- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার হুমকি

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় নাজিম উদ্দিন তালুকদার নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার দুপুরে ওই মুক্তিযোদ্ধা জয়শ্রী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুক্তার হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এ ব্যাপারে ধর্মপাশা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্মপাশা থানার পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার মুক্তার হোসেন তার লোকজন নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে। নাজিম উদ্দিন তালুকদারের বাড়ি একই ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তার হোসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে জয়শ্রী ইউনিয়নের খয়রানী হাওরে ৫৪ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি। মুক্তার হোসেন ৫৪ নম্বর প্রকল্প ছাড়াও ১১৬ থেকে ১৩২ নম্বর প্রকল্পের মধ্যে ১০টি প্রকল্পের কাজ সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেনকে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা দিয়ে হাতিয়ে নেয়। এসব প্রকল্পের বরাদ্দ প্রায় ২ কোটি টাকা। এদিকে গত ৬ এপ্রিল ৫৪ নম্বর প্রকল্পের বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যায়। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ২২ লাখ টাকার উপরে। বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, জেলা ও বিভাগী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে মুক্তার হোসেন নাজিম উদ্দিন তালুকাদরকে সন্দেহ করেন। আর গত মঙ্গলবার ঈদের দিন বিকেল তিনটার দিকে মুক্তার হোসেন তার লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ নাজিম উদ্দিন তালুকদারের বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হত্যার হুমকি দেয়।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আমি উনাকে (নাজিম) শ্রদ্ধা করি। কেন তিনি এমন অভিযোগ করেছেন জানি না। নির্বাচনের পর থেকে উনার সাথে আমার দেখাই হয়নি। উনি (নাজিম) মিথ্যা বলছেন। আমি অসুস্থ মানুষ। যেখানে নিজেই বেশি কথা বলতে পারি না সেখানে গালমন্দ কীভাবে করবো?’ একাধিক প্রকল্পের কাজের ব্যাপারে মুক্তার হোসেন বলেন, ‘আমি একটি প্রকল্পের কাজ করিয়েছি। হাওরে পানির চাপ বাড়ার সময় প্রশাসনের নির্দেশনায় ইউপি সদস্য হিসেবে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ দেখাশোনা করেছি। অন্য কোনো প্রকল্পে আমার নাম নেই।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘কৃষকেরা ফসল হারিয়ে মুক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এতে মুক্তার আমাকে সন্দেহ করে বাড়িতে এসে হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। মুক্তারের অধীনে থাকা প্রকল্পগুলোতে কাজ করা একজন ব্যক্তি ছাড়া কারও হাওরে জমি নেই।’
জয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। কারও সাথেই একজন জনপ্রতিনিধির অশুভন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হলে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতো।’
সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী ইমরান হোসেন বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্রের সম্মানীত ব্যক্তি। ব্যক্তিগতভাবে উনার (নাজিম) আমার কোনোদিন কথা বা দেখা হয়নি। ইউপি সদস্যের সাথে সমস্যাকে কেন্দ্র করে কেন এমন অভিযোগ করেছেন সেটি বুঝতে পারছিনা। আর একই ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের কাজে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে অশুভন আচরণ বা হুমকি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদি ওই ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে অশুভন আচরণ করে থাকে বা হুমকি দিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই তপন চন্দ্র দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ আর এসআই তপন চন্দ্র দাস বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর এ ব্যাপারে বলা যাবে।’

  • [১]