সু.খবর ডেস্ক
প্রিমিয়ার লীগে ব্যাটসম্যানদের ভালোই দাপট চলছে। দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে তিন সেঞ্চুরি হয়েছে। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মুশফিকুর রহিম ও নাইম ইসলাম সেঞ্চুরি করেছেন। আবাহনীর নাজমুল হোসেন শান্তও তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছেন। তবে আফসোস থাকবে প্রাইম দোলেশ্বরের ইমতিয়াজ হোসেন তান্নার, ৯৯ রানে আউট হয়েছেন তিনি। বোলারদের মধ্যে দাপট দেখিয়েছেন একমাত্র দোলেশ্বরের আরাফাত সানি, প্রথম রাউন্ডে ৫ উইকেটের পর গতকাল ৪ উইকেট শিকার করেছেন বাঁহাতি এ স্পিনার। আর স্বাভাবিকভাবেই তিন সেঞ্চুরিয়ানের দল জয় পেয়েছে, বিফলে যায়নি তান্না-সানির পারফরম্যান্সও
মুশফিক-নাইমের রেকর্ড
মুশফিকের ব্যাটে যেন রান উৎসব চলছে। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠেই প্রথম রাউন্ডে ব্রাদার্সের বিপক্ষে ৭৫ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। গতকাল শেখ জামালকে পেয়ে যেন আরও ঝলসে উঠেছিলেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। ১৩৪ বলে ১৪টি চার ও ১টি ছয়ে সমান ১৩৪ রান করেছেন। তার সঙ্গে নাইম ইসলামও জ্বলে উঠেছিলেন। তিনি অবশ্য এতটা মারমুখী ছিলেন না, ১১৮ বলে ১০৩ রান করেছেন তিনি। দু’জনে একটা রেকর্ডও করেছেন। তৃতীয় উইকেটে তারা দু’জন যোগ করেছেন ২২৫ রান, লিস্ট ‘এ’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রিমিয়ার লীগে তৃতীয় উইকেটে যা সর্বোচ্চ। আর সব মিলিয়ে দ্বিতীয়। চার বছর আগে দোলেশ্বরের হয়ে আবাহনীর বিপক্ষে মুমিনুল ও রোশন সিলভার ২৭৬ রান সর্বোচ্চ জুটি।
তবে রূপগঞ্জের সূচনা কিন্তু মোটেও ভালো ছিল না। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শেখ জামালের পেসার শাহাদাত হোসেন রাজীবের তোপে মাত্র ১৩ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বসেছিল রূপগঞ্জ। অবশ্য এরপরই রূপগঞ্জের ব্যাটিংয়ের আসল অধ্যায় শুরু হয়। মুশফিক ও নাইম মিলে শেখ জামালের বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছেন। দু’জনের মধ্যে বেশি মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন মুশফিক। উইকেটের চারদিকে শটস খেলেছেন তিনি। একমাত্র ছয়টি মেরেছেন বাঁহাতি স্পিনার রাজ্জাককে লং অফের ওপর দিয়ে। অবশ্য রাজ্জাককে ছয় মারতে গিয়ে লং অফেই ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক। জোড়া সেঞ্চুরিতে রূপগঞ্জ ৩০৫ রান তুলে নেয়। জবাব দিতে নেমে শেখ জামালের কোনো ব্যাটসম্যানই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান তাদের মূল ব্যাটিং ভরসা ইমরুল কায়েস। আর ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা জিয়াকে আউট করে ইনিংসের মাঝপথেই তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন মাশরাফি।
তান্নার আক্ষেপ
দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে ব্যাটসম্যানদের দাপটের মাঝে আক্ষেপ থাকবে প্রাইম দোলেশ্বরের ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন তান্নার। ফতুল্লায় দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান তিনি। জয় থেকে দল যখন মাত্র ১২ রান দূরে তখন তিনি সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে। কিন্তু এমন সময় কি-না নূর হোসেন সাদ্দামের বলে ক্যাচ তুলে দেন তান্না! ৯৯ রানে আউটের যন্ত্রণা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। এরপর অবশ্য দল জিতেছে। কিন্তু সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে তাকে। প্রাইম দোলেশ্বরের ৪ উইকেটের জয়ের পেছনে অবশ্য আরাফাত সানির অবদানও কম নয়। