বিশেষ প্রতিনিধি ও আশিক মিয়া
সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় রোববার ঐ সড়কে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনিন্দ্র কিশোর চৌধুরী সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন,‘কাজ নিম্নমানের হয়েছে, সড়কের তদারককারী উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলীকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। সড়কের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত এবং কাজের মান যাচাইয়ের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে বলে তাৎক্ষণিক উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের জানান তিনি।
রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার- ছাতক সড়কে আগে থেকে কোন সফরসূচি না পাঠিয়েই আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনিন্দ্র কিশোর চৌধুরী। তিনি ঐ সড়কের নৈনগাঁওয়ের পাশের একটি স্থানে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন আঙ্গুল দিয়ে সড়কের পাকা অংশ তুলে কাজের অবস্থা দেখান। এসময় যুগ্মসচিব বিক্ষুব্ধ হয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে উপস্থিত উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনদেরকে যুগ্মসচিব মনিন্দ্র কিশোর চৌধুরী বলেন,‘কাজের মান ভাল হয়নি। তদারককারী প্রকৌশলী রমজান আলীর নামে এখনই (দুপুর ২ টায়) সাময়িক বরখাস্তের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এই সড়কের কাজের মান যাচাইয়ের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি কমিটি হবে। তাঁরা যদি বলেন, কাজ নি¤œমানের হয়েছে তাহলে ঠিকাদারকে পুরো কাজ নতুন করে করতে হবে। ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্তও করা হবে।’
এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলামকে ফোন দিলেও তিনি ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য জানা যায় নি।
দোয়ারাবাজারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন,‘স্যার সড়কের কাজ নি¤œমানের হয়েছে জানিয়ে বলেছেন, উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি কমিটি তদন্ত করবে এবং তারা যদি এই কাজ আবার নতুন করে করার জন্য নির্দেশনা দেন, সেটিই করতে হবে। কাজ আপাতত বন্ধ এবং তদারককারী প্রকৌশলী রমজান আলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও তাৎক্ষণিক জানান তিনি।’
উল্লেখ্য, ছাতক-দোয়ারাবাজারের ১৪ কিলোমিটার সড়কের ১১ কিলোমিটারেই নি¤œমানের কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এই সড়কটিতে ১০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এই সংবাদটি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত হয় এবং পরদিন এ নিয়ে সম্পাদকীয় মন্তব্য প্রকাশ করা হয়।
গত বছরের অক্টোবর মাসে কাজ শুরু করেন সিলেটের ঠিকাদার ইউনুস এ- ব্রাদার্সের সুহেল মিয়া। একটি ছোট সেতুসহ এই কাজে ১০ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ছিল। ইতিমধ্যে সড়কের বেশিরভাগ কাজ ও সড়কের কারাইলগাঁও গ্রামের ছোট সেতুর কাজ শেষ করেছেন ঠিকাদার। সম্প্রতি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দোয়ারাবাজারের নৈনগাঁওয়ের পাশে কাজ করা শুরু করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী কাজের মান দেখে ক্ষুব্ধ হন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান।
Í