বিশেষ প্রতিনিধি
শিক্ষকরা সমাজ গড়ার কারিগর। শিক্ষক সমাজকে সবাই শ্রদ্ধা করেন। কারণ শিক্ষকদের মাধ্যমেই একটি শিশুর প্রতিভার প্রাথমিক বিকাশ ঘটে। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু লম্পট শিক্ষকের কারণে শিশুরা শিক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।
তেমনি একজন শিক্ষক বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট (দ.) ইউনিয়নের মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সৈয়দ আলফাজ উদ্দিন। নিজ বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি বাদাঘাট (দ.) ইউনিয়নের ললিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ সপ্তাহে মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীর পক্ষে শাহ জামাল নামের একজন গত ২০ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের পর সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করেন উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানা গেছে। এদিকে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানী ও লিখিত অভিযোগের পর ২২ দিনের ছুটি নিয়ে বিদ্যালয় ছাড়া আছেন অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক সৈয়দ আলফাজ উদ্দিন।
তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া সুলতানা। সোমবার দুপুরে
উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া ও এসব ঘটনায় সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান তিনি। শিক্ষক কর্তৃক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানীর ঘটনাটি আইনশৃংখলা সভায় উত্থাপিত হওয়া ও ইউএনও ক্ষোভ প্রকাশের পর উপজেলা জুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন অনেকেই। মধুপুর গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণও সহকারি শিক্ষক সৈয়দ আলফাজ উদ্দিনের শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজ বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর সহকারি শিক্ষক সৈয়দ আলফাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগের বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে এধরনের অভিযোগ উঠেছিল বলেও জানিয়েছেন এলাকার লোকজন।
এ ব্যাপারে মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক সৈয়দ আলফাজ উদ্দিনের সাথে কথা বলতে ও বক্তব্য জানার জন্য তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে গত দুইদিন তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি ২২ দিনের ছুটিতে আছেন। প্রথমে তিনি ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন পরে আরো এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন,‘ প্রথমে বিষয়টি আমরা জানতাম না। প্রি প্রাইমারী শাখার এক ছাত্রী তার মাকে জানিয়েছে সৈয়দ আলফাজ উদ্দিন নাকি তাকে নির্যাতন করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি বিষয়টি স্কুলেই শেষ করতে। পরে অভিযোগ হওয়ায় তদন্ত হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আমি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আলফাজ উদ্দিন পৃথকভাবে জবাব দিয়েছি। সৈয়দ আলফাজ উদ্দিন বর্তমানে ২২ দিনের ছুটিতে আছেন। পরে আমরা শুনেছি উনি যে স্কুলে আগে ছিলেন সেখানেও তার বিরুদ্ধে এধরণের অভিযোগ ছিল। সেখান থেকে তাকে বদলী করা হয়েছে। ’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন,‘ স্কুলের শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি ৫/৭ দিন পর আমরা জেনেছি। ঘটনাটি সত্য কি মিথ্যা তা আমরা জানি না। জানার পরপরই তাৎক্ষণিভাবে সৈয়দ আলফাজ উদ্দিনের কাছে জানতে চেয়েছি এবং স্কুলে আসতে নিষেধ করেছি। বলেছি এই ধরনের শিক্ষকের আমাদের স্কুলে আসার প্রয়োজন নেই। কর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন। আগের স্কুলেও এধরনের অভিযোগ ছিল বলে পরে জেনেছি। ’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অনুকুল চন্দ্র দাস বলেন,‘ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন উনার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এখন তিনি পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া সুলতানা বলেন,‘তদন্তে অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক আলফাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস) বিভাগে চিঠি লেখা হয়েছে। শিক্ষা অফিস তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।’
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদুল হাসান বলেন,‘ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতন বা যৌন হয়রানীর অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট আমার হাতে এসে পৌঁছেনি। বিষয়টির খোঁজ খবর নেয়া হবে।’