- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের স্থানীয় পর্যায়ের ইতিহাস চর্চা

এনামুল কবির
বাঙালির জাতিসত্তার ইতিহাসে শেষ পেরেকটির নাম হলো মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালে মার্চে এর শুরু হয়; আর শেষ হয় একই বছরের ১৬ই ডিসেম্বর। এর অনিবার্য ফলশ্রুতি হলো আমাদের আত্মমুক্তির ইতিহাসে সংযুক্ত হয় নতুন অধ্যায়; জাতিরাষ্ট্র হিসেবে পত্তন ঘটে প্রিয় মাতৃভূমি- বাংলাদেশের। বাঙালি পায় তার স্বাধীনতা; নিজস্ব আবাস ভূমি আর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার। কার্যত এই অবস্থার স্বপক্ষে ধাত্রীর ভূমিকা পালন করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। তাই সন্দেহাতীতভাবে এর প্রতিটি শব্দেরই আছে নিজস্ব দায়; যেমন আখ্যান, তেমনি আছে এর বয়ান; স্মৃতি ও এর তুলনারহিত ইতিহাস। এই ইতিহাস ও তার চর্চাক্ষেত্রে এবার স্থানীয় পর্যায়ে যুক্ত হলো আর একটি বই- ‘একাত্তরে সুনামগঞ্জ’; এর লেখক- যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান।
এই হিসেবে ব্যক্তি আবু সুফিয়ান আর কেবল মুক্তিযোদ্ধাই নন, তিনি একাধারে এখন একজন লেখকও বটে। মুক্তিযুদ্ধে তিনি যোগ দেন কৈশোরে; তখনও দেয়া হয়নি তার এসএসসি পরীক্ষা। এমনই একসময় ক্রান্তিলগ্নের দায় হিসেবে তাঁর দোড়গোড়ায় এসে উপস্থিত হয় মুক্তিযুদ্ধ। বাস্তবে প্রতিটি সময়েরই আছে নিজস্ব দাবী; আছে এর ঘূর্ণাবর্ত, গতি-প্রকৃতি, তার বয়ান এবং ইতিহাস। এখানে পাঠকমাত্রই তার দায়িত্ব হলো তৎসংশ্লিষ্ট ফেলে আসা সেই অতীত দিনগুলোর সময়োপলব্ধি করা। তবেই ব্যক্তির পরিবর্তে ঘটনা, বিষয়ীর বদলে সেই অবস্থার পাঠ হয়ে ওঠে যথার্থ; এবং বস্তুনিষ্ঠ। অন্যথায় লেখক থেকে এর পাঠক- প্রত্যেকেই হতে পারি আমরা সমান ব্যর্থ।
মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে সেই ঐতিহাসিক পরিস্থিতি যেখানে আমাদের আসলে ব্যর্থতার কোন স্থান ছিল না। এই পরিস্থিতিই বাঙালিদের দাঁড় করিয়ে দেয় তাদের পায়ের ওপর; যেখানে ধর্মকে কেন্দ্র করে একদিন জন্ম নেয় পাকিস্তান, জাতিসত্তার বাহিরে গিয়ে বিকাশ লাভ করেছিল সাম্প্রদায়িক অভিপ্রায়, সেখানে মুক্তিযুদ্ধ এই বাস্তব অবস্থার মর্মমূলে কুঠারাঘাত করে; ধ্বংস করে এর সমূহ ভাবালুতা; এবং জয়ী হয় ভাবের ওপর এর বাস্তব অবস্থা। ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্রের বিপরীতে তখন বিকাশ ঘটে আমাদের ইহজাগতিক অভিপ্রায়; বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তার।
বস্তুত জাতিসত্তার এই বিকাশে মুক্তিযুদ্ধই ছিল তার এক বাস্তব শক্তি; সেটা পালন করে তার বস্তুগত পরিবর্তনের  ভূমিকা। এখানে মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন এই বাস্তব শক্তির মূল আধার; পাটাতন বিশেষ। লেখক আবু সুফিয়ানও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না; তারুণ্যের সেইসব দিনে তিনি ছিলেন রাজনীতি সচেতন; মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে ছিলেন একজন লড়াকু সৈনিক। সেই দায়ভারকে তিনি এভাবে তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘দেশে এই ক্রান্তিলগ্নে ঘরে বসে থাকা যায় না।’ আবু সুফিয়ান ছিলেন তখনকার ছাত্র সংগঠন-ছাত্রলীগের একজন কর্মী। তবে তাঁর এইসব দিনগুলো একেবারে নির্ভেজাল ছিল না; দিনভর কেটেছে মিছিল মিটিং এর মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে যখন এদিকে আসেন, তখন সুফিয়ানরাও হন তাঁর সফর সঙ্গী; সেদিন তারাও যোগ দেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ‘দিরাই, টানাখালি, পাথারিয়া, জয়কলস, জয়নগর বাজার, জামালগঞ্জের সাচনা বাজার, গোলকপুর, সেলিমগঞ্জ, রাজাপুর, ধর্মপাশা সবশেষে মোহনগঞ্জ।’   
