- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মুক্তিযোদ্ধা সালেহ চৌধুরীর মহাপ্রয়াণে শ্রদ্ধার্ঘ

ইশতিয়াক রুপু
ভাটি অঞ্চল চষে বেড়ানো অনন্য একজন মুক্তিযাদ্ধা সালেহ ‘চৌধুরীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া। দিরাই উপজেলার এই কৃতী সন্তান ১৯৭১ সালে টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের অধীনস্থ দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর সহ ভাটি অঞ্চলে  বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন।  বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর গৌরবোজ্জ্বল অবদান ভুলার নয়। ৭১ সালের শুরুর দিকে সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত হয়ে ভারতের  বালাটে পৌঁছলেন সালেহ চৌধুরী। যা ছিলো টেকেরঘাট সাব সেক্টরের অধীনে। সে সময় মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুটিং সেন্টারের দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি জনাব আব্দুল হামিদ। প্রথম সাক্ষাতে সালেহ চৌধুরী জানতে চাইলেন তৎকালীন ন্যাপ নেতা বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের আবস্থান। সালেহ চৌধুরীর ভাষ্য মতে, বর্তমান  রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে তাৎক্ষণিক কোন জবাব না পেলেও পরে নাকি অনেক আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছিলেন। সপ্তাহকাল পর সাক্ষাৎ হলো বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সাথে। ১৯৭১ সালের স্মৃতিচারণে বললেন সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য ছিলেন
আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আব্দুজ জহুর, দেওয়ান ওবায়দুর রাজা, হুসেন বক্ত এবং মো: আব্দুল বারী সহ আরো অনেক সহযোদ্ধার নাম। তখনকার সময়ের আরো যে কয়েক জনের নাম বললেন তাদের মধ্যে কমরেড বরুন রায়, আলফাত উদ্দিন আহমদ এবং নজীর হুসেন। যুবকদের মাঝে বেশি বললেন সাব্বির আহমদ  মিনু ও বি এম খসরুর নাম। শেষ বারের মতো আমেরিকা আসলেন এ বছরের জুন মাসে। উদ্দেশ্য চিকিৎসা করাবেন। প্রথমে গেলেন আটলান্টা। সপ্তাহ দুই পর আসলেন নিউইয়র্কে। নিউইয়র্কের আরেক প্রিয় ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগের বাসায় সাক্ষাৎ হলো। উনাকে নিয়ে বসবার অনুরোধ জানাতে তিনি বললেন, আগে ডাক্তার দেখিয়ে নেই। এরপর সবাইকে নিয়ে বসবো। ডাক্তার দেখানোর পর রিপোর্ট পেয়েই বুঝে নিলেন। তিনি আর বেশিদিন ইহজগতে নেই। সন্তানকে তাড়া দিয়ে চলে গেলেন প্রিয় মাত্ভুমি বাংলাদেশে। যে দেশের জন্য লড়াই করলেন ভাটি বাংলার বীর  মুক্তিযাদ্ধা ও সাংবাদিক চিন্তাশীল লেখক জনাব সালেহ চৌধুরী।
উনার প্রিয় বন্ধু বেলাল বেগের ভাষায়, লাহোরে ১৯৬১ সাল থেকে আমার ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী তাঁরই পরম স্নেহের হুমায়ূন আহমদের মত সজ্ঞানে সকৌতুকে আমাদের সংগে হ্যান্ডশেক করে মৃত্যুর হাত ধরে চলে গেলেন; একবারও পেছনে ফিরে তাকান নি। বীরেরা এভাবেই চলে যান।
দেশের এই সূর্যসন্তানের জন্য আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।
লেখক: আমেরিকাপ্রবাসী।

  • [১]