মনোভাব পোষণ করবেন। জনমুখী সরকারের এমন বৈশিষ্টই সকলের কাম্য। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে নানা মহল থেকে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। কিন্তু সরকারের মূল যে অবস্থান অর্থাৎ জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করা, সেই জায়গায় কোন স্খলন রয়েছে কিনা জনগণ আসলে সেটি নিয়েই বেশি মাথা ঘামায়। তারা বড় বড় তাত্ত্বিক বিষয় আশয় নিয়ে তেমন চিন্তিত নয়। তো অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ জনআকাক্সক্ষার এই জায়গাটিতে আস্থার পরিবেশ তৈরিতে সচেতন। তাদের এই জনমুখী অবস্থান সর্বাবস্থায় বজায় থাকুক।

  • [১]