স্টাফ রিপোর্টার
দোয়ারাবাজারের আলাউদ্দিন নামের একজন মুক্তিযোদ্ধার (তালিকায় থাকা) সনদ ও গেজেট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ। রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, দোয়ারাবাজার উপজেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সফর আলী, সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সামছুল হক প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, দীর্ঘদিন হয় সুনামগঞ্জের সকল মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে আসছেন আলাউদ্দিন রাজাকারের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেবার জন্য। সে এলাকার চিহ্নিত রাজাকার ছিল। দোয়ারাবাজারের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীর চন্দ্র সরকারের বাবাকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা করার সময় সে স্বশরীরে উপস্থিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত অভিযোগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীর চন্দ্র সরকার। পরে প্রবীর চন্দ্র সরকারের ভাতা তিন মাসের জন্য স্থগিত হওয়ায় সুনামগঞ্জের সকল মুক্তিযোদ্ধা হতভম্ব হয়েছেন। এই বিষয়ে ব্যবস্থা না হলে পরবর্তীতে আন্দোলনের কর্মসূচিসহ মুক্তিযোদ্ধারা আমরণ অনশন কর্মসূচী করবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের বীরসিংহ গ্রামের ‘আলাউদ্দিন রাজাকার’ ২০১৬ সালে মারা যান। কিন্তু তার সন্তানেরা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে আসছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা আরও বলেন, দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের বীরসিং গ্রামের মৃত গোলাম ফকিরের ছেলে মৃত আলাউদ্দিন রাজাকার মুক্তিযুদ্ধের পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন যা এলাকার কেউ জানতেন না। ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইস্যুকৃত সাময়িক সনদপত্র প্রাপ্ত হলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এর প্রতিবাদ জানান। এসময় জানা যায়, আলাউদ্দিন বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে ২০০৫ সালের ২৫ এপ্রিল সেনা মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে নিজের নাম ১৫৮৫ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। এরপর ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর আলাউদ্দিন এর সনদ ও গেজেট বাতিলের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। ২০১৩ সালে তার নামে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বরাদ্দ হওয়ায় এলাকার বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের জোর দাবির প্রেক্ষিতে ভাতা বন্ধ করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আলাউদ্দিন রাজাকার হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ ইত্যাদি অপকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু’র ‘রক্তাক্ত ৭১ সুৃনামগঞ্জ’ বইয়ের ১৯০ নং পৃষ্ঠায় ৩৪ নম্বরে রাজাকারের তালিকায় আলাউদ্দিনের নাম মুদ্রিত আছে। এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান’র ‘একাত্তরে সুনামগঞ্জ’ বইতেও একইভাবে রাজাকার হিসাবে আলাউদ্দিনের নাম ছাপা হয়। আলাউদ্দিন রাজাকারের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিলের জন্য মাননীয় মন্ত্রী বরাবর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়ন শাখার কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীর চন্দ্র সরকার ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর আবেদন করেন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৩ জুন মাননীয় মন্ত্রী একটি অভিযোগের জন্য নির্ধারিত ফরম দিয়ে পূরণ করে জমা দেয়ার পরামর্শ দিলে আবেদনকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রবীর চন্দ্র সরকার তা ঐ দিনই জমা প্রদান করেন। কিন্তু জামুকার ২০২২ সালের ২৪ মে ৫৫৩ নং স্মারকের বরাত দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে উল্লেখিত পত্র দ্বারা আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীর চন্দ্র সরকারের সম্মানী ভাতা স্থগিত এবং আলাউদ্দিনকে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা প্রদানের নির্দেশ জারী করায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়েন।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম থাকা দোয়ারাবাজারের আলাউদ্দিনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তার নাম বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। আমি এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট অগ্রবর্তী করেছি। হয়তো এই বিষয়ে তদন্ত হবে, পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত আসবে।