স্টাফ রিপোর্টার
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক রনেন্দ্র তালুকদার পিংকু ও তাঁর সম্পাদিত বই নিয়ে সুনামগঞ্জের সাংবাদকর্মীদের আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে শহরের পুরাতন বাসষ্টেশন এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে এই আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। যিনি এই পেশায় যুক্ত থাকেন তিনিও সম্মানী ব্যক্তি। এই মহান পেশার দায়িত্ব পালনকালে অমর্যাদা করা যাবে না। কোনো কারণে কোনো সংবাদকর্মীর যেন বদনাম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আমিও আইনজীবীর দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের সময়ে অনেক কষ্টে সাংবাদিকতা করতে হয়েছে। সাংবাদিকের সংখ্যাও হাতে গুণা ছিল। কিন্তু কোনো বদনাম হয় নি। বর্তমান সময়ে অনেকটা সহজ হয়েছে সাংবাদিকতা। এখন সাংবাদিকের সংখ্যাও বেড়েছে। মনে রাখতে হবে সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির উন্নয়নে। একজন সাংবাদিকের লেখনির মাধ্যমে সমাজের আড়ালে থাকা অসংগতিগুলো তুলে ধরে উন্নত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা ।
তিনি বলেন, আজ রনেন্দ্র তালুকদার পিংকু বিদেশ গিয়েও আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ভুলতে পারেন না। শত ব্যস্ততার মাঝেও সপ্তাহে একবার হলেও ফোনে যোগাযোগ রাখেন। দেশে এসেও সাংবাদিকদের নিয়ে চিন্তা করেন। দেশে না এসেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। একাধিক বই প্রকাশের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো ধরে রাখছেন। গুণী ব্যক্তিদের নিয়েও স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করছেন। এসব কার্যক্রমে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করছেন, শ্রমও দিচ্ছেন। রনেন্দ্র তালুকদার পিংকুকে ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে তাঁর কৃতকর্মে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আজকের দিনের পাঠকেরা চান অনুসন্ধানী সংবাদ। যে সংবাদে সমাজের অসংগতি, দুর্যোগ, মানুষের জীবনজীবীকা প্রভৃতি উঠে আসে। এই রকমের রিপোর্ট প্রকাশে একজন সাংবাদিকের সম্মান ও পরিচিতি প্রকাশ পায়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক রনেন্দ্র তালুকদার পিংকু বলেন, একটি স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করেই আমার সাংবাদিকতা শুরু, তখন থেকেই অনেক সাংবাদিকের সাথে পরিচয়। দেশ ছেড়ে সুদুর আমেরিকায় গিয়েও কাউকে ভুলতে পারি না। সুযোগ পেলেই সাংবাদিকদের খবর নিই। আমার সাংবাদিকতায় আমি বেঁচে থাকতে চাই মানুষের কল্যাণে।
অনুষ্ঠানে তিন সদস্য মনোনীত করে ‘সুনামগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামের একটি সংগঠন গঠন করা হয়। পরে প্রথম অনুদান হিসাবে সংগঠনকে ১ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন রনেন্দ্র তালুকদার পিংকু। এ সময় স্থানীয় সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহও সংগঠনের তহবিলকে সমৃদ্ধ করার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সুনামকণ্ঠ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সাংবাদিক রওনক আহমদ, সুনামগঞ্জের সময়ের সম্পাদক সেলিম আহমদ তালুকদার, সাংবাদিক ও গল্পকার আকরাম উদ্দিন, সময় টিভি’র জেলা প্রতিনিধি হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, আনোয়ার হোসেন, আল হেলাল, মানব চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কালের কণ্ঠ’এর জেলা প্রতিনিধি শামস শামীম।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সংবাদ কর্মীদের মাঝে রনেন্দ্র তালুকদার পিংকু’র প্রকাশিত গ্রন্থ উপহার দেয়া হয়। পরে নৈশভোজে অংশ নেন সকলে।