- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি-মুক্তিযোদ্ধাদের স্থান না হওয়ায় কমান্ডারের ক্ষোভ, পদত্যাগের হিড়িক

ছাতক প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে খ্যাত ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনোয়ার রহমান তোতা মিয়া।
৬ মে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন স্বাক্ষরিত আওয়ামী লীগের ছাতক উপজেলা ও পৌর শাখার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কোনটিতেই কোন মুক্তিযোদ্ধার স্থান না হওয়ায় তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে জানান, ছাতকের শক্তিশালী আওয়ামী লীগ কে দ্বিধাবিভক্ত করতে এবং একটি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পরিকল্পিতভাবে মনগড়া কমিটি গঠন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করা প্রকৃত আওয়ামী লীগ কে পাশ কাটিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি এখানের আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধারা কখনই মেনে নেবে না।
ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আরো বলেন, দেশ স্বাধীনের ১০ দিন আগেই ছাতককে শত্রুমুক্ত করেছে এখানের মুক্তিযোদ্ধারা। সারা দেশের ন্যায় স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত এখানের মুক্তিযোদ্ধা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে আওয়ামীলীগ কে। আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা একই মুদ্রার এপিট-ওপিট মন্তব্য করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন করে অবৈধ পন্থায় ছাতক উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কোন কমিটি হতে পারে না। সম্মেলন প্রস্তুতির নামে গঠিত অবৈধ কমিটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে এখানের মুক্তিযোদ্ধারা এর বিচার প্রার্থনা করবে। আমাদের বিশ্বাস শেখ হাসিনার কাছ থেকে সুবিচার পাবে এখানের অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধারা।
এদিকে ছাতক উপজেলা এবং পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিকে গঠনতন্ত্র বিরোধী, মনগড়া ও নিয়মবহির্ভূত বলে কমিটির সদস্য পদ থেকে একের পর এক পদত্যাগ করতে শুরু করেছে কমিটিতে থাকা সদস্যরা। নিজেদের ফেইসবুক আইডিতে ঘোষণা দিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ সভাপতি বাবুল রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী শিখা দে, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক কল্যাণব্রত দাস, পৌর কাউন্সিলর ইরাজ মিয়া, কৃষক লীগ নেতা বাবুল পালসহ অনেকেই পদত্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। পদত্যাগকারীদের মতে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয়নি। যোগ্য, ত্যাগী ও রাজপথের মুজিব সৈনিকদের মুল্যায়ন হয়নি কমিটিতে।

  • [১]