সু.খবর ডেস্ক
অর্থপাচারের মামলায় উচ্চ আদালতে সাজা হওয়ায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। অর্থপাচারের এক মামলায় হাইকোর্টে তারেক রহমানের সাজার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, রায় কার্যকরে সরকার প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তি (বন্দি বিনিময় চুক্তি) করবে, ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে।
অর্থপাচারের এক মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আপিলের রায়ে হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার সকালে তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদ- ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া রায়ে বিচারিক আদালতকে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আনিসুল হক বলেন, ‘আইনের দৃষ্টিত তারেক রহমান এখন পলাতক। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তি করে হলেও তাকে ধরে দেশে ফেরত আনা হবে।’
এই মামলায় তারেকের ব্যবসায়ী বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের আপিল মঞ্জুর করলেও তার সাত বছরের কারাদ- বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে তাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া অর্থদ- ৪০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৭ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন মামুন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ছাড়াও দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং মানহানির অভিযোগে কয়েক ডজন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পলাতক তারেক রহমান আত্মসমর্পণ করলে বা তাকে গ্রেফতার করা গেলে সেই সময় থেকে তার দ- কার্যকর হবে বলে রায়ে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।
তারেক রহমান চাইলে আপিল করতে পারবেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তবে লন্ডনে বসে আপিলের কোনো সুযোগ নেই।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান এতো দিন সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন না। এখন তাকে দেশে ফিরে এসে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে, নয়তো সরকার তাকে ধরে এনে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠাবে।’
রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আশা করব, দুদক অবিলম্বে রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করবে এবং কপি পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপরই সরকার রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করবে।’
ঘুষ হিসেবে আদায়ের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করেছিল দুদক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য ‘নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের’ কর্ণধার খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন। সিঙ্গাপুরে পাচারের পর ওই অর্থ দেশটির একটি ব্যাংকে তার হিসাবে জমা করেন মামুন। এর মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা তারেক রহমান খরচ করেন।
এই মামলার রায়ে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন। আর মামুনকে দেওয়া হয়েছিল সাত বছর কারাদ- ও ৪০ কোটি টাকা জরিমানা। এই রায় ঘোষণার পর পরই ওই বিচারক স্বপরিবারে মালয়েশিয়া চলে যান।
একই বছরের ৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট দুদকের আপিল গ্রহণ করে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এরপর তারেকের বিরুদ্ধে সমনও জারি করা হয়।
এরপর গত ৪ মে হাইকোর্টে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের বেঞ্চে দুদকের আপিল ও সাজার বিরুদ্ধে মামুনের আপিলের শুনানি একসঙ্গে শুরু হয়। শুনানি শেষে গত ১৬ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হলো।
উচ্চ আদালতে তারেক রহমানের অপরাধের যথাযথ শাস্তি হয়েছে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালতের যে বিচারক তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছিলেন। সেই বিচারক রায় ঘোষণার দু’দিন পর সপরিবারে মালয়েশিয়া চলে যান। ওই রায় যে যথাযথ ছিল না হাইকোর্টের রায়ে তার যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে।’