- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

মৌলভীবাজারে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ডিসি বরাবর স্মারকলিপি

মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ২৩০৫-এর পক্ষ থেকে আসন্ন রমজান মাসে শ্রমআইন লঙ্ঘন করে বিনা বেতনে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও ২০ রমজানের মধ্যে সকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মাসিক বেতনের সমপরিমান ঈদ উৎসব বোনাস প্রদানের দাবিতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ২৫ মে বুধবার বেলা ১২ টার সময় জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর মোঃ জসিমউদ্দিন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহিন মিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় দীর্ঘ ১১ মাস চাকরী করার পর রমজান মাস আসলে ব্যবসা মন্দার অজুহাত দেখিয়ে অধিকাংশ মালিকরা হোটেল শ্রমিকদের শ্রমআইন লঙ্ঘন করে বিনা বেতনে ছাঁটাই করে দেন। ফলে পবিত্র এই মাসে ছাঁটাইকৃত হোটেল শ্রমিকদের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা, পরিবার-পরিজন নিয়ে শ্রমিকরা সিয়াম সাধনার পরিবর্তে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হন। এমনকি শ্রমিকরা ঈদের আনন্দ উৎযাপন থেকেও বঞ্চিত হয়। অথচ শ্রমিকদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে মালিকদের পুঁজি আরাম-আয়েশ বৃদ্ধি হয় আর শ্রমিকদের সৃষ্ট মুনাফায় মালিকপক্ষ মহাধুমধামে ঈদ উৎযাপন করেন। ঈদের সময় হোটেল শ্রমিকরা কোন উৎসব বোনাস পান না। ২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর সরকার হোটেল শ্রমিকদের জন্য নি¤œতম মজুরির গেজেট প্রকাশ করেন, ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে এক মাসের বেতনের সমপরিমান বছরে ২টি উৎসব বোনাস প্রদানের আইন করা করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের ২ জুলাই শ্রীমঙ্গলস্থ উপ-শ্রম পরিচালকের মধ্যস্থতায় বিনা বেতনে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, মাসিক বেতনের সমপরিমান ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় উৎসব বোনাস প্রদান এবং সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরির গেজেট ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার হোটেল রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতি ও মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৩০৫ এর মধ্যে লিখিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অথচ হোটেল মালিকরা সরকারী আইন ও চুক্তি লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে এই সকল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু আইনগতভাবে নয় ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের দিক থেকেও হোটেল শ্রমিকদের রমজান মাসে বিনাবেতনে ছাঁটাই করা অন্যায়। শ্রমিকরা তাদের আইনসঙ্গত অধিকার বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপ-শ্রম পরিচালক, শ্রম পরিদর্শক, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি, ব্যবসায়ী সমিতি ও হোটেল মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের বার বার লিখিতভাবে আবেদন নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। হোটেল শ্রমিকরা দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, যার কারণে হোটেল শ্রমিকদের  মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য একই দাবিতে আগামী ২৭ মে কুলাউড়ায়, ২৯ মে শেরপুরে এবং ৩১ মে জেলা শহরের হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • [১]