- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মেঘালয়ভিত্তিক কয়লা আমদানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান খোঁজা হোক

সুনামগঞ্জের কয়লা নির্ভর জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতি গত দুই বছর যাবৎ একধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার বৃহত্তর কয়লা আমদানিকেন্দ্র বড়ছড়া, বাগলি ও চারাগাঁও শুল্কবন্দর দিয়ে গত ১৬ মে থেকে আবারও কয়লা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মূলত মেঘালয়ের গ্রীন ট্রাইবুনালের একটি রায়ের কারণে এই অচলাবস্থা শুরু হয় ২০১৪ সনের ১৭ এপ্রিল থেকে। মেঘালয়ের গ্রীন ট্রাইব্যুনাল ওই দিন পরিবেশগত বিপর্যয়ের বিষয়টি সামনে এনে সেদেশে কয়লা মাইনিং এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। এরপর ভারতীয় রপ্তানীকারকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের ইতোমধ্যে উত্তোলনের মাধ্যমে মজুদ কয়লা রফতানির সময়সীমা কয়েকদফা বাড়িয়েছেন। কিন্তু আদালতের কয়লা উত্তোলনসংক্রান্ত মূল নির্দেশনা এখনও বহাল রয়েছে। ফলে সমস্যাটির স্থায়ী কোন সমাধানের উপায়ও দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টির উপর বাংলাদেশ সরকারেরও তেমন গুরুত্ব দেয়ার লক্ষণ নেই। ফলে স্থানীয় আমদানিকারক ও মেঘালয়ের রফতানিকারকরাই নিজেদের সাধ্যমত প্রচেষ্টা চালিয়ে সমস্যার সাময়িক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। মেঘালয়ের কয়লা আমদানির উপর বিপর্যয় নেমে আসার সুযোগ নিয়ে দেশের কয়লার বাজার ক্রমশ ইন্দোনেশিয়া,চীন ও আফ্রিকা দখল করে নিচ্ছে। ওইসব দেশের কয়লা মানে খারাপ হলেও দামে কিছুটা সস্তা হওয়ায় দেশীয় আমদানিকারকদের একটি অংশ মেঘালয়ের কয়লার পরিবর্তে ওইসব দেশের কয়লা আমদানির ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। ইন্দোনেশিয়া, চীন ও আফ্রিকার কয়লার নি¤œদরের বিষয়টি সামনে এনে মেঘালয়ের কয়লার মূল্য কমানোর জন্য সুনামগঞ্জের আমদানীকারকরা  নানাবিধ তৎপরতায় নিয়োজিত আছেন। কিন্তু আসল যে কাজ অর্থাৎ মেঘালয় গ্রীন ট্রাইবুনালের কয়লা আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞা, সেটি মোকাবিলা করার দৃশ্যত কোন অগ্রগতি নেই। অথচ দাম কমানোর চাপাচাপির সাথে এই বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ ছিল।
মেঘালয় বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশে কয়লা আমদানির পরিবহণ খরচ কম। অন্যদেশের কয়লার নি¤œদরের বিষয়টি বিবেচনার সময় পরিবহণসংক্রান্ত এই হিসাবটিও ব্যবসায়ীদের মিলাতে হবে। কয়লার মানের বিষয়টি তো রয়েছেই। আমাদের মনে হয় মানগত উৎকর্ষতা থাকলে দামের কিছুটা হেরফের হতেই পারে। এই কয়লা ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সুনামগঞ্জের অন্তত ৫০ হাজার লোক জড়িত। এই ব্যবসার মাধ্যমে সুনামগঞ্জের অর্থনৈতিক কর্মকা- গতিশীলতা পায়। ব্যবসায়টি বন্ধ হয়ে পড়লে এই ৫০ হাজার মানুষের জীবিকার অনিশ্চয়তাসহ জেলার অর্থনৈতিক কর্মকা-ে স্থবিরতা নেমে আসবে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত এসংক্রান্ত প্রতিবেদনে স্থানীয় ব্যংকগুলোর আশংকার কথা উঠে এসেছে। ব্যাংকগুলো বলছে কয়লা ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তাদের মুনাফার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাসপ্রাপ্ত হবে।
মেঘালয়ভিত্তিক কয়লা আমদানি-রফতানিকারকদের তৎপরতার সীমাবদ্ধতা আমাদের দৃষ্টি কেড়েছে। তারা উভয় দেশের সরকারকে এখানে জড়িত করতে এখন পর্যন্ত সক্ষম হননি। মেঘালয়ের গ্রীন ট্রাইব্যুনালকে পরিবেশ বিপর্যয় না ঘটিয়ে কয়লা আমদানির বিষয়ে রফতানিকারকদের নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সাথে এটি মেঘালয়ের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে যে সম্পর্কিত সেটিও বুঝাতে হবে। এইভাবে পরিবেশ বিপর্যয় না ঘটিয়ে কয়লা উত্তোলনের স্থায়ী সমাধান না হলে একসময় এই পথ দিয়ে কয়লা আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে উভয় দেশই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খনিজ সম্পদ তখনই স্বার্থকতা লাভ করে যখন এর মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবাহ ঘটে। মেঘালয়ের কয়লাকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের কয়েক লক্ষ লোকের জীবন-জীবিকার যে ব্যবস্থা হয়েছে, একইসাথে উভয় সরকার এর মধ্য দিয়ে বিপুল রাজস্ব আহরণ করছেন, তাকে সবধরনের সংকটমুক্ত রাখা দুই দেশেরই দায়িত্ব। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তাই নিজ নিজ সরকারের সাথে সমন্বয় সাধন করাটাই মুখ্য দায়িত্ব হওয়া উচিৎ।

  • [১]