জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে রথযাত্রা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষে থানার ওসিসহ ১০ জন আহত হয়েছে। গুরতর আহত ১ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকাল ৬ টায় এই ঘটনা ঘটে।
গত কয়েকদিন ধরেই রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে জগন্নাথপুরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। প্রতি বছরের ন্যায় জগন্নাথপুর গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জগন্নাথবিগ্রহ ও বাসুদেব বিগ্রহ নিয়ে সার্বজনীন রথযাত্রা উৎসবের প্রস্তুতি নেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবানামৃত সংঘ ইসকনের অঙ্গসহযোগী সংগঠন বাসুদেব নামহট্ট সংঘের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো রথযাত্রা উদযাপনের পৃথক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। স্থানীয় প্রশাসন দুই পক্ষের সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। সর্বশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান’র উপস্থিতিতে প্রশাসন উভয়পক্ষকে রথযাত্রার জন্য পৃথক স্থান ও সময়সূচী নির্ধারণ করে দেয়। মঙ্গলবার রাতে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পৃথক পৃথকভাবে উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকও করেন।
বিকাল ৪ টায় সার্বজনীন রথযাত্রার উৎসব শেষে স্থানীয় বাসুদেব বাড়ীতে রথ নিয়ে যাওয়ার পথে নামহট্টের রথ একই পথ দিয়ে বের হতেই উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সার্বজনীন রথযাত্রা বাসুদেব মন্দিরে রাখা হলে নামহট্টের রথ বের হয়। এক পর্যায়ে পথেই দুই পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে জগন্নাথপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মুরসালিনসহ ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে দিবাকর পাল নামে একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অন্য আহতদের মধ্যে ধীরেন গোপ, দিবরাজ আচার্য্য, মিন্টু দেব, সন্তোষ দে কে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানাা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুরসালিন জানান,‘পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’