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্রাদার্সের দুই ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ও মিজানুর রহমান ১১৩ রান তুলে নিয়েছিলেন। ব্রাদার্স তখন তিনশ’ রানের স্বপ্ন দেখছে। তবে তাদের এ স্বপ্নে বাদ সাধেন আরাফাত সানি। বাঁহাতি এ স্পিনার ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ব্রাদার্সকে আড়াইশ’র মধ্যেই বেঁধে ফেলেন। জুনায়েদ ৮৭ ও মিজানুর ৫৬ রান করেন। দুই ওপেনারের পর ব্রাদার্সের আর কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
নাজমুলের প্রথম সেঞ্চুরি
অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে গিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড সফরে। কিন্তু বেশ কয়েকজন চোটে পড়ে গেলে কিউইদের বিপক্ষে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই টেস্ট অভিষেক হয় নাজমুল হোসেন শান্তর। তাই বলে ১৮ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারের প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দুই বছরের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে চারটি সেঞ্চুরি তার। অথচ ৩৪টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরিও ছিল না! গতকাল বিকেএসপিতে সে আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। তার অপরাজিত সেঞ্চুরিতে দুর্বল পারটেক্সকে ৬৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী। ১০৯ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আবাহনীর সহজ জয়ের পেছনে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ঝড়ো ব্যাটিংয়েরও বড় ভূমিকা রয়েছে। ৫২ বলে ৭৭ রান করে দলকে জয়ের কাছাকাছি পেঁৗছে দিয়ে আউট হন রিয়াদ। তৃতীয় উইকেটে শান্তর সঙ্গে তার দেড়শ’ রানের জুটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৩৪ রান করে নবাগত পারটেক্স। সর্বোচ্চ ৫০ রান আসে ছয় নম্বরে উইকেটে যাওয়া জুবায়ের হোসেনের ব্যাট থেকে। ওপেনার সাজ্জাদ ৩৩ বলে ৪৪ করে রানের গতি বাড়ালেও বাকিরা সেটা ধরে রাখতে পারেননি।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ
শেখ জামাল
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ :৫০ ওভারে ৩০৫/৫ (মুশফিক ১৩৪, নাইম ১০৩, সাক্সেনা ২৩*, মাশরাফি ১৭; শাহাদাত ২/৫২, রাজ্জাক ২/৬৩)
শেখ জামাল :৪৬.২ ওভারে ২৩৭ (জিয়া ৪২, মাহবুবুল ৩৬, ফজলে রাবি্ব ৩৩, সোহাগ গাজী ২৪; শরীফ ২/৩১, নাইম ২/২১, মোশাররফ ২/৫৬, মাশরাফি ১/৫০)
ফল :লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৬৮ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা :মুশফিকুর রহিম
আবাহনী-পারটেক্স
পারটেক্স :৫০ ওভারে ২৩৪/৭ (জুবায়ের ৫০*, সাজ্জাদ ৪৪, যশপাল সিং ৩৩, তারিক ২৫; শুভাগত ২/৪৫, সাইফুদ্দিন ২/৫৬, তাসকিন ১/৪৬)
আবাহনী :৩৮.৩ ওভারে ২৩৭/৩ (নাজমুল ১০১*, রিয়াদ ৭৭, মোসাদ্দেক ২৩*, লিটন ২০; মামুন ১/২০)।
ফল :আবাহনী ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা :নাজমুল হোসেন শান্ত।
ব্রাদার্স-প্রাইম দোলেশ্বর
ব্রাদার্স :৫০ ওভারে ২৪৬/৯ (জুনায়েদ ৮৭, মিজানুর ৫৬, মায়শিকুর ৪৭; আরাফাত সানি ৪/৪৫, শরীফুল্লা ২/৪৭, এনামুল ২/৪৫)
প্রাইম দোলেশ্বর :৪৮.৩ ওভারে ২৪৭/৬ (ইমতিয়াজ ৯৯, মজিদ ৪৫, মার্শাল ৩৩, পুনিত সিং ২২; সাদ্দাম ৩/৫৫, নেহাদুজ্জামান ২/৫০)
ফল :প্রাইম দোলেশ্বর ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা :ইমতিয়াজ হোসেন তান্না