শহীদ নূর আহমেদ
সপ্তাহ খানেক সময় ধরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে জন্ডিস রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন সদর উপজেলা গোবিন্দপুর থেকে আসা ৭০ বছরের কাছাকাছি বয়সের বৃদ্ধ আরজ আলী। ভর্তির পর সপ্তাহ পার হলেও এখনও সিট পাননি তিনি।
হাসপাতালে সিট সংখ্যা কম, রোগী বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এসব নানা অজুহাতে বাধ্য হয়েই হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই বৃদ্ধ। তার অনেক পরে ভর্তি হওয়া অনেক রোগী হাসপাতালে সিট পেলেও তাকে সিট দেয়া হয় নাই বলে অভিযোগ
করেছেন আরজ আলী।
বিরক্তির স্বরে অসুস্থ্য আরজ আলী বলেন,‘আর হাসপাতালে থাকব না। সাপ্তাখানিক ধরে বারান্দাত থাইক্কা চিকিৎসা নিছি। আমার পরে আওয়া রোগীকে সিট দিলেও আমারে সিট দিছে না হাসপাতালের স্টাফরা।’
শুধু আরজ আলীই নয়। শনিবার সকালে তার মতো আরো অনেক বৃদ্ধ, মহিলা, শিশু রোগীকে হাসপাতালের বারান্দা ও ওয়ার্ডের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। অনেকেই ৫ থেকে ৭ দিন সময় ধরে এভাবেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
১০০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়নি। অন্যদিকে দিন দিন রোগির সংখ্যা বাড়ার কারণে সিটের অপ্রতুলতা দেখা দেয়। ফলে বর্ধিত রোগিদের বারান্দায় বা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয় বলে দাবি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ২৮৬ জন রোগি ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। নারী, শিশু ও পুরুষসহ ২২০ জনকে সিট দেয়া হলেও সিট স্বল্পতায় বাকীদের স্থান হয়েছে মেঝে বা বারান্দায়।
জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের রাজারবাজ গ্রাম থেকে শ্বাসকষ্ট রোগের চিকিৎসা নিতে আসা ইজ্জত আলী নামের ৬৫ বছরের আরেক বৃদ্ধ গত বুধবার ভর্তি হলেও এখনও সিট পাননি । ৪ দিন ধরে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। বৃষ্টি বাদলের দিনে ঠান্ডার মাঝে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নেয়ায় হিতে বিপরীত হচ্ছে বলে জানান ইজ্জত আলী।
ইজ্জত আলী বলেন,‘আমি শ্বাসকষ্টের রোগি। সিটের জন্যে অনেক বার অনুরোধ করে বললাম। কিন্তু আমাকে সিট না দিয়ে আমার অনেক পরের রোগিদের সিট দেয় তারা। কি আর করার, চিকিৎসাতো নিতে হবে। তাই বারান্দায় আছি।’
সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের নূরুল্লা গাম থেকে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়ে ৫দিন পূর্বে হাসপাতলে ভর্তি হন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মনির উদ্দিন। পুরুষ ওয়ার্ডে সিট স্বল্পতায় তার স্থানও হয় বারান্দায়। হাসপাতাল স্টাফদের বার বার অনুরোধ করেও সিটের ব্যবস্থা হয়নি তার। এভাবেই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সিটের পরিবর্তে বারান্দায় বা মেঝেতে চিকিৎসা নেন রোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল স্টাফদের সাথে যাদের সম্পর্ক ভাল ও যারা তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে পারনে তারাই কেবল সিট পান। এমন অভিযোগ করেছেন সিট না পাওয়া ভুক্তভোগী রোগি ও তাদের স্বজনরা।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জহুর লাল দাস বলেন,‘ ১০০ শয্যার হাসপাতাল ২৫০শয্যায় উন্নীত করা হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। প্রতিনিয়ত রোগির পরিমাণ বাড়ছে কিন্তু আমাদের সম্পদ সীমিত তাই চিকিৎসা সেবা নিতে আসা বর্ধিত রোগিদের বাধ্য হয়েই বারান্দায় বা মেঝেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কাক্সিক্ষত সিট থাকলে রোগীদের এই সমস্যা হত না।’