- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মিছাখালি রাবারড্যাম নির্মাণ কাজে গাফিলতি ২ প্রকৌশলী বরখাস্ত

বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের সর্ববৃহৎ রাবারড্যামের (সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিছাখালী রাবার ড্যাম) নির্মাণ কাজ শেষ হবার আগেই একটি অংশ ধসে পড়ার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে সুনামগঞ্জের একজন সহকারী প্রকৌশলী ও একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া প্রকৌশলীরা হলেন সুনামগঞ্জ বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী আবু আহমেদ মাহমুদুল হাসান এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের মিছাখালী নদীতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ রাবার ড্যাম। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)এর উদ্যোগে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির উপর ৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে বোরো ফসল অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢল থেকে রক্ষা করতে ৫ স্প্যান বিশিষ্ট ২২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন দেশের বৃহৎ এই রাবারড্যামটির নির্মাণ কাজ করছে ঢাকার সেগুন বাগিচার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কেবিআইএমএমকে। রাবার ড্যামের উপরে ৫ স্প্যান বিশিষ্ট ২২০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে।  গত ৩  মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকালে মিছাখালী রাবার ড্যামের নির্মাণাধীন ব্রিজের শেষ অংশের একটি স্প্যান  হঠাৎ ধসে পরে।
নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ও কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়ায় কাজ চলাকালীন সময়েই একটি অংশ ধসে পড়েছে বলে তাৎক্ষণিক দাবি করেছিলেন স্থানীয়রা। ধসের ঘটনায় ৬ শ্রমিকও আহত হয়েছিলেন। এঘটনায় ঐ দিন রাবার ড্যাম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশও করেছিলেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন। মিছিল-সমাবেশে ঠিকাদারের শাস্তিও দাবি করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ঐ দিন গণ-মাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার (৩রা মার্চ) সকাল থেকেই ব্রিজের ঢালাই চলছিল। ঢালাইয়ে কাজ করছিল নারী-পুরুষ মিলে ২৭ জন শ্রমিক। ঢালাই দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিকাল প্রায় সোয়া ৩ টায় হঠাৎ বিকট শব্দে ব্রিজের এক অংশ (একটি স্প্যান) ধসে
পরে। এসময় ব্রিজের উপরে থাকা ৮-১০ জন শ্রমিক ঢালাইয়ের নিচে পড়ে ও বাঁশ-রডের আঘাতে আহত হয়।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর ও একটি জাতীয় দৈনিকে (৪ মার্চ) ঐ সংবাদ ছাপা হলে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ঐ দিনই বিষয়টি কৃষিমন্ত্রীকে জানান। কৃষিমন্ত্রী শুনে ক্ষুব্ধ হন এবং সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করার নির্দেশ দেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. আব্দুর রৌফ, কমিটির সদস্য বিএডিসি (ক্ষুদ্র সেচ) এর পরিচালক মো. সাইদুর রহমান সেলিম, আই এম ই ডি পরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সুব্রত ভৌমিক, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বিএডিসি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ফারুক হোসেনকে। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে সরেজমিনে ঘুরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শেষে ১৮ মার্চ কমিটির সদস্যরা মিছাখালী রাবার ড্যাম এলাকায় গিয়ে আশপাশের গ্রামের যারা লিখতে পারেন তাদের ৫৫ জনের কাছে ১৫ টি প্রশ্ন সংবলিত একটি ফরম পূরণ করে দেবার অনুরোধ জানান এবং যারা লিখতে পারেন না তাদেরকে মৌখিকভাবে প্রশ্ন করে জানার চেষ্টা করেন। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের নানা প্রশ্নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তদারককারী কর্তৃপক্ষ এই কাজটি নিয়মিত তদারকি করেছেন কি? তদারককারী কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে সেগুলো কী?। এছাড়া নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী মান সম্পন্ন কী-না এই প্রশ্নও ছিল।
বিএডিসির সিলেট ও সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণজিৎ দেব বলেন,‘মঙ্গলবার বিকালে শুনেছি মিছাখালি রাবারড্যাম নির্মাণকালে দায়িত্বে অবহেলার কারণে সহকারী প্রকৌশলী আবু আহমেদ মাহমুদুল হাসান ও উপসহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দু’জনকেই সিলেট সার্কেলে সংযুক্ত করা হয়েছে’। সহকারী প্রকৌশলী আবু আহমেদ মাহমুদুল হাসানও তাদের দু’জনকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠনের ৬ দিনের মধ্যেই আমরা সরেজমিনে ঘুরে তদন্ত রিপোর্ট মাননীয় সচিব মহোদয়কে দিয়েছি। তদন্তকালে জেনেছি নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণে বিএডিসির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগণের এবং ঠিকাদারের প্রকৌশলীরও গাফিলতি ছিল, তারা কেউই ওখানে উপস্থিত ছিল না, ঠিকাদারের পক্ষে যিনি ওখানে ছিলেন, তিনিও দক্ষ কেউ নন। তবে আহতদের তিনিই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তদন্তকালে জানা গেছে, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পাথর, বালুসহ অন্যান্য উপকরণ যথেষ্ট মানসম্পন্ন ছিল না’। তিনি জানান, তদন্ত রিপোর্ট দেখে মাননীয় কৃষি মন্ত্রী ও সচিব মহোদয় ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

  • [১]