- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

রঙ তুলি ক্যামেরার কারিকুরি ও দুই জমিদার বাড়ি

ইকবাল কাগজী
একজন প্রোজ্জ্বল তরুণী, তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, গত ২৯ সেপ্টেম্বর,  দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর-য়ের কার্যালয়ে। পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সম্পাদক পঙ্কজ দে। আজ ১৭ অক্টোবর ২০১৭, মঙ্গলবার, আবার দেখা হলো কথা হলো সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা অটিটরিয়ামে। দেখেই বুঝলাম প্রথম দেখার দিনের ঔজ্জ্বল্য অনেকটা ঝরে গেছে। বললেন, কীছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বোধ করি কাজে টানা লেগে থাকার ধকল সয়ে সয়ে এমনটা হয়েছে। কিন্তু অসুস্থতা তাঁর কর্তব্যের প্রতি সযতœ প্রয়াশ ও অফুরন্ত উদ্যমকে একটুকুও কমিয়ে দিতে পারেনি। আমাকে সময় দিলেন ঠিকই এবং আলাপচারিতায় ছিলেন সপ্রতিভ ও আন্তরিক। তিনি সাদিয়া মিজান। উড়ন্ত আর্টস কমিউনিটির কর্ণধার, থুড়ি কিউরেটার বা প্রজেক্ট ডিরেক্টর। তাঁর সঙ্গে এসেছেন আরও দুই তরুণ শামীম জামান ও শাহরিয়ার। তাঁদের সঙ্গে আছেন বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত আরও অনেকে, সকলে মিলে বেশ ডাঙ্গর একটা দল।  
সুনামগঞ্জ এসেছেন বিশেষ একটি কাজে। কাজটা সত্যি একটু অন্যরকমের। এ দেশে সচরাচর এমন কাজ হয় না। অন্তত সুনামগঞ্জে এমন কাজ হয়েছে বলে শুনিনি। তিনি তাঁর দলবল আর লটবহর নিয়ে সুনামগঞ্জের দুইটি জমিদার বাড়িতে যাবেন আর সেখানে নাগাড়ে বেশ কদিন থেকে পূর্বনির্দিষ্ট কাজগুলো একে একে করবেন। তারপর সুনামগঞ্জ থেকে ছুটি। এর আগে তাঁরা কাজ করেছেন কুষ্টিয়া, কিশোরগঞ্জ, সাতক্ষিরা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের পাঁট পাঁচটি বাড়িতে। সুনামগঞ্জে করবেন দুইটিতে। সবেতে মিলে হবে সাতটি।        কাজটা সত্যি অন্যরকমের অর্থাৎ সব দিকের বিবেচনায় ব্যতিক্রমী কাজ। পেইন্টিং, ইন্সটোলেশন, ফটোগ্রাফি, ড্রয়িং, র্পাফরম্স্, ল্যান্ড আর্টস, নেচার আর্টস, কবিতা ইত্যাদি। সবকটিই শিল্পসংক্রান্ত। সত্যি ভাবা যায় না, ঢাকা থেকে এসে তরতাজা তরুণ তরুণীরা সব এখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে, এমনকি আছে কিশোর-কিশোরী ছোট ছোট বাচ্চারাও,  একাকার হয়ে গিয়ে সহজিয়া সবুজের চাদর বিছানো গ্রামে বসে কেউ ছবি আঁকছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ কবিতা পড়ছে।     
সুনামগঞ্জের দুই প্রাচীন জমিদার বাড়ি। একটি সুনামগঞ্জ শহরের অদূরে গৌরারঙ্গ ইউনিয়নের গৌরারঙ্গ জমিদার বাড়ি ও অন্যটি সুনামগঞ্জ সদর থেকে বেশ দূরে ধর্মপাশার সাগর সমান হাওরের মধ্যখানে সুখাইড় জমিদারবাড়ি। এই দুই বাড়িতে কাজ করে সাদিয়া ফিরেছেন তার দলবল লটবহর নিয়ে সুনামগঞ্জ সদরে। আজ,  ১৭ অক্টোবর, হাসন রাজা অডিটরিয়ামে তাঁদের কাজের প্রদর্শনী। জেলা প্রশাসক মো. সাদিরুল ইসলাম বিকেল ৪টা পেরোতে না পেরোতেই ফিতে কেটে প্রবেশ করলেন প্রদর্শনীতে, সঙ্গে ছিলেন সুনামগঞ্জের প্রবীণ নারীনেত্রী শীলা রায়। ভেতরে ছবিতে ছবিতে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে ঘরের দেওয়াল। জমিদার বাড়ি দুটির বিভিন্ন দৃশ্য চিত্রীর ক্যামেরাবন্দি হয়ে সেগুলো শেষ পর্যন্ত ছবি হয়ে আসলে দর্শকের কাছে একধরনের ইতিহাসের আন্তরিক পাঠ হয়ে উঠেছে । তার সঙ্গে আছে বেশ কীছু আঁকা ছবি। একদিকে আছে জমিদার বাড়ি নিয়ে শিশু-কিশোরদের অপটু হাতের আঁকা সুন্দর ছবি ও লেখা। লোকেলোকারণ্য না হলেও বেশ জমজমাট ও একধরণের পরিশীলিত রুচির ঝলমলানো আলো ছিল ছিমছাম প্রদর্শনীকে ঘিরে। আর ছিল দুই জমিদার বাড়ির ইতিহাস-ঐতিহ্যের ভাঙাবিবর্ণ টুকরাটাকরা নিয়ে দুই দুইটি বেশ চমৎকার তথ্যচিত্র। সব কিছু মিলিয়ে একবারে মন্দ না।
সাদিয়া বললেন, তাঁদের এই কর্মপ্রয়াসের লক্ষ্য, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে শিল্পের মাধ্যমে অর্থাৎ রঙ, তুলির কারিকুরি ও ক্যামেরার ক্লিক দিয়ে দলিলায়ন করা এবং প্রকৃতির সৃষ্ট অপরূপ শিল্প শ্যালমসুন্দর গ্রামের অন্তরে শিল্পের গুরুত্ব ও চর্চার অপরিহার্যতা সম্পর্কে ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া।      

  • [১]