- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

রমজান মাসের ফজিলত ও কর্তব্য

শায়খ মাওলানা আনওয়ার হোসাইন
(পূর্ব প্রকাশের পর)
উক্ত হাদীসে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চারটি জিনিসের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। কালেমা, এস্তেগফার, বেহেশত কামনা, দোযখ হতে মুক্তির প্রার্থনা। কাজেই যতটুকু সম্ভব এগুলির প্রতি আমল করাকে সৌভাগ্য মনে করবে। এতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নতের প্রতি মর্যাদা দেওয়া হবে। দুনিয়ার কাজ কর্মে লিপ্ত থেকে মুখে দুরুদ শরীফ ও কালেমা পড়া যায়। তবেই তো কাল ময়দানে হাশরে বলা চলবে।
যদিও আমি যমানার অত্যাচারে ছিলাম জর্জরিত
মুহূর্তের তরে তবুও তোমায় হে আল্লাহ ভুলিনিতো
তারপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মাসের কিছু বিশেষত্ব ও আদব বর্ণনা করেন। প্রথমত ইহা  ছবর ও ধৈর্যের মাস অর্থাৎ কিছুটা কষ্ট অনুভব হলেও আনন্দ সহকারে ইহাকে করবে, অনেকেই গ্রীষ্মকালে রমজানে অধৈর্য হয়ে মারধর শোরগোল করে থাকে। আবার অনেকেই কোন কারণে সাহরী খেতে না পারলে সকাল হতেই হা পিত্যেশ করতে থাকে। এভাবে তারাবীর কষ্টকেও সন্তুষ্টচিত্তে বরণ করে নিবে। ইহাকে মুছিবত মনে না করি। আমরা পার্থিব সাধারণ স্বার্থের জন্য খানা-পিনা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য সবকিছু বিসর্জন দিয়ে থাকি। তবে কি মাওলার রেজামন্দির মোকাবিলায় এসবের কোন তুলনা হতে পারে?
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ইহা সহানুভূতির মাস। অর্থাৎ গরীব দু:খীদের প্রতি বিনয়ী হবে এবং নরম ব্যবহার করবে। নিজের ইফতারের জন্য দশটা জিনিস তৈরী করা হলে তাদের জন্য কমপক্ষে চারটার ব্যবস্থা করবে। বরং আমাদের জন্য উচিত তাদের জন্য নিজেদের চেয়েও ভাল জিনিসের ব্যবস্থা করা।
রমজান মাসে পাঁচটি পুরস্কার ঃ
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে আমার উম্মতকে পাঁচটি বস্তু দেওয়া হয়েছে যা পূর্ববর্তী উম্মতগণকে দেওয়া হয় নাই।
১. রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আমার নিকট মৃগনাভী হতেও বেশী পছন্দনীয়।
২. সমুদ্রের মৎসও রোজাদারের জন্য ইফতার পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে।
৩. বেহেশত প্রতিদিন তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয় এবং আল্লাহপাক বলেন, বান্দাগণ দুনিয়ার ক্লেশ যাতনা দূরে নিক্ষেপ করে অতি শীঘ্র্রই তোমার নিকট আসিতেছে।
৪. রমজানে দুর্বৃত্ত শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। যার দরুণ সে ঐসব পাপ করাতে পারে না, যা অন্য মাসে করানো সম্ভব।
৫. রমজানের শেষ রাতে রোজাদারের গোনাহ মা’ফ হয়ে যায়। ছাহাবারা আরজ করলেন, এই ক্ষমা কি শবে ক্বদরে হয়ে থাকে? হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন না, বরং নিয়ম হল, মজদুর কাজ শেষ করবার পরই মজদুরী পেয়ে থাকে। (চলবে)

  • [১]