স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মুহাম্মদপুর এলাকায় অবস্থিত জালালাবাদ গ্যাসের আঞ্চলিক কার্যালয়ের গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে ওই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মচারীর মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই মেয়ে এবার এসএসসি পাস করেছে। মেয়ের মায়ের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই গাড়ি চালককে গ্রেফতার করেছে।
মেয়ের মায়ের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, তার স্বামী আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত। তাদের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে আছে। এর মধ্যে এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। অন্য ছেলে-মেয়েরা লেখপড়া করে। পরিবার নিয়ে তারা আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে বসবাস করেন। তার প্রয়াত শ্বশুরও ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার দ্বিতীয় মেয়েকে গত প্রায় দুই বছর ধরে নানাভাবে হয়রানি করছেন প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালক মো. সবুজ। তিনি বিভিন্ন সময়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেন। বিষয়টি একাধিকবার আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপককে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। সর্বশেষ গত শনিবার (৬ জুন) সকালে তার মেয়েকে ঘরে একা পেয়ে গাড়িচালক সবুজ জোরকরে ধর্ষণের চেষ্ঠা চালান। এক পর্যায়ে মেয়েটি ঘর থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে চিৎকার দিলে পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। এ সময় সেখান থেকে চলে যান সবুজ। নির্যাতনের শিকার মেয়েটি জেলা রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবী। এ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক জেলা রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা সেখানে গিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরদিন মেয়ের পক্ষে মা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সবুজ মিয়াকে গ্রেফতার করে।
মেয়ের বাবা বলেন, আমি গরীব মানুষ। আমার মেয়েকে আগেও গাড়িচালক হয়রানি করেছেন। আমি কারো কাছে বিচার পাইনি। সবুজ আমার চাকরি খাওয়ার হুমকি দিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
জালালাবাদ গ্যাসের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. সুরুজ্জামান বলেন,‘আমাকে ওই মেয়ের পরিবার কোনো কিছু জানায়নি। আমি শুনেছি তাদের মধ্যে অন্য একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়েছে। সবুজই বিষয়টি আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। এখন অফিসিয়াল তদন্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় মেয়ের পক্ষ থেকে অন্য লাইনে হাঁটছে। এটা ত্রুটিপূর্ণ লাইন। আমাকে বললে আমি বিচার করে দিতাম। এখন শুনেছি আমার গাড়িচালককে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।’
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মেয়েটির মায়ের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত সবুজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।