আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে টুকেরবাজার হয়ে নিয়ামতপুর—সাচনাবাজার পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘদিন ধরে মেরামত কাজ হয়নি। গত বন্যায় সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে যাওয়ায় হাজারো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন জেলা শহরে আসা—যাওয়া যানবাহন ও লাখো মানুষ চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন।
সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার যোগাযোগের মেইন সড়ক মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে। শহরতলীর আব্দুজ জহুর সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে টুকেরবাজার, নিয়ামতপুর ও সাচনাবাজার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট—বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মেইন সড়কের পাশে সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানেও বড় আকারের একাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে গেছে সড়কের ঢালুতেও। জগাইরগাঁও, বড়ঘাট, পুরান লক্ষণশ্রী ও টুকেরবাজার, আহমদাবাদ, নিয়ামতপুর, সাচনাবাজার যাতায়াতের মেইন সড়কে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে ।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বিগত বন্যায় ভেঙে যাওয়া সুনামগঞ্জ—নিয়ামতপুর—সাচনা সড়কে এখনও কোনো মেরামত কাজ হয়নি। গত বছরও ঠিকাদার সড়কের ভাঙন নিজের খেয়াল খুশিমত সামান্য মেরামত করে চলে যান। মেরামতের পরও বিভিন্ন স্থানে গর্ত দৃশ্যমান থাকে। ভালমানের কাজ হয় না এই সড়কে। এবার কোনো মেরামত কাজ শুরু হয়নি।
বেড়াজালী বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির বলেন, সড়কে চলাচল এখন মারাত্মক ঝঁুকিপূর্ণ। হেঁটে যেতেও নানা সমস্যা হয় আমাদের। বিভিন্ন স্থানে গর্ত হওয়ায় হাঁটতে খুবই কষ্ট হয়। সড়কের মেরামত কাজ জরুরি দরকার।
সিএনজি চালক মিরাজুল ইসলাম বলেন, নিয়ামতপুর—সাচনা সড়কে চলাচল মারাত্মক ঝঁুকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত ঘটে দুর্ঘটনা। সড়কের মেরামত কাজ না হওয়ায় ভাঙনের ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা আমাদেরকে গালমন্দ করে।
বড়ঘাট গ্রামের বাসিন্দা মাও. এমদাদুল হক ও আব্দুল মতিন বলেন, টুকেরবাজার পর্যন্ত সড়কের কাজ কোনো সময়ই ভালমানের হয় না। ঠিকাদার তাদের খেয়াল খুশিমতো কাজ করে চলে যান। এই সড়ক টেকসই উন্নয়নের দাবি আমাদের।
জগাইরগাঁও গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও আবুল হোসেন বলেন, আব্দুজ জহুর সেতুর গোড়া থেকে টুকেরবাজার, নিয়ামতপুর ও সাচনাবাজার যোগাযোগ সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে। এই সড়ক মেরামতে জরুরি উদ্যোগ নেই।
টুকেরবাজারের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন ও ফখরুল ইসলাম বলেন, শহর থেকে টুকেরবাজার যোগাযোগ সড়কের বেহাল অবস্থা। সড়কের মেঝেতে ছোট—বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। হেঁটে বা যানবাহনে মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
আহমদাবাদ গ্রামের সেলিম আহমদ চৌধুরী বলেন, সুনামগঞ্জ—নিয়ামতপুর—সাচনা সড়কে চলাচল এখন ঝঁুকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এই সড়কের উন্নয়ন জরুরি প্রয়োজন।
গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে সাচনাবাজার আসা—যাওয়া সড়কের বেহাল অবস্থা। মারাত্মক ভাঙা থাকায় এই সড়কে চলাচলকারী গর্ভবতী মা, রোগী, বয়স্ক মানুষজন সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, শহরের পশ্চিমপাড় আব্দুজ জহুর সেতুর গোড়া থেকে সুনামগঞ্জ—নিয়ামতপুর—সাচনাবাজার পর্যন্ত সড়কের মেরামতের জন্য কার্যাদেশ পাওয়া গেছে। খুব দ্রুত মেরামত কাজ শুরু হবে।