- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

যেন বাউল করিম এসেছিলেন…

সজীব দে
নাটকের এক পর্যায়ে বাউল করিমকে তাঁর স্ত্রী সরলা প্রশ্ন করছেন কি করে জানা যাবে ভালো করে জগৎ সংসার? উত্তরে করিম বললেন, জানতে চাও সরলা! মানুষকে জানতে হলে যে মিশতে হবে মানুষের সাথে।’ সারাজীবন মানুষকে জানতেই ব্যয় করে যান করিম। কিন্তু সেই করিমের ইহলোক ত্যাগের পর জানাজায় বাধ সাধলেন কিছু ধর্মান্ধরা। বললেন, ‘সারা জীবন নামাজ রোজা পড়ে নাই, কি রূপে পড়াই তার    জানাজা।’ জীবনে প্রতিটি পর্যায়ে এরকম বাধা বিপত্তি অতিক্রম করতে হয়েছে করিমকে। এমনকি মৃত্যুর পরেও।   
এই সময় আবার বাউল আবদুর রহমান হইলোক ত্যাগকারী গুরু করিমকে বুকে জড়িয়ে ধরে গাইছেন ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু, ছেড়ে যাবে যদি’।
হইলোক ত্যাগের খবর শুনে ভক্ত শিষ্যদের সমাগম হয়েছে। যেদিকে চাওয়া যায়, সে দিকেই মানুষ। শুধু মানুষ আর মানুষ। সময়ের সাথে সাথে মানুষও বাড়তে থাকে মসজিদে। অবস্থা দেখে মুয়াজ্জিন সাহেব বললেন, ‘ভাইসাব, জানাজায় সবাইকে ধরবে না এক কাতারে। দুইবার হবে তার জানাজা।’
অসাধারণ একটি পরিবেশনায় মনে হচ্ছিল সত্যিই কি আজ বাউল করিম এসেছিলেন।  
সংকীর্ণমনা আর ধর্মান্ধতার একটি ঘটনা দেখা যায় করিমের শিষ্য সুনন্দ গোসাই এর মৃত্যুর পরেও। শিষ্যত্ব গ্রহণ করার পর করিমের বাড়ি থেকেই তিনি সাধনা করতেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তার মারা যাওয়ার পর। ধর্মান্ধ সমাজ তার শেষকৃত্যুনুষ্ঠান তো করেইনি এমনকি করতে দিতে রাজিও হয়নি। শেষ পর্যন্ত করিম তার ভক্তদের নিয়ে সুনন্দকে তুলসীতলায় সমাধি দেন।
নাটকে একে একে উঠে আসে বাউল স¤্রাটের ছেলেবেলা, শিক্ষাদীক্ষা, গানের হাতেখড়ি, সাধনকাল, দেশের দারিদ্র-দুর্দশা, সাম্প্রদায়িকতা, সংকীর্ণমনা মানুষদের কীর্তি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, শোষিত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর অদম্য সাহস, দেশাত্ববোধ, সৃষ্টকর্তার প্রতি ভালোবাসা, স্ত্রী সরলার প্রতি গভীর অনুরাগ, আপসহীনতা। শিল্পীর তুলির আঁচড়ে যেন ঘটনা সমূহ একে একে ফুঁটে উঠতে থাকে ক্যানভাসে।
বাউল শাহ আবদুল করিমের জীবন দর্শন নিয়েই রচিত ‘মহাজনের নাও’ নাটক ১৪ তম বারের মতো পরিবেশন করে নৃত্যশৈলী । নাটকটি রচনা করেছেন শাকুর মজিদ। অসাধারণ সংলাপ, গান আর অভিনয়ের মাধ্যমে করিমের জীবন ফুঁটিয়ে তোলার জন্য শিল্পীদের সকলকে অভিনন্দন।

  • [১]