এসব স্মৃতিকথার অংশ বিশেষ আমরা ‘একাত্তরে সুনামগঞ্জ’ গ্রন্থে পাঠ করি; কেবল এসব তথ্যই নয়, এর বর্ণচ্ছটা জেনে বরং আমরা অধিক পুলকিত হই।
এখানে ‘একাত্তরে সুনামগঞ্জ’ শুরু হয় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার বেতার ভাষণের তথ্য প্রদানের মধ্য দিয়ে; ‘১৯৭১ সালের ১লা মার্চ’ এটা প্রদত্ত হয়; আর বাস্তবিকই ‘উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পূর্ব বাংলার পরিস্থিতি’ -এই বাক্যবন্ধ দিয়ে। শেষ হয় ‘শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, দালাল, রাজাকার, আলবদর আলশামসের তালিকা’ সমেৎ; এসব গ্রন্থভূক্ত হয় বইটির একেবারে শেষ পৃষ্ঠাগুলোতে। অবশ্য বইটিতে ‘আশীর্বাদ আর অভিবাদন’ এই শিরোনামে একটা ভূমিকাও আছে; প্রখ্যাত সাংবাদিক সালেহ চৌধুরীর রচনা এটি; তিনি নিজেও ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি লিখেছেন, ‘রচনাটি দুটি অংশে বিভক্ত। একটিতে বর্ণনা করা হয়েছে ব্যক্তি আর সমষ্টিগত অভিজ্ঞতার স্মৃতি। জাতীয় পর্যায়ের ঘটনা আর সুনামগঞ্জে তার ঘাত-প্রতিঘাত। যা লেখককে ক্রমে ঠেলে দেয় যুদ্ধের ময়দানে। এ বর্ণনা আন্তরিক এবং বিশ^স্ত। পুরোনো স্মৃতি বর্ণনায় রং ছড়ানোর স্বাভাবিক প্রবণতাও সুফিয়ান এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।’ এখানে লেখকের অসঙ্গতির কথা বাদ দিলে পাঠক হিসেবে কেউ আমার সঙ্গে দ্বিমত করবেন বলে মনে হয় না।
আমাদের জাতীয় মুক্তির লড়াই আর ইতিহাসে সুনামগঞ্জ ছিল এক অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং এর একটি স্থানীয় পর্যায়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এর চিত্রও তাই ভিন্ন কিছু নয়; ছিল একই- তার সামগ্রীক অবস্থারই সাথে সমন্বিত। তাই সে তখন সমানভাবে আন্দোলিত হতো ঐতিহাসিক মুহূর্তে; প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে ছিল না; একই ইতিহাসের অঙ্গীভূত হিসেবে সে হত এর অংশীদার। ২৫ মার্চ হয় ক্র্যাক ডাউন; নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকি হায়েনারা; তাদের ওপর চাপিয়ে দেয় এক যুদ্ধাবস্থা; শুরু হয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট’; সংঘটিত করে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম গণহত্যা। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে এবার বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেন আমাদের স্বাধীনতার। শেষপর্যন্ত স্বাধীনতার এই লড়াই পর্যবশিত হয় প্রলম্বিত এক মুক্তিযুদ্ধে; দীর্ঘ নয় মাস তথা ২৬৬ দিন পর্যন্ত ছিল এর ব্যাপ্তী। অবশেষে কাক্সিক্ষত দিনটি আসে, বাঙালি অর্জন করে তার ঈপ্সিত বিজয়; জাতীয় মুক্তি, তার স্বাধীনতা।
কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ আর বাক্যময় কোনো ব্যাপার ছিল না; মুক্তির এই পর্বে তাই সুনামগঞ্জকেও শোধ করতে হয় এর যথাযথ মূল্য। ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা ঘোষিত হলো; এর পরদিন ২৭ মার্চ- সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ এসে পৌঁছে পাকি হানাদার বাহিনী। ধর্মের নামে তখন শুরু হয় তাদের অধর্মের কাজ। দিনপঞ্জিতে আসে এবার ২৮ মার্চ; স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয় প্রতিরোধের প্রথম পর্ব। মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে আধাগ্রাম্য শহর সুনামগঞ্জ। গণমানুষের এই গাত্রোত্থান সেদিন রচনা করে এক অভুতপূর্ব ইতিহাস। অচিন্তপুরের আবুল হোসেন শহীদ হন এদিনই; তিনি ছিলেন আনসার বাহিনীর কমান্ডার। শহীদ হন- শ্রমজীবী গনেশ দাস; যিনি পেশায় ছিলেন এক রিক্সা ড্রাইভার। তবে পাকি বাহিনীর আধুনিক অস্ত্র সেদিন নিরস্ত্র বাঙালির অদম্য সাহসের কাছে ব্যর্থ হয়ে যায়; বাধ্য হয় তারা পিছু হটতে। এটা ২৯ মার্চের ঘটনা; পাত্তারি গুটিয়ে সেদিন তারা চলে যায় অস্থায়ী ক্যাম্প-সার্কিট হাউস ছেড়ে; পেছনে থেকে যায় তাদের দুই সদস্য। এদের একজনের গুলিতেই সেদিন শহীদ হন ইপিআর সদস্য হালিম। পরবর্তীতে এই একই দিনে তাদের দুজনকে হত্যা করে বীর বাঙালিরা।
কার্যত ২৯ মার্চ থেকে মে’র ১০ তারিখ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ ছিল এক অর্থে স্বাধীন; এবং যুদ্ধ কবলিত কোন দেশের দিক থেকে যেন এক মুক্তাঞ্চল বিশেষ। পরিস্থিতির এই পর্যায়ে ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে এসে আবির্ভূত হয় সংগ্রাম পরিষদ; তাদের কাঁধেই বর্তায় প্রশাসনিক সকল দায়ভার। যুদ্ধদিনে সংগ্রাম পরিষদের এই ভূমিকাকে নিয়ে হয়তো একদিন রচিত হবে কোনো বই; ব্যাখ্যাত হবে সেইসব দিন, যুদ্ধাবস্থা, প্রতিরোধ আর আমাদের স্থানীয় পর্যায়ের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। ৪০দিন ব্যাপী সেই প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাই নয়, অন্য রূপে তখন বিবেচিত হবে আমাদের এই মুক্তিযুদ্ধ এবং তার সমরকৌশলও। এদিকে আমি আর যাই না; বরং প্রতিরোধের দ্বিতীয় পর্ব পাঠে ফিরে যাই সুফিয়ানের কাছে। লেখকের তথ্য মতে, ‘একাত্তরে সুনামগঞ্জ’এ সেটা শুরু হয় ১০মে; এই হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় আমাদের সুনামগঞ্জের প্রতিরোধ যুদ্ধটা ছিল মূলত ১৯৯ দিনের। এখানে গ্রন্থভূক্ত পাঠে আমরা সেইসব দিনের কয়েকটি অভিযানের সঙ্গে পরিচিত হই।
এইসব অভিযানের মধ্যে প্রথমেই আছে, ‘ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে-অভিযান’; এটা ২৩ জুনের ঘটনা; এতে অংশ নেয় ৩০জনের একটি গেরিলা দল; যার দলনেতা ছিলেন সাধন ভদ্র। লেখক নিজেও ছিলেন এই অভিযানের একজন বীর সেনানী; তিন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সেদিন তারা এই টার্গেট এর দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। লেখকের কথায়, ‘এটাই হলো মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম আক্রমণ’। তিনি ‘মুরাদপুর অপারেশন’ এ অংশ নেন; ‘অপারেশন বেতুরা’ও তাঁর বাদ যায় না। ‘বালিউরার যুদ্ধ’এ রচিত হয়েছে বাঙালি এক অসম সাহসী নারীর আখ্যান; যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনি নিয়ে এসেছিলেন পিঠা জাতিয় খাবার। এক্ষেত্রে তাঁর জবাবটাও ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতার অপূর্ব নজির; রীতিমত এটা ছিল মুক্তিযোদ্ধার সমপর্যায়ভূক্ত। ‘না খেয়ে ছেলেরা সকাল থেকে যুদ্ধ করছে, অথচ কেউ তাদের খাবারের চিন্তা করছে না, কয়েকজনকে বলেছিলাম পিঠার টুকরিটা তোমাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য, প্রাণের ভয়ে রাজি হল না কেউ। অনন্যোপায় হয়ে তাই নিজেই নিয়ে গিয়েছিলাম। কারণ যুদ্ধটা তোমাদের জন্য করছ না, করছ দেশের জন্য। পাকিস্তানী সেনারা কাউকেই রেহাই দেয় না, আমাকেও রেহাই দেবে না।’ (পৃ-৭৬) এখানে এই একটা মাত্র চিত্র দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ ও চর্চায় এর সামাজিক ইতিহাস রচনার গুরুত্ব কতটা।
এই গ্রন্থভূক্ত পাঠে অন্যান্য অভিযানগুলোর মধ্যে আমরা যেমন জ্ঞাত হই, ‘রসরাই অভিযান’ সম্পর্কে; তেমনি এখানে আমরা জানতে পারি ব্যতিক্রমধর্মী এক ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ ও বনগাঁও বিওপি’র কথা; ‘নারায়নতলা যুদ্ধ’ও আমাদের অবগতি থেকে বাদ যায় না। সেই সাথে ‘অভিযান ডাবর ফেরিঘাট’ এবং ‘মহব্বতপুরের সম্মুখযুদ্ধ’ও। এছাড়াও আমরা জানতে পারি ‘ট্রেনিং সেন্টারের পথে’ লেখকের অভিজ্ঞতা ও তার অনন্য মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ওঠার কাহিনী; ‘মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প বাংলাদেশ’সহ সেই ‘কোম্পানি পুর্নবিন্যাস’ এবং ‘ঐতিহাসিক গ্রাম ডলুরা’ সম্পর্কে।
এবার আসি গণহত্যা সম্পর্কে; গ্রন্থভূক্ত পাঠে এটা আমার বিবেচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে তার আগে দুটো সংবাদসূত্র উল্লেখ করা মনে হয় এখানে অপ্রাসঙ্গিক কিছু হবে না।
টাইম, ১২এপ্রিল, ১৯৭১
‘…..কোন সন্দেহ নেই যে, এক্ষেত্রে ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করা যায়। এটা হচ্ছে একটা মারাত্মক রক্তপাত। সৈন্যরা ছিল পাষন্ড। পাশ্চাত্যের এক কর্মচারী মর্মাহত হয়ে বলেছিলেন-এটা চেঙ্গিস খানের মতো কার্যকলাপ।’
স্ট্যাটসম্যান, ১৩মে, ১৯৭১
‘শকুনগুলো বেশি খাওয়ায় উড়তে না পেরে গঙ্গার তীরে ভায়াবহ তৃপ্তিতে বসে আছে। মার্চ মাস থেকে পাঁচ লক্ষেরও বেশি নিহত পাকিস্তানীদের তারা খাদ্য হিসেবে পেয়েছে।’
এখানে স্ট্যাটসম্যান কর্তৃক পরিবেশিত পাকিস্তানীদের স্থলে পড়তে হবে বাঙালি; তাদের অধিকাংশই সেদিন শিকার হয়েছিলেন পাকি বাহিনীর হাতে নির্মম নিপীড়নই নয়, নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের। এর রূপটা যে আমাদের স্থানীয় পর্যায়েও ভিন্ন ছিল না, সেটাই মুক্তিযোদ্ধা সুফিয়ান এখানে পরম মমতায় তাঁর বই ‘একাত্তরে সুনামগঞ্জ’এ লিপিবদ্ধ করেছেন; জানিয়ে দিতে চেয়েছেন অঞ্চল ভেদে তাদের পরিচয় ও নাম ঠিকানা। তিনি শুরু করেন ‘তেঘরিয়া’ দিয়ে; তারপর আসেন ‘ডুংরিয়া গণহত্যা’ সম্পর্কে। এখানে তাঁর মন্তব্য হলো, ‘এদৃশ্য শুধু ডুংরিয়া গ্রামের নয়, এদৃশ্য সমগ্র বাংলাদেশের। দেশের স্বাধীনতার জন্য বাঙালিদের অনেক রক্ত দিতে হয়েছে।’ (পৃ-১০২) এরপর বর্ণিত হয় জামালগঞ্জ থেকে টেংরাটিলায় সংঘটিত নৃশংসতা ও বর্বরতার কাহিনী। নৈনগাঁও পূর্বপাড়া, তাহিরপুর ও কৃষ্ণতলা গণহত্যা, সেই সাথে জেলার বৃহত্তম শ্রীরামসি গণহত্যা সম্পর্কেও আমরা আর অনবহিত থাকি না। এখান থেকে জানতে পারি রানীগঞ্জ, শ্যামারচর-পেরুয়া, ভাদেরটেক, দৌলতপুরের গণহত্যার বয়ানও।
এসব গণহত্যা সম্পর্কে বিশদভাবে জানার প্রয়োজনেই আমাদেরকে বইটি আবার পড়তে হবে।   
তারিখ: ০৫/১২/২০১৬খ্রি:
    

  • [১]