- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মোটরসাইকেলে দেশ ভ্রমণে দম্পতি

স্টাফ রিপোর্টার
‘টুরিজম ফর অল’ এই শ্লোগানে যুব সমাজকে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের প্রতি উৎসাহী করে তোলার লক্ষ্যে মোটরসাইকেলে করে সারা দেশের ৬৪ জেলা ঘুরছেন ব্যবসায়ী দম্পতি। এরই অংশ হিসেবে শনিবার সুনামগঞ্জে আসেন ঢাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী দম্পতি আলমগীর আহমেদ চৌধুরী ও চৌধরাণী দিপালী আহমেদ।
তারা মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে যাত্রা শুরু করে ইতোমথ্যে ১২ জেলা ভ্রমণ করে শনিবারে সুনামগঞ্জে আসেন। বিকেলে সুনামগঞ্জ ছেড়ে নেত্রকোনা জেলার উদ্দেশ্য রওয়ানা করেন।
ভ্রমণ পিপাসু ব্যবসায়ী দম্পতি প্রতিটি জেলায় গিয়ে প্রথমে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সেখানে একদিন থাকার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পরে জেলার সংবাদকর্মী ও একটি কলেজে   
ছাত্রছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং জেলার একটি দর্শনীয় পর্যটন স্থানে ঘুরে ছুটে চলেন অন্য জেলার উদ্দেশ্য। ওই দম্পতিকে সহযোগিতা  সার্বিকভাবে করছে বাংলাদেশ পর্যটন সংস্থার সহযোগিতায়। আগামী ২০১৭ সালের জানুয়ারীর ১৯ তারিখে দেশের সব জেলা ঘুরে শেষ হবে তাদের। মোটরসাইকেলে সারা দেশে ঘুরে ভ্রমণপিপাসু মানুষকে দেশে ভিতরে যে পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে তা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য।
ওই দম্পতি বলেন,‘ বাংলাদেশের অনেক পর্যটক রয়েছেন যারা প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যান। এতে করে যেমন আমাদের দেশের টাকা বাইরের দেশে চলে যাচ্ছে অর্থনীতিও পড়ছে ক্ষতির মুখে।  দেশের যুব সমাজের একটি বড় ভ্রমণে আগ্রহী করার লক্ষেই দেশব্যাপি এই মটর যাত্রা। অনেক তরুণ আছেন যারা মোটরসাইকেলে করে দল বেধে ঘুরেন তারা যেন তাদের সহধর্মীনীকে নিয়ে ঘুরতে উৎসাহী হন সেই লক্ষ্যে এই যাত্রা করছেন তারা।
তারা আরো বলেন,‘ শীত কালেই বাংলাদেশের মানুষ বেশী ঘুরতে বের হন। শীতের মৌসুমকে সামনে রেখেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তারাই প্রথম দম্পতি হিসেবে মোটরসাইকেলে করে দেশ ভ্রমণে বের হয়েছেন।  মোটর সাইকেলে দেশ ভ্রমণ প্রসঙ্গে আলমগীর আহমেদ বলেন,‘ আমরা দু’জনে দাম্পত্য জীবনের ১৪ বছর পার করেছি। সংসার জীবনের শুরু থেকেই আমরা দুজনে ঘুরোঘুরি নিয়ে ব্যস্ত আমরা। দু’জনে মিলে দেশের প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি জেলা ঘুরে ফেলেছি। আমরা দু’জনেরই ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই আমরা ঘুরতে পারি। ভ্রমণের প্রতি দুর্বলতা থেকেই চাকরি খোঁজা হয় নি। দু’জনে একে অন্যর সাথে মিলে সুখেই আছি। আমাদের মধ্যে কোন প্রকার মনোমালিন্য হয় না ।
আলমগীর আহমেদ চৌধুরী স্ত্রী চৌধুরাণী দিপালী আহমেদ বলেন,‘ আমার মা একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। তিনি আমাকে নিয়ে বিয়ের আগে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতেন। আমাকে তিনি বলতেন বিয়ের পর যদি তোমার বর তোমাকে বেশি ঘুরতে না দেয় তাহলে আর ঘুরতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে তার উল্টো। আমি এমন একজনকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছি। যিনি নিজেই ঘুরতে অনেক ভালবাসেন। তাই পুরো বাংলাদেশ ঘুরার সুযোগ পাচ্ছি। নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে।’

  • [১]