শায়খ মাওলানা আনওয়ার হোসাইন
(পূর্ব প্রকাশের পর)
দুই ঃ জবানের হেফাজত করা, মিথ্যা, চোগলখুরী, বাজে কথা, গীবত, শেকায়েত, কটুবাক্য ইত্যাদি হতে জিহ্বাকে সংযত রাখবে। বোখারী শরীফে বর্ণিত আছে, রোজা মানুষের জন্য ঢাল স্বরুপ। কাজেই আজে বাজে কথা হতে জবানকে বিরত রাখবে। কেহ ঝগড়া করলে প্রতুত্তরে বলবে আমি রোজাদার, সে তাতেও ক্ষান্ত না হলে আপন মনকে প্রবোধ দিবে আমিতো রোজাদার। কটু কথা বলা আমার শোভা পায় না। হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামানায় দুইটি মেয়ে লোক রোজা রেখে ক্ষধায় কাতর হয়ে পড়ে। তাদেরকে মৃত্যুপ্রায় দেখে ছাহাবাগণ হুজুরের খেদমতে তাদাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট একটি পেয়ালা পাঠিয়ে বললেন, তারা
যেন এতে বমি করে। বমি করার পর দেখা গেল এতে গোশতের টুকরা ও তাজা রক্ত রয়েছে। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারণ দর্শিয়ে বললেন, এরা হালাল রুজী দ্বারা রোজা রেখেছে সত্য, কিন্তু গীবত করে হারাম ভক্ষণ করেছে। তাই তাদের এদূরাবস্থা হয়েছে। অভিজ্ঞতায়ও দেখা যায় রোজায় মুত্তকিনদের কোন কষ্ট হয় না আর ফাছেকগণ বড় কষ্ট পায়। আল্লাহ পাক গীবতকে আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সমতুল্য বলিয়াছেন। এক সময় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন লোককে দাঁত খেলাল করতে বললেন। তারা বলল আমরাতো আজ গোশত খাই নাই। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললে, অমুকের গোশত তোমাদের দাঁতে বিদ্ধ রয়েছে। জানা গেল তারা সে ব্যক্তির নিন্দা করেছিল। আল্লাহ পাক সবাইকে হেফাজত করুন। সাধারণ লোক ছাড়াও যারা পরহেজগার বলে গণ্য তাদের মজলিসও গীবত হতে খালি থাকে না। উপরন্তু তারা এটাকে গীবতও মনে করে না বরং এটাকে ঘটনার বর্ণনা বলে চাপা দেন।
তৃতীয় ঃ কর্ণের হেফাজত। ঐসব অপ্রিয় বস্তু যা মুখে উচ্চারণ করা নাজায়েজ, এটার প্রতি কর্ণপাত করাও নাজায়েজ। হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, গীবতকারী ও শ্রোতা উভয়ই পাপের মধ্যে শামিল।