সালেহ আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর
দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রাবার ড্যাম মিছাখালি রাবার ড্যামের রাবারের ভেতরের পানি সম্পূর্ণভাবে নিষ্কাশন না করায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। রাবারের প্রত্যেকটা স্পেনের রাবারের উভয় সাইড পানির উপরে ভেসে আছে। এর মধ্যে দিয়ে ৩/৪ ফুট পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্টিলের মালবাহী নৌকা এর উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে। এতে ফ্যানের আঘাতে রাবার কেটে নষ্ট হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। দ্রুততম সময়ে রাবারের সম্পূর্ণ পানি নিষ্কাশন না করলে রাবারগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে রাবার অকেজো হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মৃধা জানান, রাবারের ভেতরে পানি থাকায় উভয় সাইড ফুলে উঠেছে। সম্পূর্ণ পানি নিষ্কাশন করলে দেড় ড্রাম ডিজেল তেলসহ অন্যান্য খরচাদী বাবদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হবে। আমি এত টাকা পাবো কোথায়?
২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত রাবার ড্যাম পরিচালনা করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল, লেবার ও আনুষঙ্গিক খরচ সহ প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা আমার হাত থেকে খরচ করেছি। এ পর্যন্ত সরকারিভাবে রাবার ড্যাম পরিচালনার জন্য কোন বরাদ্দ প্রদান করা হয়নি।
তিনি জানান, রাবার ড্যামের সুবিধাভোগী ও কৃষকদের কাছ থেকে এই ব্যয় ভার নির্বাহের জন্য কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবেই বলছেন। তাই এলাকা থেকে কোনো টাকা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ব্যয় ভার নির্বাহের জন্য রাবার ড্যামের ব্রীজের উপর দিয়ে যাতায়াতকারী সকল পরিবহন থেকে টুল ট্যাক্স আদায়ের জন্য একজন কেয়ারটেকার নিয়োগ করা, আঙ্গারুলি হাওরপাড় এলাকার সকল কৃষকদের কাছ থেকে কেয়ার প্রতি ১০/২০ টাকা করে রাবার ড্যামের চাঁদা নির্ধারণ করে সরকারী ভাবে প্রকাশ্যে স্থানে তালিকা টানিয়ে রাখা একান্ত প্রয়োজন। তখনই রাবার ড্যাম সঠিকভাবে পরিচালিত হবে বলে আমার বিশ্বাস। যেহেতু বর্ষাকাল নৌকা চলাচল বন্ধ করা সম্ভব হবে না, তাই রাবারের উপর দিয়ে যাতায়াতকারী ইঞ্জিন চালিত সকল প্রকার নৌকা বন্ধ করে রাবার অতিক্রম করতে হবে।
এ ব্যাপারে বিএডিসি সুনামগঞ্জ জোন সহকারী প্রকৌশলী হোসাইন মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান জানান, রাবার ড্যামের পরিচালনা কমিটি রয়েছে। তারা এলাকার সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে পরিচালনার খরচ আদায় করবেন। রাবার ড্যাম পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে আলাদা কোন বরাদ্দ প্রদানের কোন নিয়ম নেই। তাই স্থানীয়ভাবেই এর ব্যয় ভার নির্বাহ করতে হবে।