- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মুক্তিযোদ্ধা উজির মিয়া গুরুতর অসুস্থ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামের বাসিন্দা চেলা সাব সেক্টরের সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন উজির মিয়া (৭০) গুরুতর অসুস্থ। মুক্তিযোদ্ধা উজির মিয়ার একটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। ডায়লোসিস ও প্রোস্টেট অপারেশন করতে হবে। রক্তে   হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন তাকে রক্ত দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ৫নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর পূর্বে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মূত্রনালী সংক্রমণে ভোগছিলেন। গত ২৩ জুলাই শনিবার তার মূত্রনালী দিয়ে প¯্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে মূত্রনালী অপারেশনের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। সেই সময় জানানো হয় দু’একদিনের মধ্যেই তাঁর মূত্রনালীর অপারেশন করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আহবায়ক অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু শুক্রবার বিকালে ফেসবুক স্টেটাসে উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে দোয়ারাবাজার-ছাতক এলাকায় পাকিস্তানী সেনা, রাজাকার, দালালদের ত্রাস ছিলেন উজির মিয়া। সেক্টর কমান্ডার জেনারেল মীর শওকত আলী, সাব সেক্টর কমান্ডার কর্নেল হেলাল, আঞ্চলিক কমান্ডার কর্নেল রউফ তাকে পাগলা উজির নামে ডাকতেন। বেতুরা ফকির চেয়ারম্যানের বাড়ি উড়িয়ে দেয়া, টেংরাটিলা দখল, সুনামগঞ্জ-সিলেট রাস্তার আহসানমার সেতু ধ্বংস, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ রাস্তার জাউয়ার সেতু ও রেলসেতু উড়িয়ে দেওয়া সহ অসংখ্য অপারেশনের প্রত্যক্ষ সেনা ছিলেন এই উজির মিয়া।
খেতাব পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটা আর পাননি। তবে কমান্ডাররা বার বারই বলেছেন উজির মিয়া কেন খেতাব পেল না সেটা তাদের কাছেও অজানা। ১৯৭১ এর এই স্হাসি মুক্তিযোদ্ধা জীবন যুদ্ধে পরাজিত। সহজ, সরল এই মানুষটি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন সব সময়। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নিজেকে জাহির করেননি কোনদিন।

  • [১]